প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিনিধি
ষষ্ঠী তিথি পালনের মূল উদ্দেশ্য হল সন্তানের মঙ্গল কামনা। জৈষ্ঠ্য মাসে জামাই ষষ্ঠী, শ্রাবণ মাসে লুন্ঠন ষষ্ঠী, ভাদ্র মাসে চাপড়া ষষ্ঠী, আশ্বিনমাসে দুর্গা ষষ্ঠী, অঘ্রাণ মাসে মূলাষষ্ঠী, পৌষ মাসে পাটাই ষষ্ঠী, মাঘ মাসে শীতলষষ্ঠী, চৈত্র মাসে অশোকষষ্ঠী। প্রতিমাসের ষষ্ঠী ব্রতের আচার এবং নিয়ম পৃথক। মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিকে বলা হয় শীতল ষষ্ঠী। গোটা সেদ্ধ হয় বলে একে গোটা ষষ্ঠী এবং শিল নোড়া কে সন্তান রূপে পুজো করা হয় বলে শিল ষষ্ঠী ও বলে। উপাচারের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কচি বাঁশপাতা, জোড়া কলা, ২১টি সজনে ফুল, তালপাতার পাখা এবং আল্পনার জন্য আতপ চালের পিটুলি। ভোরে স্নান সেরে উঠোনে শিল রেখে পিটুলি দিয়ে ষাইটমূর্তির আল্পনা এঁকে নোড়ার কোলে বাঁশপাতা, জোড়া কলা ও সজনে ফুল দিতে হয়। এবার তেল হলুদ সিঁদুরের ফোঁটা দিয়ে নতুন গামছা এরপরে তালপাতার পাখা দিয়ে শিলটিকে বাতাস করতে হয়।
অনেক বাড়িতে শিলপাটায় কুচি দিয়ে শাড়ি পরিয়ে চোখ মুখ এঁকে দেওয়া হয়। একধারে এমন ভাবে নোড়াটিকে রাখা হয়, যাতে মনে মায়ের কোলে সন্তান শুয়ে রয়েছে। তারপর তাতে হলুদ ও দুধের ফোঁটা দিয়ে সেই ফোঁটা বাড়ির বাকিদের কপালেও পড়ানো হয়। কোথাও আবার শিলের ওপর রাখা হয় মরশুমী ফল, সবজি, আখের টুকড়োয় গাঁথা দুটি কড়ি। শিলটিকে লালপাড়, সাদা কোরা কাপড়ে মুড়ে তাতে ছোট মাটির কড় বা লাল রুলি, সিঁদুরপাতা দেওয়া হয়। সন্তানবতী মায়েরা তাতে একটু করে গঙ্গাজল দিয়ে প্রণাম করেন।
আর শীতল ষষ্ঠীর ভোগ বলতে থাকে গোটা সেদ্ধ আর কুলের অম্বল। গোটা সেদ্ধর মূল উপকরণ হলো গোটা মুগ, গোটা শিম, গোটা আলু , রাঙা আলু, ছোট বেগুন, খোসাসহ কড়াইশুঁটি ও শীষওয়ালা পালংশাক। গোবর দিয়ে মাটির উনুন লেপে তেল সিঁদুর, ধূপ ধূনো ও ফল মিষ্টি দিয়ে পুজো করে বড় হাঁড়িতে রাঁধা হয়। সমস্ত রকম সবজি, নুন দিয়ে সেদ্ধ করে খাওয়ার সময় ওপরে সরষের তেল আর কাঁচালঙ্কা কুচি ছড়িয়ে দেন। অনেকে এর মধ্যে গোটা মশলা বা ভাজা মশলা দেন তবে বেশিরভাগ বাড়িতেই কোনপ্রকার মশলা ছাড়াই তৈরী হয় এই ভোগ। অনেক বাড়িতে আবার দেওয়া হয় আদা বাটা, নুন, হলুদ আর লঙ্কা। পরদিন আগুন জ্বালতে নেই। আগের দিনের রান্নাই ঠান্ডা করে সারাদিন খেতে হয় বলেই গোটা ষষ্ঠীর আরেক নাম শীতল ষষ্ঠী।
তবেই শুধুই নিয়ম তো নয়! এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও রয়েছে। এইসময় মরসুম বদলের জন্য, অনেকেই ঠান্ডা গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মরসুমি সবজিতে ভরপুর এই গোটা সেদ্ধ খেলে, জীবাণু সংক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।
গোটা সেদ্ধ বানাতে কী কী লাগবে:
৫টি খোসাসহ নতুন আলু, ৫টি রাঙা আলু, ৫টি ছোট বেগুন, ৫টি গোড়াসহ শিষ পালং শাক, ৫টি শিম, ৫টি খোসাসহ মটরশুঁটি, ৩০০ গ্রাম সবুজ মুগ কড়াই, পরিমাণমতো সর্ষের তেল, ১ টেবিল চামচ আদা বাটা, ১ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো, ২ চা চামচ পাঁচফোড়ন, নুন
কীভাবে বানাবেন
সব সবজি ভাল করে ধুয়ে নিন। খোসা ছাড়াবেন না বা কেটে টুকরো করবেন না। এরপর হাঁড়িতে তেল গরম করে পাঁচফোড়ন দিয়ে একে একে সব সবজি দিয়ে নেড়েচেড়ে আদা বাটা দিন। সবুজ মুগ কড়াই এবং শিষ পালং দিন। কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে আন্দাজ মতো নুন, হলুদ আর গরম জল দিয়ে ঢেকে অল্প আঁচে রান্না করুন। সবজিগুলি সেদ্ধ হলে, জল শুকিয়ে মিশ্রণটি কিছুটা মাখা মাখা হয়ে এলে আঁচ নিভিয়ে দিন।পরিবেশনের সময় ওপরে সরষের তেল আর কাঁচালঙ্কা কুচি ছড়িয়ে দেবেন।
পুজোর সময়:
৩ ফেব্রুয়ারি, সোমবার সকাল ৯টা ৫৭ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড থেকে বাংলা ২১ মাঘ, ইংরেজি ৪ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার, সকাল ৭টা ৩৬ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড পর্যন্ত।