রান্নাঘর
নিজস্ব প্রতিনিধি
বৃষ্টি মানেই বাঙালির মনে একটা নরম আবেগের স্রোত বয়ে যায়। খোলা জানালার পাশে বসে বই পড়া, জল ঝরা পাতার দিকে তাকিয়ে থাকা, আর তার সঙ্গে পেটপুজোর পরিপূর্ণতা এক থালা গরম খিচুড়ি। আতপ চাল, সোনামুগ ডাল, ঘি, বেগুন ভাজা আর একটা কাঁচা লঙ্কা... এই ছবিটাই যেন বর্ষার নির্ভেজাল সুখ। আজ রইল সেই ক্লাসিক খিচুড়ির রেসিপি ঘরোয়া অথচ অতুলনীয়।
উপকরণ (৪ জনের জন্য):
আতপ চাল – ২০০ গ্রাম
সোনা মুগ ডাল – ২০০ গ্রাম
আদা বাটা – ১ চা চামচ
শুকনো লঙ্কা – ২টি
পাঁচফোড়ন – ১/২ চা চামচ
তেজপাতা – ১টি
হলুদ গুঁড়ো – ১/২ চা চামচ
নুন – স্বাদমতো
ঘি – ২ টেবিল চামচ
সর্ষের তেল – ১ টেবিল চামচ
বেগুন – ১টি (মাঝারি আকারের, লম্বা করে কাটা)
পাঁপড় – ভাজা জন্য
কাঁচা লঙ্কা – পরিবেশনের জন্য
প্রণালি:
1. ডাল ভাজা: শুকনো কড়াইতে সোনা মুগ ডাল হালকা বাদামি রঙ হওয়া পর্যন্ত ভেজে নিন। এতে এক অদ্ভুত খুশবু তৈরি হবে।
2. চাল ধোয়া: আতপ চাল ধুয়ে আধঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন।
3. সিদ্ধ করা: প্রেসার কুকারে চাল ও ডাল একসঙ্গে দিয়ে প্রায় ৪ কাপ জল, সামান্য নুন, হলুদ মিশিয়ে ২টি সিটি দিন!
4. ফোড়ন: অন্য একটি কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা ও পাঁচফোড়ন ফোড়ন দিন। এরপর দিন আদা বাটা। হালকা ভাজা হয়ে এলে সিদ্ধ খিচুড়ি ঢেলে ভালো করে নেড়ে দিন।
5. ঘি ছড়ানো: রান্না হয়ে গেলে উপর থেকে ঘি ছড়িয়ে দিন এই গন্ধই যেন বর্ষার স্বাদকে সম্পূর্ণ করে।
সঙ্গে কী দেবেন:
বেগুন ভাজা: সর্ষের তেলে লম্বা কাটা বেগুনে একটু নুন ও হলুদ মেখে মুচমুচে করে ভেজে নিন।
পাঁপড় ভাজা: রসুন বা জিরে দেওয়া শুকনো পাঁপড় ভেজে পরিবেশন করুন।
টক আচার বা কাঁচা লঙ্কা: স্বাদের বিপরীতে এক চিলতে টক-মশলাদার টাচ দেবে।
খিচুড়ি শুধু খাবার নয়, বাঙালির আবেগ, স্মৃতি আর পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া মুহূর্তের নাম। বর্ষার এক নির্জন দুপুরে, জানালায় বৃষ্টি পড়ছে টিপটিপ, ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে ঘি-আদার গন্ধ সেই মুহূর্তে এক প্লেট খিচুড়ি যেন সব ক্লান্তি দূর করে দেয়। রেসিপিটা যতই সহজ হোক, এই স্বাদ চিরন্তন। নতুন প্রজন্মের কাছে বর্ষার এই খিচুড়ি হয়ে উঠুক নস্টালজিয়ার এক অনন্য অধ্যায়। এবার আপনি তৈরি তো? প্লেটে তুলে ফেলুন সেই এক চিলতে বৃষ্টি-ভেজা সুখ।