স্বাস্থ্য
নিজস্ব প্রতিনিধি
হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে করণীয়: খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে বাঁচার উপায়
জীবনযাপনের নানা চাপের মধ্যে হঠাৎ করে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া এখন এক সাধারণ কিন্তু বিপজ্জনক সমস্যা। কাজের চাপে, মানসিক উদ্বেগে, কিংবা অনিয়মিত জীবনধারায় অনেকেই আজ হাই ব্লাড প্রেশারের ঝুঁকিতে। এই পরিস্থিতিতে সময়মতো করণীয় জানা যেমন জরুরি, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা, যা দীর্ঘমেয়াদে চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
হঠাৎ করে রক্তচাপ বেড়ে গেলে শরীরে একাধিক সতর্ক সংকেত দেখা দিতে পারে, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, দৃষ্টিতে ঝাপসা, বুক ধড়ফড়, এমনকি বমিভাব। এমন সময়ে প্রথম কাজ হলো শান্ত থাকা। টেনশন বা আতঙ্ক আরও চাপ বাড়াতে পারে। নিরাপদ স্থানে বসে বা শুয়ে, ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে হবে। যদি পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শে কোনো দ্রুত কার্যকর ওষুধ (যেমন সাবলিঙ্গুয়াল ট্যাবলেট) নেওয়ার নির্দেশনা থেকে থাকে, তবে তা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে লবণযুক্ত খাবার, কফি বা চা খাওয়া একেবারে এড়িয়ে চলা উচিত। এই পরিস্থিতির পেছনে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আধুনিক খাদ্যাভ্যাসে অতিরিক্ত লবণ, ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চর্বিযুক্ত মাংস বেশি পরিমাণে গ্রহণ হাই ব্লাড প্রেশারের অন্যতম কারণ।
চুপচাপ বসে যান – একেবারে বিশ্রামে থাকুন, কথা কম বলুন।
গভীর শ্বাস নিন – ধীরে ধীরে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন, এতে স্নায়ুর চাপ কমে।
জল খান – এক গ্লাস স্বাভাবিক তাপমাত্রার জল খান, তা চাপ কমাতে সাহায্য করে।
লবণ থেকে বিরত থাকুন – কোনো ধরনের লবণযুক্ত খাবার একদম খাবেন না।
চেক করুন BP – কাছাকাছি BP মেশিন থাকলে পরিমাপ করে নিন, যাতে অবস্থা বোঝা যায়।
চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন – অবস্থা গুরুতর হলে বা মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড়, ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গ থাকলে তৎক্ষণাৎ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
চা-কফি খাওয়া
উত্তেজক বা ভাজা-চর্বিযুক্ত খাবার
ব্যায়াম বা হাঁটাচলা
নোট: হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া বারবার ঘটলে এটি ক্রনিক সমস্যা হতে পারে, নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক কিছু খাবার হলো:
পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার: কলা, আলু, টমেটো
ফাইবার যুক্ত খাবার: ওটস, শাকসবজি, ফল
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: সামুদ্রিক মাছ, আখরোট
লবণ কম খাওয়া: দিনে ৫ গ্রামের কম লবণ গ্রহণ
হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া একদিকে যেমন জরুরি চিকিৎসা দাবি করে, অন্যদিকে এটি আমাদের প্রতিদিনের জীবনে সতর্ক হওয়ার আহ্বানও বটে। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে তা সামলানো সম্ভব, তবে স্থায়ী সমাধান আসে সুস্থ খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা থেকে। তাই নিজেকে রক্ষা করতে এখনই বদলান অভ্যাস, গড়ে তুলুন একটি স্বাস্থ্যকর জীবন।