19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

ভবিষ্যতের খাবার, দীর্ঘ রোগমুক্ত জীবন যাপন এবং মানসিক স্বাস্থ্য..

স্বাস্থ্য

পুষ্টিবিদ জয়িতা ব্রক্ষ্ম


গোটা দুনিয়া আজ দ্রুত গতিতে ছুটে চলেছে, নিরন্তর কর্মব্যস্ত জীবনে সময়ের বড়োই অভাব।  তাই এই বিরামহীন ছুটে চলার মাঝে নিজের শরীর এর দিকে খেয়াল দেওয়া হয়ে ওঠে দুষ্কর।  মন চায় একটা লম্বা ছুটি পেতে কিন্তু বাধ সাধে পরিস্থিতি, তাই মানসিক শান্তিও বিঘ্নিত হয়। শরীরে বাসা বাঁধে নানান কঠিন অসুখ যা থেকে মুক্তি পেতে কালঘাম ছুটে যায়। ওষুধের লম্বা লিস্ট দেখে মন ভারী দুশ্চিন্তায় পরে যায়। এমত অবস্থায় যদি রূপকথার গল্পের মতো কোনো অলীক সুখের সন্ধান পাওয়া যায়, যদি খুব সহজেই আশ্চর্য প্রদীপের মতো নিজেকে ভালো রাখার চাবিকাঠি হাতে এসে পরে, তবে মন্দ হয় না।  

শরীর ও মন চাঙ্গা রাখতে সঠিক পুষ্টি একান্তই আবশ্যক।  কিন্তু ডায়েট কথা টা বর্তমানে অধিকাংশ মানুষের কাছেই কিছুটা ভুল ভাবে চর্চিত হয় , কিছুটা গুরুত্বহীন হয়ে ওঠে।  আমাদের শরীর খারাপ হলে সবার আগে আমরা ডাক্তার এর কাছে ছুটি , খাওয়া দাওয়া এর বিষয় টা নিতান্তই সামান্য বলে এড়িয়ে যাই , কিংবা আমরা সবটাই জানি এমন এক বিজ্ঞসুচক আচরণ করে থাকি।  কিন্তু আমরা সবাই জানি প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান  কিওর, আর এই কথার সূত্র ধরেই হলপ করে বলতে পারি আমাদের প্রকৃতি সেই উপকরণ ঢেলে দিয়েছে যা আমরা অনায়াসেই কাজে লাগাতে পারি।খাদ্য, পুষ্টি বা ডায়েট যেটাই বলি না কেন তা হলো একটি বিজ্ঞান, তাই আসুন জেনে নি কি কি খাবার খেলে আমাদের ভবিষ্যৎ হয়ে উঠবে সুন্দর।কোন কোন খাবার খেতে নেই সেগুলো মোটামুটি আমরা সবাই জানি তাই কি কি খাবো সেটা নিয়েই জেনে নি।  তবে সবার আগে বলে নি এটি একটি সাধারণ গাইড লাইন , তাই যদি আপনার কোনো শারীরিক অসুস্থতা থেকে থাকে তবে ব্যক্তিবিশেষে খাদ্যাভাসের তারতম্য থাকবে।  

মডার্ন রিসার্চ বলছে যে হোল গ্রেইন্স, ঋতুকালীন সবুজ শাকসবজি ও রঙিন ফল, চর্বিহীন প্রোটিন সম্মৃদ্ধ খাবার এবং গুড ফ্যাট সম্মৃদ্ধ একটি ব্যালান্সড ডায়েট গ্রহণ করুন।  আপনার ডায়েট এ অবশ্যই রাখুন নানান ধরণের বেরি জাতীয় ফল যেমন স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, ক্র্যানবেরি ইত্যাদি, বিন্স বা শুঁটি জাতীয় সবজি, তিল, তিসি ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের বীজ এবং বাদাম, গাঢ় সবুজ পাতাযুক্ত সবজি যেমন ফুলকপি,ব্রকোলি,বাঁধাকপি , সেলারি ইত্যাদি, ডার্ক চকলেট, অলিভ অয়েল প্রভৃতি খাদ্য, যেগুলি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সম্মৃদ্ধ যা কিনা আমাদের বিভিন্ন রোগ ব্যাধির হাত থেকে রক্ষা করে এবং অ্যান্টি-এজিং হিসেবে কাজ করে।

আমাদের পরিপাক তন্ত্র হলো সমস্ত রোগ ব্যাধি সৃষ্টির মূল উৎস তাই গাট বা অন্ত্র কে ভালো রাখতে প্রয়োজন প্রিবায়োটিক খাবার যেমন - রসুন,পেঁয়াজ, ফ্ল্যাক্স সীড, কলা, বার্লি  প্রভৃতি এবং প্রোবায়োটিক খাবার যেমন - টক দই , টমেটো, পনির, চিজ , তরমুজ, আনারস, বেদানা, আপেল সিডার  ভিনিগার ইত্যাদি।  

উপরোক্ত খাবার গুলি আমাদের শরীরের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য কেও ভালো রাখে। তবে খাবারের সাথে সাথে পর্যাপ্ত পরিমানে জল পান করা দরকার যা আমাদের শারীরবৃত্তীয় ও মস্তিষ্কের কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করে।  তীব্র উত্তেজক জাতীয় খাবার যেমন ক্যাফেইন , অ্যালকোহল ইত্যাদি , প্রসেসড খাবার দাবার , মিষ্টি পানীয়  এর পরিমান কম করতে হবে কারণ এগুলি আমাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং মেজাজ খারাপ করে।

এখন আমরা বেশিরভাগ মানুষই ডেস্ক জব করি তাই সেই অর্থে শরীরের মুভমেন্ট হয় না, আলাদা করে শরীরচর্চা বা ব্যায়াম করারও সময় পাইনা অনেকেই।  কিন্তু খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, ব্যায়াম , মেডিটেশন করা জরুরি।  তার জন্য যে জিম এই ভর্তি হতে হবে তার কোনো মানে নেই।  প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট জোরে জোরে হাঁটুন , যোগাসন ও ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করুন , বসে কাজ করার সময় কিছুক্ষন অন্তর পা নাড়াতে থাকুন , বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠা নাম করে নিন মাঝে মধ্যে। এতে আমাদের শরীর ও মন উভয়ই ভালো থাকবে।  একজন পেশাগত পুষ্টিবিদ হিসেবে সকলের সুস্থ্য ভবিষ্যৎ ই আমাদের একান্ত কাম্য।

Archive

Most Popular