ভ্রমণ
নিজস্ব প্রতিনিধি
ভারতের প্রাচীনতম শহরগুলোর মধ্যে বারাণসী অন্যতম, যা কাশী নামেও পরিচিত। এটি গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, এর ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের জন্যও বারাণসী বিশ্বব্যাপী প্রসিদ্ধ। কলকাতা থেকে বারাণসী ভ্রমণ শুরু করতে পারেন ট্রেন/বিমান যাত্রার মাধ্যমে। শহরে পৌঁছে প্রথমেই গঙ্গার তীরে অবস্থিত বিখ্যাত ঘাটগুলো পরিদর্শন করে নিতে পারেন।
বারাণসীর দর্শনীয় স্থান:
১. দশশ্বমেধ ঘাট: গঙ্গার তীরে অবস্থিত এই ঘাট বারাণসীর প্রাণকেন্দ্র। সন্ধ্যার সময় এখানে অনুষ্ঠিত "গঙ্গা আরতি" অসাধারণ এক দৃশ্য। শত শত দীপের আলো ও ভক্তিমূলক সংগীত এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি করে।
2. কাশী বিশ্বনাথ মন্দির: শিব ভক্তদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্দির। এর স্থাপত্যশৈলী ও ধর্মীয় আবহ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
3. সারনাথ: বুদ্ধধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি একটি পবিত্র স্থান, যেখানে গৌতম বুদ্ধ প্রথম ধর্মদেশনা দিয়েছিলেন। এখানে ধামেক স্তূপ, জাপানি মন্দির এবং প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর রয়েছে।
4. মণিকর্ণিকা ঘাট: এটি বারাণসীর অন্যতম বিখ্যাত শ্মশানঘাট। এটি জীবন ও মৃত্যুর এক অনন্য প্রতিচ্ছবি বহন করে।
5. রামনগর দুর্গ: এটি গঙ্গার তীরে অবস্থিত একটি প্রাচীন রাজপ্রাসাদ, যেখানে রাজপরিবারের ইতিহাস ও অস্ত্রশস্ত্রের জাদুঘর রয়েছে।
বারাণসীর বিখ্যাত খাবার ও সংস্কৃতি
বারাণসী শুধু তার মন্দির, ঘাট ও সংস্কৃতির জন্যই বিখ্যাত নয়, এখানকার খাবারও ভোজনরসিকদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য। চলুন দেখে নেওয়া যাক বারাণসীর কিছু জনপ্রিয় খাবার।
১. কচৌড়ি ও জলেবি
সকালের জলখাবারের জন্য বারাণসীর কচৌড়ি খুবই জনপ্রিয়। এটি ডালের পুর দেওয়া মচমচে পরোটা, যা আলুর তরকারি ও টক-মিষ্টি চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। সঙ্গে যদি থাকে গরম গরম জলেবি, তাহলে স্বাদের কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
২. বানারসি পান
বারাণসীর পান ভারতের অন্যতম বিখ্যাত পান। সুগন্ধি মসলা, গোলাপের পাতা ও বিশেষ চুনের মিশ্রণে তৈরি এই পান স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদেরও দারুণ আকর্ষণ করে।
৩. মালাইয়ো
শীতের বিশেষ মিষ্টান্ন মালাইয়ো বা নিমিষ একেবারে তুলোর মতো হালকা ও সুস্বাদু। এটি দুধ ফেটিয়ে তৈরি করা হয় এবং এর ওপর কাঠবাদাম ও পেস্তার টুকরো ছড়িয়ে পরিবেশন করা হয়।
৪. টমাটর চাট
বারাণসীর টমাটর চাট একেবারেই ব্যতিক্রমী। এটি টমাটর, আলু, দেশি মসলা ও ঘি দিয়ে তৈরি করা হয়। এটি খেতে খানিকটা টক-মিষ্টি ও ঝাল স্বাদের মিশ্রণ, যা রাস্তার ধারে ছোট দোকানগুলোতে পাওয়া যায়।
৫. চুরমুর
এই খাবারটি মূলত একধরনের ভেলপুরি বা চাট, যা পাপড়ি, আলু, ছোলা, মশলা ও মিষ্টি চাটনি দিয়ে তৈরি করা হয়। এর স্বাদ মুখে লেগে থাকার মতো!
৬. লাচ্ছা লস্যি
বারাণসীর লাচ্ছা লস্যি খুবই বিখ্যাত। এটি দই, চিনি, কেশর ও বাদাম দিয়ে তৈরি করা হয় এবং ওপরে ঘন মালাই দেওয়া হয়, যা একবার খেলে বারবার খেতে ইচ্ছে করবে।
৭. সামোসা
বারাণসীর সামোসা খুব জনপ্রিয়, যা নানা ধরনের পুর দিয়ে তৈরি করা হয়। পাশাপাশি, বাসুণ্ডি (ঘন দুধের মিষ্টান্ন) এর সঙ্গে খেলে স্বাদ আরও দ্বিগুণ হয়ে যায়।
৮. ঠাণ্ডাই ও ভাং ঠাণ্ডাই
গরমের দিনে ঠাণ্ডাই একদম অমৃতসম। এটি দুধ, বাদাম, কেশর ও মশলা দিয়ে তৈরি করা হয়। বিশেষ করে, ভাং ঠাণ্ডাই বারাণসীর ঐতিহ্যবাহী পানীয়, যা এখানে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কারণে বেশ জনপ্রিয়।
বারাণসীর খাবার শুধু স্বাদে অনন্য নয়, এগুলোর প্রতিটিতেই শহরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির ছোঁয়া আছে। এখানকার খাবার একবার খেলে এর স্বাদ মনে গেঁথে থাকবে সারাজীবন!