19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

বিপদ থেকে রক্ষা পেতে নিষ্ঠাভরে করুন মা বিপদতারিণীর পুজো.. কীভাবে শুরু হলো এই পুজো, কী কী নিয়ম রয়েছে জেনে নিন।

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি


দেবী দুর্গার ১০৮ অবতারের এক দেবী মা বিপত্তারিণী।আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া থেকে নবমী তিথি অর্থাৎ রথযাত্রার দিন থেকে উল্টো রথের মধ্যে যে শনিবার এবং মঙ্গলবার পড়ে তাতেই করা হয় বিপত্তারিণী। সন্তান ও পরিবারের মঙ্গল কামনায় এই ব্রত করেন মহিলারা। মনে করা হয় এই ব্রত করলে সব ধরনের বিপদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

কীভাবে শুরু হলো এই পুজো?

পুরাণ অনুযায়ী, শুম্ভ-নিশুম্ভের হাত থেকে রক্ষা পেতে দেবতারা মহাশক্তিশালী মহামায়ার স্তব করেন। সেই সময় শিব-অর্ধাঙ্গিনী পার্বতী সেখানে হাজির হন।দেবতাদের জিজ্ঞাসা করেন,  “তোমরা কার পুজো করছো”? দেবী নিজেই দেবতাদের পরীক্ষা করার জন্য এই প্রশ্ন করেন। কিন্তু, দেবতারা তাঁকে চিনতে না পারায় পার্বতী নিজের রূপ ধরেন, সকলের সামনে আবির্ভূত হন। তিনি এসে বলেন, “তোমরা আমারই স্তব করছ, চিনতে পারনি আমায়!” অতঃপর তিনি শুম্ভ-নিশুম্ভকে বধ করেন এবং দেবতাদের বিপদ থেকে রক্ষা করেন। সেই থেকে মর্ত্যধামে বিপত্তারিণী মায়ের পুজোর শুরু।

এই পুজোর ও একটি কাহিনি রয়েছে। কথিত আছে যে, বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজবংশের এক রানির এক নিম্নবর্ণের সখী ছিলেন যিনি জাতে মুচি। এই মহিলা নিয়মিত গোমাংস খেতেন; তাই রানিও একদিন কৌতূহলী হয়ে গোমাংস খাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। প্রথমে তিনি রাজি হননি এবং পরবর্তীতে তিনি রানির আদেশ রক্ষার্থে গোমাংস আনেন। অন্তঃপুরে গোমাংস প্রবেশ করেছে— এই খবর শোনামাত্র রাজার ক্রুদ্ধ হয়ে রানিকে শাস্তি দিতে উদ্যত হন। রানি গোমাংস তাঁর বস্ত্রের আড়ালে লুকিয়ে রেখে দেবী দুর্গাকে স্মরণ করতে থাকেন। রানির উপর তল্লাশি করে রাজা দেখতে পান তাঁর বস্ত্রের আড়ালে গোমাংস নয়, রয়েছে একটি লাল জবা। সেই থেকেই বিপত্তরিণীর পুজো প্রচলিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এইদিন কী করবেন:

১.বিপত্তারিণী পুজোর আগের দিন এবং পুজোর দিন অবশ্যই নিরামিষ খাবার খেতে হবে।

২.এই দিন বাড়ি থেকে কাউকে চিনি দেবেন না।

৩.এই দিন ভুলেও মহিলাদের অপমান করতে নেই বা কোনও খারাপ কথা বলতে নেই।

৪.এই দিন দেবীর পুজো সামগ্রী সব কিছুই ১৩টা করে অর্পণ করতে হয়। ১৩টি ফুল, ফল, পান, সুপুরি এবং মিষ্টি।

৬.পুজো শেষে ব্রতী কে ১৩টা লুচি ও ১৩টা ফল আহার করতে হয়।

৭.পুজো শেষে মায়ের চরণে রাখা ১৩টা দুর্বা ও গিঁট দেওয়া লাল সুতো, মেয়েদের বাম হাতে এবং ছেলেদের ডান হাতে বাঁধতে হয়।

Archive

Most Popular