প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিনিধি
ক্লোরিন গ্যাস (Cl₂) প্রথম বিশ্বযুদ্ধে একটি রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। এটি ছিল আধুনিক যুদ্ধের ইতিহাসে প্রথম বৃহৎ পরিসরে ব্যবহৃত রাসায়নিক অস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি।
ক্লোরিন গ্যাসের রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:
২২ এপ্রিল, ১৯১৫ সালে জার্মান বাহিনী বেলজিয়ামের ইপর (Ypres) শহরে প্রথমবারের মতো ক্লোরিন গ্যাস ব্যবহার করে.. এই হামলায় প্রায় ৫,০০০ সৈন্য নিহত হয় এবং হাজার হাজার আহত হয়। বাতাসে মুক্তি পাওয়ার পর ক্লোরিন গ্যাস শ্বাসযন্ত্রের সংস্পর্শে এলে এটি হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) তৈরি করে, যা ফুসফুসের টিস্যুকে ধ্বংস করে দেয়।
কীভাবে এটি কাজ করে?
ক্লোরিন গ্যাস ফুসফুসের তরলের সাথে বিক্রিয়া করে অ্যাসিড তৈরি করে, যা গুরুতর শ্বাসকষ্ট এবং অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের কারণ হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তিরা দমবন্ধ হয়ে মারা যায়, কারণ তাদের ফুসফুস পর্যাপ্ত অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে না। এটি সবুজ-হলুদ বর্ণের একটি ভারী গ্যাস, যা মাটির কাছাকাছি থেকে ছড়িয়ে পড়ে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে বিপজ্জনক থাকে।
এর প্রতিরোধের উপায়:
প্রথম দিকে, সৈন্যরা কাপড় ভিজিয়ে মুখ ঢেকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করত। পরবর্তীতে গ্যাস মাস্ক উদ্ভাবন করা হয়, যা ক্লোরিন ও অন্যান্য রাসায়নিক গ্যাসের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরক্ষা দেয়।
পরবর্তী সময়ে নিষিদ্ধকরণ:
১৯২৫ সালে, জেনেভা প্রোটোকল রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। যদিও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যাপকভাবে ক্লোরিন গ্যাস ব্যবহার হয়নি, কিন্তু কিছু দেশে এটি স্টক করা হয়েছিল। বর্তমানে, রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধ হলেও, ক্লোরিন গ্যাস শিল্পকারখানায় এবং পরিশোধন প্ল্যান্টে ব্যবহৃত হয়।