স্বাস্থ্য
নিজস্ব প্রতিনিধি
নীরব কিন্তু বিপজ্জনক এমনই এক অসুখ মাউন্টেন সিকনেস বা উচ্চতা রোগ। হিমালয় কিংবা লাদাখের মত উঁচু জায়গায় উঠলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়। আর তখনই দেখা দেয় মাথাব্যথা, বমিভাব, ঘুমে বিঘ্ন, শ্বাসকষ্টের মত উপসর্গ। কখনো কখনো এর ভয়াবহ রূপ HAPE (ফুসফুসে জল) বা HACE (মস্তিষ্কে ফোলাভাব) মরণঝুঁকিও তৈরি করে। কিন্তু এই অসুখ রোধ সম্ভব। ধীরে ধীরে উচ্চতায় উঠুন, প্রচুর জল খান, শরীরের প্রতি খেয়াল রাখুন। প্রথম লক্ষণেই বিশ্রাম নিন, প্রয়োজনে নিচে নেমে আসুন।পর্বতারোহণ হোক রোমাঞ্চকর, কিন্তু সচেতনতার সাথে। কারণ প্রকৃতি যতই সুন্দর হোক, তার রুক্ষতা কখন আঘাত করবে তা বলা যায় না।
উচ্চতায় ওঠার ফলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে, কারও কারও ক্ষেত্রে ফুসফুসে রক্তনালী ফেটে বা ফাঁস হয়ে জল জমতে শুরু করে। এই অবস্থাকেই বলে HAPE। এটি মাউন্টেন সিকনেসের মারাত্মক রূপ এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না হলে জীবনঘাতী হতে পারে।
শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, বিশেষ করে বিশ্রামেও
বুকে চাপ বা ব্যথা
কাশির সাথে ফেনাযুক্ত শ্লেষ্মা বা রক্ত
অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা
ঠাণ্ডা থাকা সত্ত্বেও গা গরম থাকা বা জ্বর
অবিলম্বে নিচু উচ্চতায় নামানো (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া
Nifedipine জাতীয় ওষুধ (চিকিৎসকের পরামর্শে)
চাপ কমানোর জন্য বিশেষ প্রেসার-ব্যাগ (Gamow Bag) প্রয়োগ করা হতে পারে
HAPE কখনো হঠাৎ করেই দেখা দেয়, তাই উচ্চতায় উঠলে নিজেকে ও সঙ্গীদের লক্ষ করুন। সামান্য লক্ষণেও অবহেলা করবেন না।
HACE হল উচ্চতা-সংক্রান্ত সবচেয়ে জটিল ও প্রাণঘাতী সমস্যা, যা মূলত অক্সিজেনের অভাবে মস্তিষ্কে তরল জমে যাওয়ার কারণে হয়। এটি মাউন্টেন সিকনেসের চূড়ান্ত ও জরুরি চিকিৎসাযোগ্য রূপ।
তীব্র মাথাব্যথা
বিভ্রান্তি, কথা জড়িয়ে যাওয়া
হাঁটাচলায় ভারসাম্য হারানো (ataxia)
অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব বা অচেতনতা
দৃষ্টি ঝাপসা বা ডাবল ভিশন
খিঁচুনি বা বেহুঁশ হয়ে যাওয়া
অবিলম্বে নিচু উচ্চতায় নামানো (এটাই সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ)
অক্সিজেন থেরাপি
Dexamethasone জাতীয় স্টেরয়েড প্রয়োগ (চিকিৎসকের নির্দেশে)
চাপ কমানোর জন্য বিশেষ হাইপ্রেশার ব্যাগ (Gamow Bag) ব্যবহার করা যেতে পারে
হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন
HACE ধীরে ধীরে নয়, বরং হঠাৎ করে শুরু হতে পারে। তাই উচ্চতায় উঠে যদি আচরণে অস্বাভাবিকতা বা বিভ্রান্তি দেখা যায়, তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে হবে। দেরি মানেই মৃত্যু ঝুঁকি।
✅ মাথা ব্যথা
✅ বমিভাব বা বমি হওয়া
✅ মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানো
✅ নিঃশ্বাসে কষ্ট বা হাঁপ ধরা
✅ চরম ক্লান্তি বা অবসাদ
✅ ঘুমের সমস্যা বা নিদ্রাহীনতা
এই লক্ষণগুলো উচ্চতায় দ্রুত ওঠার পর দেখা দিলে, সঙ্গে সঙ্গে বিশ্রাম নিন, জল খান, এবং প্রয়োজন হলে নিচু উচ্চতায় নেমে আসুন।
১. ধীরে উচ্চতায় উঠুন
২-৩ দিন অপেক্ষাকৃত নিচু উচ্চতায় থেকে শরীরকে অভ্যস্ত করুন (Acclimatization)।
২. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
ভ্রমণের আগেই ঘুম ঠিক রাখুন, শারীরিকভাবে ফিট থাকুন।
৩. চকলেট, বাদাম ও গরম তরল খান
এগুলো তাৎক্ষণিক শক্তি ও গরম রাখে শরীরকে।
৪. জল খান বেশি করে
শরীরে পানির ঘাটতি হলে উপসর্গ ত্বরান্বিত হয়।
৫. অ্যালকোহল ও ধূমপান পরিহার করুন
অক্সিজেন শোষণ কমিয়ে দেয় এবং ঝুঁকি বাড়ায়।
৬. ওষুধ সঙ্গে নিন
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী Diamox (Acetazolamide) বা প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখুন।