প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিনিধি
এন্ট্রান্স পরীক্ষার রেজাল্ট, কাউন্সেলিং, অ্যাডমিশন, নতুন সেশন, নতুন কোর্স- টেনশন! সত্যিই চূড়ান্ত টেনশনের সময় এটা। টেনশনের অন্যতম কারণ নতুন পরিবেশে বুলিং। সদ্য টিন-এজ প্রাপ্ত সন্তানের আগাম ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত বাবা-মায়েদের জন্য কিছু টিপস রইলো আজ।
কী এই বুলিং?
অনেকেই মনে করেন বুলি করা একটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার, এবং দীর্ঘকাল ধরে সেটা চলে আসছে। সিনিয়ররাও এটার শিকার হয়েছে, ফলে জুনিয়রদের বুলিং করে চলেছে। এমন অবস্থাই চলছে চক্রাকারে। অনেকের কাছে সিনিয়রদের সঙ্গে জুনিয়রদের সম্পর্ককে শজ করে দেয় এই সিস্টেম। কিন্তু এটাও সত্যি এই পুরো ব্যাপারটাই কখনও কখনও ভয়াবহ আকার নেয়। নৃশংসতা, নারকীয়তা মিলেমিশে এক জঘন্য অত্যাচারের শিকার হয় সদ্য কলেজে পড়তে ছেলে বা মেয়েটি। শারীরিক নির্যাতন তো বটেই, মানসিক দুর্বলতা এমনকি আত্মহত্যারও পথ বেছে নেয় অনেকে।
সাইবার বুলিং কী?
ইন্টারনেটের যুগে একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নাম এই সাইবার বুলিং। মাইক্রোসফটের একটি রিসার্চে জানা গেছে, প্রায় ৫৩ শতাংশ ছেলে-মেয়েরা সাইবার বুলিং এর শিকার হচ্ছে আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত। অপমানজনক লেখা ছবি বা ভিডিও অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা, কুরুচিপূর্ণ মেসেজ পাঠানো, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া, এইসবই সাইবার বুলিং এর অংশ।
কীভাবে যুঝতে শেখাবেন?
* আপনার সন্তানকে প্রথমেই শেখান কোনোরকম কটূক্তি বা অপমানকে পাত্তা না দিতে। কারণ, সামান্যতম পাত্তা পেলেই কিন্তু অপরপক্ষ আরও বেশি করে অপমান করার ইন্ধন পায়। তাই বলুন শান্ত এবং ভদ্রভাবে এই অপমানগুলোকে উপেক্ষা করতে।
* প্রয়োজনে বন্ধু-বান্ধব, কলেজের প্রফেসরদের সাহায্য নিতে বলুন।
* অধিকাংশ কলেজেই এখন কাউন্সেলিং বিভাগ থাকে। সেখানে গেলেও সাহায্য পেতে পারে।
* নিজের উপর কনফিডেন্স রাখতে বলুন। কোনও পরিস্থিতেই যেন ভেঙে না পড়ে সেদিকে কড়া নজর দিন।
* যাঁরা বাইরে পড়তে পাঠাচ্ছেন ছেলে-মেয়েকে, তাঁরা নিয়মিত ফোনে বা ভিডিও কলে তার খোঁজ-খবর নিন। কখনও ওকে বুঝতে দেবেন না যে সে একটা নতুন পরিবেশে একা রয়েছে।
* সতর্কতা অবশ্যই অবলম্বন করবে, তবে সঙ্গে এটাও বলুন যেন অতরিক্ত সতর্ক হয়ে না পড়ে। কারণ নতুন বন্ধু বানানোটাও প্রয়োজন, আর সিনিয়রদের সঙ্গেও বন্ধুত্ব রাখা দরকার।
* একই পরিস্থিতে অন্য কেউ পড়লে তাকে যথাসম্ভব সাহায্য করতে উৎসাহ দিন।
* সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকতে বলুন।
* আপনার সন্তান বুলিং এর শিকার হলে, কখনই তার
সমস্যাটাকে উড়িয়ে দেবেন না। সে কেন দুর্বল, কেন প্রতিবাদ করতে পারছে না, এইসব বলবেন না। সাইকোলজি বলে, যে আজ বুলি করছে, হয়তো অতীতে সেও বুলির শিকার হয়েছিল। তাই আপনার সন্তান বুলিড হলে তাকে বোঝান বুলি করাটা একটা অসুখ। বুলি করলেই 'কুল' হওয়া যায় না।