রান্নাঘর
নিজস্ব প্রতিনিধি
কলকাতার বর্ষাকাল মানেই স্যাঁতসেঁতে দেওয়াল, অবিরাম বৃষ্টি, আর হঠাৎ করে কিচেনে দেখা দেওয়া ছত্রাক কিংবা পোকামাকড়ের উৎপাত। এই সময়ে রান্নাঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং খাবারকে সংরক্ষিত রাখা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চ আর্দ্রতা ও কম আলোয় খাবার সহজেই নষ্ট হয়ে যায়, মশলা থেকে চাল-সবকিছুতেই লাগে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ। তাই এই বর্ষায় রান্নাঘরকে নিরাপদ ও কর্মক্ষম রাখতে দরকার কিছু বুদ্ধিদীপ্ত টিপস।
বর্ষাকালের কিচেন টিপস
১. নুন বা চাল দিয়ে মশলা সংরক্ষণ করুন – হলুদ, লঙ্কা গুঁড়ো বা ধনে গুঁড়োর বয়ামে কয়েকটা শুকনো চাল বা বড় দানার নুন রেখে দিন, এতে স্যাঁতসেঁতে হবে না।
২. এয়ারটাইট কন্টেনারে রাখুন – চাল, ডাল, বিস্কুট, শুকনো ফল সবকিছুই রাখুন ভালো এয়ারটাইট কন্টেনারে।
৩. ফ্রিজ পরিষ্কার রাখুন – বর্ষাকালে ফ্রিজে ছত্রাক বা দুর্গন্ধ হতে পারে। সপ্তাহে একদিন ফ্রিজে এক বাটি বেকিং সোডা বা কাটা লেবু রেখে দিন।
৪. মশলার বয়ামে শুকনো লবঙ্গ বা তেজপাতা দিন – এগুলো প্রাকৃতিকভাবে আর্দ্রতা ও পোকামাকড় দূর করে।
৫. ডাবল ফ্রাই পদ্ধতিতে ভাজা খাবার রাখুন – ভাজা পটেটো চিপস বা পুরি দীর্ঘদিন রাখতে চাইলে প্রথমে হালকা ভেজে ঠান্ডা করে আবার ভাজুন।
৬. কিচেন সিঙ্কে প্রতিদিন গরম জল ঢালুন – যাতে ছত্রাক, দুর্গন্ধ বা জ্যাম হওয়া প্রতিরোধ হয়।
৭. ভালো এক্সজস্ট ফ্যান ব্যবহার করুন – রান্নার ধোঁয়া ও আর্দ্রতা বের করে দেয়, রান্নাঘর শুকনো থাকে।
৮. কাপড় শুকানোর ব্যবস্থা আলাদা রাখুন – কিচেনে ভিজে কাপড় ঝুলিয়ে রাখবেন না, এতে ছত্রাক জন্মায়।
৯. আলু-পেঁয়াজ আলাদা করে রাখুন – বর্ষাকালে একসাথে রাখলে তাড়াতাড়ি পচে যায়।
১০. বেকিং সোডা রাখুন তাক বা বয়ামে – বেকিং সোডা আর্দ্রতা শোষণ করে, গন্ধও আটকায়।
১১. নিয়মিত তাক-মেঝে মুছুন ভিনেগার মিশিয়ে – এতে জীবাণু ও স্যাঁতসেঁতে দূর হয়।
১২. কিচেন ম্যাট ব্যবহার করুন – জল পড়লেও ম্যাট থাকলে স্লিপ করার ঝুঁকি কমে।
১৩. রান্নার পরপরই কড়াই পরিষ্কার করুন – আর্দ্র আবহাওয়ায় কালচে দাগ বা ছত্রাক সহজেই হয়।
১৪. প্যাকেটজাত খাবার কাঁচি দিয়ে কেটে ব্যবহার করুন – ফাটা প্যাকেট থেকে আর্দ্রতা ঢুকে খাবার নষ্ট হতে পারে।
১৫. টিনজাত বা ক্যান খাবার ব্যবহার করলে ঢাকনা খোলার পর ফ্রিজে রাখুন – না হলে দ্রুত ফারমেন্ট হতে পারে।
১৬. পোকা প্রতিরোধে লবঙ্গ ও নীমপাতা রাখুন তাক ও কৌটায় – প্রাকৃতিকভাবে কীটনাশক হিসেবে কাজ করে।
১৭. চা পাতা ও কফি ভালোভাবে শুকিয়ে রাখুন – নইলে ছত্রাক ধরে যেতে পারে।
১৮. কিচেন তোয়ালে বা ঝাঁটা রোদে শুকিয়ে রাখুন – রোজ ব্যবহারের পর শুকিয়ে ব্যবহার করুন।
১৯. ঘরের এক কোণে ইউক্যালিপটাস তেল বা কর্পূর রাখুন – এতে পোকা আসবে না এবং ঘ্রাণ বজায় থাকবে।
২০. রান্না কম করে করুন – যাতে ফেলে না দিতে হয়, বর্ষাকালে খাবার বেশি দিন রাখা নিরাপদ নয়।
কলকাতার বর্ষাকাল একদিকে যেমন মন ভোলানো, অন্যদিকে গৃহস্থের জন্য বিশেষত রান্নাঘরের দিকে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই কুড়িটি সহজ অথচ কার্যকর টিপস শুধু রান্নাঘরকে সুরক্ষিতই রাখবে না, বরং খাবারের স্বাদ, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের পরিচ্ছন্নতাও বজায় রাখবে। বর্ষা উপভোগ করুন, আর রান্নাঘরও রাখুন ঝকঝকে ও নিরাপদ।