প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিনিধি
মৌনী মানে নীরবতা। যারা এই দিনে একটি ব্রত পালন করেন, তারা একটি শব্দও করেন না। এই কারণেই এই অমাবস্যা কে মৌনী অমাবস্যা বলা হয়। হিন্দু ধর্মে মাঘ মাসকে তপস্যা এবং আধ্যাত্মিক জাগরণের জন্য আদর্শ মাস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কথিত আছে, মৌনী অমাবস্যার দিনে গঙ্গার জল অমৃতে রূপান্তরিত হয়। তাই এইদিন গঙ্গাস্নানে পুণ্য লাভ হয় হাজার গুণ। এই সময় প্রয়াগরাজে চলছে মহাকুম্ভ মেলা। এই বিশেষ তিথিতে সকালে সূর্যদয়ের সময় সাগর সঙ্গমে গঙ্গাস্নান করে প্রয়াত পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করার রীতি প্রচলিত আছে।
কেন বলা হয় মৌনী অমাবস্যা?
ঋষি মনু এই তিথিতে জন্মেছিলেন বলে এই দিনের নাম মৌনী অমাবস্যা। আবার অনেকের মতে, এই তিথিতে মৌনব্রত পালন করলে অশুভ শক্তির বিনাশ হয় বলে তিথির নাম হয়েছে মৌনী অমাবস্যা। আবার জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী মনের দেবতা চন্দ্রদেব। মাঘী অমাবস্যার রাতে আকাশে চন্দ্রদেবকে দেখা যায় না। অন্য অমাবস্যার তুলনায় এই অমাবস্যার রাত অনেক বেশি ঘন কালো হয়। তাই মানুষের মন বিচলিত ও অশান্ত হয়ে ওঠে। মনকে শান্ত করার জন্যই মৌনব্রত পালন করা হয়।
এইদিনের বিশেষ রীতি:
১.এইদিন সন্ধ্যায় অশ্বত্থ গাছের নীচে প্রদীপ জ্বালাতে পারেন।
২.দরিদ্রকে কালো বস্ত্র, কালো তিল, গোটা সবুজ মুগ দান করতে পারেন।
৩.গঙ্গা বা কোনও নদীর জলে স্নান করে দিন শুরু করলে খুবই শুভ।
৪.গরুর দুধ, মাসকলাই, তিলের তেল, তিলের নাড়ু দান করতে পারেন।
৫.সূর্যদেব কে তামার ঘটিতে করে দুধ আর কালো তিলের অর্ঘ্য অর্পণ করলে মনের সব ইচ্ছেপূরণ হয়।
এবছর (২০২৫) মৌনী অমাবস্যা কবে?
মঙ্গলবার ২৮ জানুয়ারি ০৭ টা ৩৫ মিনিট থেকে মৌনী অমাবস্যার তিথি পড়ছে। এই তিথি শেষ হবে ২৯ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬ টা ০৫ মিনিটে। ফলে মৌনী অমাবস্যা ২৯ জানুয়ারি তেই পালিত হবে।
জ্যোতিষশাস্ত্র মতে মাহাত্ম্য:
এই তিথিতে মকর রাশিতে সূর্য, চন্দ্র ও বুধ একসঙ্গে উপস্থিত থাকবে। যার প্রভাবে ত্রিবেণী যোগ তৈরি হবে। একইসঙ্গে বৃহস্পতির সঙ্গে এই তিন গ্রহের নবম পঞ্চম যোগ তৈরি হবে।