প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিনিধি
সোনা যতই দামি হোক, রূপো কিন্তু হৃদয়ের গয়না। তার ঔজ্জ্বল্য ম্লান নয়, বরং সফ্ট অথচ দৃষ্টিনন্দন। রূপোর গয়না আজ আর শুধু বিয়ের দিনের বা পূজোর দিনের সাজ নয় বরং এখন তা প্রতিদিনের ফ্যাশনের অংশ, এক ব্যক্তিত্বের প্রকাশ। চোখ ধাঁধানো অলংকারের বাজারে রূপোর এই প্রত্যাবর্তন একধরনের আত্মবিশ্বাসের বার্তা কম দামি হলেও কম মূল্যবান নয়।
ভারতে রূপোর গয়নার ব্যবহার বহু প্রাচীন। হরপ্পা সভ্যতায় রূপার অলংকারের নিদর্শন পাওয়া যায়। মধ্যযুগে বাংলার গ্রামাঞ্চলে মেয়েরা পরত মুখরো, নূপুর, টিকলি, চুড়ি সব রূপোরই। পুরো দক্ষিণ ভারতজুড়ে রূপার পা-গয়না, কোমরবন্ধ, নাকের ফুল একসময় ছিল গ্রামীণ সংস্কৃতির অঙ্গ। আজ সেই ঐতিহ্য ফিরে এসেছে আধুনিক কায়দায় মিনিমাল ডিজাইনে, অক্সিডাইজড ফিনিশে, ফিউশন টাচে।
রূপোর গয়নার আধুনিক রূপ
অক্সিডাইজড সিলভার:
কালচে রঙের মেটালিক গ্লো যা ওয়েস্টার্ন ও ইথনিক, দুই পোশাকেই মানানসই।
ট্রাইবাল ডিজাইন:
রাজস্থানী, নেপালি, বা নাগাল্যান্ডের মোটিফে তৈরি নেকপিস বা কানের দুল আজকের শহুরে মেয়েদের প্রিয়।
সিলভার-স্টোন কম্বো:
সাদা রূপোর সঙ্গে নীল বা সবুজ রত্নের মিল দারুণভাবে বোহো এবং চোখে পড়ার মতো।
টেম্পল জুয়েলরি:
মন্দিরের দেবদেবীর ছাঁচে তৈরি রূপোর হার বা কানের দুল, ট্র্যাডিশনাল অনুষ্ঠানে আলাদা ক্লাস নিয়ে আসে।
কখন কোথায় পরবেন?
অফিস বা ক্লাস ছোট রূপোর টপস, পাতলা চুড়ি
প্যান্ডেল/পুজো অক্সিডাইজড ঝুমকা, বড় হার
শাড়ি-সাজ টেম্পল নেকপিস + নথ + পা-চেন
ক্যাফে আউটিং স্টেটমেন্ট রিং + স্লিম চোকার
ফিউশন ফ্যাশন ট্রাইবাল সিলভার ও লিনেন/খাদি পোশাক
কেন রূপো আজ এত জনপ্রিয়?
সাশ্রয়ী: সোনার তুলনায় অনেক কম দামে পাওয়া যায়।
নির্ভরযোগ্য: রূপো অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, ত্বকে অ্যালার্জি করে না।
স্টাইল ফ্রেন্ডলি: মিনিমাল থেকে মেক্সিমাল সব স্টাইলেই মানানসই।
ইকো-ফ্রেন্ডলি: পুনর্ব্যবহারযোগ্য ধাতু, পরিবেশবান্ধব ফ্যাশনের পক্ষে।
রূপোর যত্ন নেবেন কীভাবে?
আলাদা কর রেখে দিন, অন্য গয়নার সঙ্গে ঘষাঘষি নয়
মাঝে মাঝে নরম কাপড়ে মুছে নিন
লবণ-লেবুর জল দিয়ে হালকা করে পরিষ্কার করুন
পারলে এয়ারটাইট বাক্সে রাখুন যাতে বাতাসে কালো না পড়ে
রূপো হল সেই গয়না, যা একা একটিকে না সাজিয়ে, বরং মানুষটিকে সাজায়। এটা তেমন এক অলংকার, যা আরামদায়ক, অর্থনৈতিক ও স্টাইলিশ তিনেই খাঁটি। আজকের নারীর মতোই মাটির সঙ্গে যুক্ত অথচ আত্মবিশ্বাসে দীপ্ত রূপোর গয়না তেমনই আত্মিক ও আভিজাত্যের নিঃশব্দ প্রকাশ।