19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

ধর্ম যার যার, বড়মা সবার! নৈহাটির বড়মার ইতিহাস ও বিস্তার..

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি


নৈহাটি স্টেশন থেকে ঋষি অরবিন্দ রোড ধরে গঙ্গার দিকে হেঁটে গেলেই চোখে পড়ে এক পবিত্র, নির্ভরতার আশ্রয় বড়মা। এই বড়মা কালী, কিন্তু তিনি চেনা পৌরাণিক মূর্তির থেকেও অনেক বেশি তিনি স্থানীয় মানুষের জীবনের অংশ, আশ্রয়, প্রতিক্রিয়া ও প্রতিকার। ধর্ম যার যার, বড়মা সবার এই বাক্য শুধু স্লোগান নয়, বরং বহু দশকের অভিজ্ঞতার ভিতর গেঁথে থাকা এক বিশ্বাস।

বড়মা কে তিনি? লোকের মুখে তিনি রক্ষাকালী। যে কালী শুধু অশুভ শক্তিকে ধ্বংস করেন না, বরং তাঁর ভক্তের ঘর-সংসার, সন্তান, স্বামী, শরীর-মন সব কিছু রক্ষা করেন। তাঁর রূপ ভয়ংকর নয়, বরং মায়ের মতো স্নেহময় মুখে মৃদু হাসি, চোখে ভক্তির দৃঢ়তা।

বড়মা নামে এই রূপের কালীপুজোর সূচনা কবে, তা নিয়ে নানা মত থাকলেও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই পুজোর বয়স প্রায় এক শতাব্দী ছুঁইছুঁই। প্রথমে এটি ছিল এক ছোট পুজো কোনও একটি পরিবার বা একতলার উঠোনে কয়েকজন ভক্ত মিলে শুরু করেছিলেন এই আরাধনা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বড়মার গুণকীর্তন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের অঞ্চলে শ্রীরামপুর, ব্যান্ডেল, কল্যাণী, হালিশহর, শ্যামনগর, বারাকপুর পর্যন্ত।

লোকের মুখে মুখে বড়মা হয়ে উঠলেন এক জাগ্রত মা যিনি ডাক শুনলে সাড়া দেন, প্রার্থনার উত্তর দেন, স্বপ্নে এসে পথ দেখান।

বড়মার পুজোয় কোনও ধর্মীয় বিভাজন নেই। সবাই আসেন, মাথা নোয়ান। পুজোর দিন বসে নিরামিষ ভোগ, হরিনাম সংকীর্তন, রক্তবিহীন বলি, আর সর্বধর্মের অংশগ্রহণে পূর্ণ এক মহোৎসব। শুধু কালিপুজোর রাতে নয় সারা বছর ধরেই অনেকেই বড়মা মন্দিরে আসেন! সন্তানের মঙ্গলকামনায় মা আসে, পরীক্ষার আগে ছাত্র আসে! অসুখে, দুঃখে, বিপদে একটাই ডাক পড়ে বড়মা বাঁচান। এই পুজোর সবচেয়ে শক্তিশালী দিক এর অন্তর্ভুক্তির বার্তা। এখানে দল-মত-ধর্ম দেখে নয়, বিশ্বাস দেখে মায়ের কৃপা বর্ষিত হয়। নৈহাটি ও আশেপাশের মানুষের কাছে এই পুজো শুধু ধর্ম নয়, তা সামাজিক ঐক্যের উৎসব।

নৈহাটির বড়মা আজ শুধু এক মূর্তি নন, তিনি এক আত্মিক উপস্থিতি। যিনি ভয় দূর করেন, আশা জাগান, এবং সকলকে বলেন:

তুমি একা নও, মা আছেন..

এই বিশ্বাস, এই আশ্রয়, এই মাতৃত্ব এটাই বড়মার শক্তি, আর এটাই আমাদের সমাজের শেকড়।


Archive

Most Popular