প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিনিধি
শৈশব মানেই অগুনতি গল্পের ভান্ডার। তার মধ্যে সবচেয়ে মধুর স্মৃতি গুলো প্রায়ই জড়িয়ে থাকে মায়ের সঙ্গে। মা মানেই ছোট্ট বেলায় অসীম নিরাপত্তা, ভালোবাসা আর আদর। আর এই গল্পে এক কাপ চা যেন মায়ের সঙ্গে শেয়ার করা হাজার কথা, হাজার সুখের সমার্থক। আজ রোজকার অনন্যা-র পাতায় চলুন ফিরে যাই শৈশবের সেই মায়ামাখা সময়ে মা আর চা-এর গল্পে।
আমাদের বাঙালি বাড়িতে চা যেন একটা অদ্ভুত আবেগ! ভোরবেলা রান্নাঘর থেকে প্রথম যে গন্ধটা ভেসে আসে তা চায়ের গন্ধ। আর সেই গন্ধেই ঘুম ভাঙা। ছোটবেলায় মায়ের কোলে বসে বা তার কাজের মাঝে দেখতে পেতাম এক কাপ চা হাতে নিয়ে মা হয়তো পত্রিকা পড়ছে, হয়তো পিসিমার সাথে ফোনে গল্প করছে বা দিদার সাথে ঠাকুর ঘরের সামনে বসে চুপচাপ ভাবছে। চা ছিল মায়ের কাজের বিরতি, মায়ের নিজের জন্য একটু সময়। তখন বুঝিনি এই চায়ের কাপেই মা নিজের ক্লান্তি দূর করত, মন শান্ত করত।
বিকেলের সময়টা ছিল সবচেয়ে সুন্দর। স্কুল থেকে ফিরে হাত-মুখ ধুয়ে টিভির সামনে বসে মায়ের হাতের মুড়ি আর চা-এর গন্ধ আহা! যদিও ছোটদের চা দেওয়া হত না, তবুও একটু একটু করে চুমুক দিয়ে মায়ের কাপ থেকে চা চুরি করাটাই ছিল আসল মজা! কখনো কখনো মা বলত, তুই বড় হলে নিজের চা পাবি! সেই বড় হওয়ার ইচ্ছে আজকের আমি পূরণ করেছি, কিন্তু তখনকার সেই চা-চুরি করা মজাটা আর কোথায়!
এক কাপ চা নিয়ে মায়ের পাশে বসলে নতুন নতুন গল্প শোনা যেত বাবার ছোটবেলার দুষ্টুমি, মায়ের স্কুলজীবন, দিদার কাছে গল্প শোনা, বা আমাদের বাড়ির কোনো মজার ঘটনা। চা-এর কাপে চুমুক দিতে দিতে মা বলত জীবনে যতই দুঃখ আসুক, এক কাপ গরম চা সব ক্লান্তি দূর করে দেয়! তখন হয়তো বুঝতাম না, কিন্তু আজ বুঝি সত্যিই চা শুধু একটা পানীয় নয়, এটা অনেক না বলা কথা, অনেক ছোট ছোট সুখ।
আজ আমি বড় হয়েছি। নিজের অফিস, নিজের ব্যস্ততা। কিন্তু আজও যখন মায়ের কাছে যাই, মা বলে চা খাবি? সেই এক কাপ চাতে মা যেন আজও তার সবটুকু আদর ঢেলে দেয়। মায়ের বানানো চা আর কোনো ক্যাফেতে পাওয়া যায় না সে যত দামি ক্যাফে হোক না কেন! এক কাপ চা আর মায়ের গল্প যেন বাঙালির শৈশবের অমূল্য স্মৃতি। চা শুধু ঠোঁট ছোঁয়ানোর জন্য নয়, মনের ক্লান্তি দূর করার আরেক নাম। তাই আজও যদি কখনো খুব ব্যস্ততা বা স্ট্রেস হয়, চোখ বন্ধ করে এক কাপ চা হাতে নিয়ে মায়ের কথা ভাবুন দেখবেন, মন ভরে যাবে শান্তিতে আর ভালোবাসায়।