19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

চৈত্র শুল্কাষ্টমীতে দেবী অন্নপূর্ণার পুজো!

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি


অন্নপূর্ণা পুজো হল হিন্দু ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, যা দেবী অন্নপূর্ণার উপাসনার জন্য উদযাপিত হয়। দেবী অন্নপূর্ণা হলেন অন্ন ও সমৃদ্ধির দেবী, যিনি জীবনধারণের জন্য খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বোঝান।

অন্নপূর্ণা পুজোর সময় ও তারিখ

অন্নপূর্ণা পুজো সাধারণত চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে (মার্চ-এপ্রিল) পালন করা হয়। তবে কিছু জায়গায় দীপাবলির সময়ও দেবী অন্নপূর্ণার পুজো করা হয়।

পুজোর মাহাত্ম্য ও বিশ্বাস

দেবী অন্নপূর্ণা শিবের অর্ধাঙ্গিনী পার্বতীর এক রূপ। পুরাণ মতে, একবার ভগবান শিব বলেছিলেন যে জ্ঞানই সর্বোচ্চ, খাদ্য তুচ্ছ। তখন দেবী অন্নপূর্ণা ক্ষুধার্তদের জন্য অন্ন বিতরণ শুরু করেন এবং বুঝিয়ে দেন যে খাদ্য ছাড়া জীবন সম্ভব নয়। তাই, অন্নপূর্ণা দেবীর আশীর্বাদ লাভের জন্য এই পুজো করা হয়।

পুজোর নিয়ম ও প্রথা

দেবীর মূর্তি বা চিত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়।

ফল, ফুল, দুধ, চাল, ডাল ও মিষ্টান্ন নিবেদন করা হয়।

ক্ষুধার্ত ও দরিদ্রদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

অন্ন ও খাদ্যের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য উপবাস ও বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয়।

বাংলায় অন্নপূর্ণা পুজোর জনপ্রিয়তা

বাংলার কাশীখ্যাত বারাণসীতে অন্নপূর্ণা মন্দিরে বিশাল আকারে এই পুজো পালিত হয়। কলকাতা, নদিয়া, ও অন্যান্য স্থানে এই পুজোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

অন্নপূর্ণা পুজোর ইতিহাস

অন্নপূর্ণা পুজোর উৎপত্তি হিন্দু পুরাণ ও ধর্মীয় কাহিনির গভীরে নিহিত। দেবী অন্নপূর্ণাকে খাদ্য ও পুষ্টির দেবী হিসেবে পূজা করা হয়, যিনি সকল জীবের ক্ষুধা নিবারণের জন্য অন্ন দান করেন।

পুরাণ অনুযায়ী অন্নপূর্ণার কাহিনি

হিন্দু পুরাণ মতে, একবার ভগবান শিব দেবী পার্বতীকে বলেছিলেন যে এই জগতে "জ্ঞানই পরম", এবং খাদ্য বা অন্নের বিশেষ কোনো মূল্য নেই। এই কথা শুনে দেবী পার্বতী ক্ষুব্ধ হন এবং তিনি সমগ্র বিশ্ব থেকে খাদ্য সরিয়ে নেন। ফলে পৃথিবীতে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, মানুষ ও দেবতারা ক্ষুধায় কষ্ট পেতে থাকে। এই অবস্থায়, শিব স্বয়ং দেবী পার্বতীর শরণাপন্ন হন এবং বোঝেন যে অন্নই প্রকৃত শক্তি, যা ছাড়া জীবন অসম্ভব। তখন দেবী পার্বতী অন্নপূর্ণা রূপে আবির্ভূতা হন এবং পুনরায় সকলের মাঝে খাদ্য বিতরণ করেন। এই ঘটনাকে স্মরণ করেই অন্নপূর্ণা পুজো প্রচলিত হয়।

বারাণসীর অন্নপূর্ণা মন্দির

ভারতের বারাণসীতে অবস্থিত শ্রী অন্নপূর্ণা দেবী মন্দির হল দেবী অন্নপূর্ণার অন্যতম প্রধান উপাসনাস্থল। বিশ্বাস করা হয়, এখানেই দেবী প্রথম শিবকে অন্ন দান করেন। বারাণসীর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে কলকাতা, নদীয়া ও শান্তিপুরেও এই পুজো বিশেষভাবে পালিত হয়।

মধ্যযুগ ও আধুনিক সময়ে অন্নপূর্ণা পুজো

মধ্যযুগে বিভিন্ন রাজবংশ ও বৈষ্ণব আচার্যের মাধ্যমে এই পুজোর প্রচলন আরও বিস্তৃত হয়। পরবর্তী সময়ে বাংলার কৃষক সমাজ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যেও এই পুজো জনপ্রিয়তা পায়, কারণ তারা বিশ্বাস করতেন যে দেবীর কৃপায় ফসল ভালো হয় ও ব্যবসা সমৃদ্ধ হয়।

অন্নপূর্ণা পুজোর মূল বার্তা

অন্নপূর্ণা পুজো আমাদের শেখায় যে খাদ্যই জীবন, এবং এটি শুধুমাত্র ভোগের বস্তু নয়, বরং ঈশ্বরের আশীর্বাদ। তাই এই দিনে দরিদ্রদের অন্ন দান করাকে অত্যন্ত পুণ্যকর্ম হিসেবে গণ্য করা হয়।


এবছর অন্নপূর্ণা পুজো কবে?

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে -

অষ্টমী তিথি আরম্ভ–

বাংলা– ২১ চৈত্র, শুক্রবার।

ইংরেজি– ৪ এপ্রিল, শুক্রবার।

সময়– রাত ৮টা ১৪ মিনিট।

অষ্টমী তিথি শেষ –

বাংলা– ২২ চৈত্র, শনিবার।

ইংরেজি– ৫ এপ্রিল, শনিবার।

সময়– রাত ৭টা ২৭ মিনিট।

নবমী তিথি আরম্ভ–

বাংলা– ২২ চৈত্র, শনিবার।

ইংরেজি– ৫ এপ্রিল, শনিবার।

সময়– রাত ৭ টা ২৮ মিনিট

নবমী তিথি শেষ –

বাংলা– ২৩ চৈত্র, রবিবার।

ইংরেজি– ৬ এপ্রিল, রবিবার।

সময়– রাত ৭টা ২৪ মিনিট।

Archive

Most Popular