প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিনিধি
চুল রুক্ষ, নির্জীব,ডগা ফাটা? পার্লারে গিয়ে হেয়ার স্পা করাতে চান, কিন্তু সময় বা বাজেট দুটোই বাঁধা? চিন্তা নেই। নামমাত্র খরচে বাড়িতেই করে ফেলতে পারেন কার্যকর হেয়ার-স্পা। নিয়ম মেনে করলে ঘরোয়া উপায়েই চুল ফিরে পাবে নরম, উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর ভাব।
প্রথমেই বুঝে নিন, হেয়ার-স্পা মানে শুধু কন্ডিশনার লাগানো নয়। এটি আসলে একটি ধাপে ধাপে পরিচর্যা, স্ক্যাল্প পরিষ্কার, পুষ্টি জোগানো, ম্যাসাজ, স্টিম এবং শেষে সঠিকভাবে ধোয়া। এই পাঁচটি ধাপ ঠিকঠাক করলে বাড়িতেই পার্লারের মতো ফল পাওয়া সম্ভব।
প্রথম ধাপ:
তেল ম্যাসাজ। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল বা বাদাম তেল—যা হাতের কাছে আছে, সামান্য গরম করে নিন। চাইলে তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ভিটামিন ই ক্যাপসুল বা অল্প অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিতে পারেন। আঙুলের ডগা দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে ৮–১০ মিনিট স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন। এতে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, চুলের গোড়া শক্ত হয় এবং শুষ্কতা কমে। অন্তত ৩০ মিনিট তেলটি মাথায় রাখুন।
দ্বিতীয় ধাপ:
মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোয়া। খুব কড়া কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার না করাই ভালো। কুসুম গরম জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। তেল পুরোপুরি তুলতে প্রয়োজনে দু’বার শ্যাম্পু করতে পারেন, তবে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করবেন না।
তৃতীয় ধাপ:
হেয়ার মাস্ক। বাড়িতেই সহজে বানানো যায় কার্যকর মাস্ক। যেমন—ডিম ও দইয়ের মিশ্রণ প্রোটিনের জোগান দেয়, কলা ও মধু শুষ্ক চুলে আর্দ্রতা আনে, আবার মেথি ভিজিয়ে বেটে নিলে তা চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। যাদের খুশকির সমস্যা আছে, তারা দইয়ের সঙ্গে অল্প লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। মাস্ক চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে ২০–৩০ মিনিট রেখে দিন।
চতুর্থ ধাপ:
স্টিম। পার্লারে যেমন স্টিম মেশিন থাকে, বাড়িতে তার বদলে গরম জলে ভেজানো তোয়ালে ব্যবহার করতে পারেন। তোয়ালেটি নিংড়ে মাথায় পেঁচিয়ে ১০–১৫ মিনিট রাখুন। এতে চুলের কিউটিকল খুলে যায় এবং মাস্কের পুষ্টি গভীরে পৌঁছায়।
পঞ্চম ধাপ:
চূড়ান্ত ধোয়া ও কন্ডিশনিং। হালকা শ্যাম্পু দিয়ে মাস্ক ধুয়ে ফেলুন। প্রয়োজনে অল্প কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন, তবে স্ক্যাল্পে নয়—শুধু চুলের দৈর্ঘ্যে লাগান। শেষে ঠান্ডা জল দিয়ে চুল ধুলে উজ্জ্বলতা বাড়ে।
হেয়ার-স্পা করার সময় কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। সপ্তাহে একবারের বেশি করার দরকার নেই। অতিরিক্ত তেল বা মাস্ক ব্যবহারে উল্টো চুল ভারী ও তেলতেলে হয়ে যেতে পারে। চুল ভেজা অবস্থায় জোরে আঁচড়াবেন না। প্রাকৃতিকভাবে শুকোতে দিন, খুব প্রয়োজন না হলে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
খরচের দিক থেকেও এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী। বাড়ির রান্নাঘরে থাকা উপকরণ দিয়েই হয়ে যায় অধিকাংশ পরিচর্যা। নিয়মিত যত্ন নিলে চুলের টেক্সচার উন্নত হয়, ফ্রিজ় কমে এবং চুলে স্বাভাবিক জেল্লা ফিরে আসে। সুতরাং, পার্লারের পেছনে বড় অঙ্কের টাকা খরচ না করে সামান্য সময় ও যত্ন দিলেই বাড়িতেই সম্ভব কার্যকর হেয়ার-স্পা। সুন্দর, স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য দরকার নিয়মিত পরিচর্যা, আর সেই শুরুটা আজই করে ফেলুন নিজের বাড়িতে।