19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

ভারতের সংবিধানের প্রধান রচয়িতা, ডঃ ভীমরাও রামজি আম্বেদকর!

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি


ডঃ ভীমরাও রামজি আম্বেদকর জন্মগ্রহণ করেন ১৪ই এপ্রিল, ১৮৯১ সালে মহারাষ্ট্রের মহুতে এক অস্পৃশ্য মহার পরিবারে। সমাজে প্রচলিত চরম বর্ণবৈষম্যের মধ্যেও তিনি কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন। তিনি প্রথম দলিত ব্যক্তি হিসেবে উচ্চ শিক্ষায়, বিশেষ করে বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ পান। তিনি লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিকস ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।  তিনি একজন দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন সমাজ সংস্কারক, আইনজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ এবং ভারতের সংবিধানের প্রধান রচয়িতা ছিলেন। এই দিনটিকে ভীম জয়ন্তী নামেও ডাকা হয় । আম্বেদকর জয়ন্তী শুধু একটি জন্মদিন নয়, এটি একটি সামাজিক ন্যায়ের আন্দোলনের প্রতীক।

ঐতিহাসিক অবদান:

  1. ভারতের সংবিধানের রচয়িতা: ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর তিনি ভারতের সংবিধান খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান হন এবং ১৯৫০ সালে ভারতের সংবিধান প্রণয়ন করেন। সংবিধানে সামাজিক ন্যায়, ধর্মনিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা এবং সাম্যের উপর জোর দেওয়া হয়।

  2. বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম: তিনি আজীবন দলিতদের অধিকার ও মর্যাদার জন্য লড়াই করেন। তিনি দলিতদের অস্পৃশ্য নয়, বহিষ্কৃত জাতি বলে উল্লেখ করতেন এবং তাঁদের মানবিক মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন।

  3. বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষা: জীবনের শেষদিকে, ১৯৫৬ সালে, তিনি হিন্দু ধর্মে বর্ণবৈষম্যের প্রতিবাদস্বরূপ বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন এবং লক্ষাধিক অনুসারীকেও বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষা দেন।

অম্বেডকর জয়ন্তীর সূচনা:

  • প্রথম অম্বেডকর জয়ন্তী পালিত হয় ১৯২৮ সালে, পুনেতে। এরপর থেকেই এই দিনটি ধীরে ধীরে একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ববাহী দিবসে পরিণত হয়।

  • বর্তমানে এটি শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে (যেখানে ভারতীয় অভিবাসীরা রয়েছেন) উদযাপিত হয়, যেমন—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া।

সরকারী স্বীকৃতি:

  • ভারতের অনেক রাজ্যে এই দিনটি সরকারী ছুটি হিসেবে ঘোষিত।

  • দিল্লির পার্লামেন্ট হাউস ও মুম্বাইয়ের চৌপাট্টিতে অবস্থিত চৌতি শিবাজি পার্ক-এ প্রতিবছর লক্ষাধিক মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হন।

    গুরুত্ব:

    • সামাজিক ন্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা: অম্বেডকর জয়ন্তী ডঃ অম্বেডকরের বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

    • সংবিধানের রচয়িতা: তিনি ভারতের সংবিধান রচনায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন, যেখানে ন্যায়, স্বাধীনতা, সাম্য এবং ভ্রাতৃত্বের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    • বঞ্চিতদের কণ্ঠস্বর: তিনি দলিত ও অনগ্রসর শ্রেণির উন্নয়নের জন্য আজীবন কাজ করেছেন।

    • শিক্ষার পক্ষে জোর: তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা হলো ক্ষমতায়নের সবচেয়ে বড় মাধ্যম।

    উদযাপনের ধরণ:

    • মিছিল ও জনসভা: সারা ভারতজুড়ে বিশেষ করে মহারাষ্ট্রে এবং দলিত সম্প্রদায়ের মধ্যে মিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    • ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন: ডঃ অম্বেডকরের মূর্তিগুলোতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

    • শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান: বিদ্যালয়, কলেজ ও সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে তার অবদান নিয়ে আলোচনা, বক্তৃতা ও প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়।

    জনপ্রিয় উক্তি:

    • শিক্ষিত হও, আন্দোলিত হও, সংগঠিত হও।

    • আমি একটি সমাজের উন্নয়নকে নারীদের উন্নয়নের মাত্রা দিয়ে মাপি।

    • শিক্ষিত হও, সংগঠিত হও এবং আন্দোলিত হও।



Archive

Most Popular