স্বাস্থ্য
নিজস্ব প্রতিনিধি
বর্ষাকাল যেমন প্রকৃতিকে শান্ত করে, তেমনই আমাদের শরীরেও আনে কিছু অস্থিরতা। বছরের এই সময়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যার দেখা মেলে পেটের। কারণ, বৃষ্টিতে পরিবেশে আর্দ্রতা বাড়ে, জল দূষণ ও খাবারে জীবাণুর সংক্রমণ হয় বেশি। যার প্রভাব পড়ে আমাদের হজমের ওপর দেখা দেয় গ্যাস, অম্বল, বদহজম, পেট খারাপ বা ফুড পয়জনিং-এর মতো সমস্যা। তবে একটু সচেতন হলে এই সমস্যাগুলো সহজেই এড়ানো যায়। আজকের এই স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে থাকছে বর্ষাকালের হজমজনিত সমস্যাগুলির কারণ, প্রতিকার এবং প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের কিছু পরামর্শ।
বর্ষায় হজম খারাপ হয় কেন?
আর্দ্রতা: অতিরিক্ত আর্দ্র আবহাওয়ায় শরীরের মেটাবলিজম ধীর হয়ে পড়ে।
জল সংক্রমণ: বর্ষায় প্রায়ই পানীয় জলে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস মিশে যায়, যা ডায়রিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
রাস্তার খাবার: ভেজা আবহাওয়ায় বাইরের খাবার অধিকাংশ সময় অপরিষ্কার, পুরনো বা জীবাণু-সংক্রমিত হয়।
বেশি তেল-ঝাল খাওয়া: বর্ষার দিনে অনেকেই তেলেভাজা খাওয়ার প্রবণতা বাড়ান যা হজমে সমস্যা তৈরি করে..
কী খাবেন?
হালকা আর সহজপাচ্য খাবার: খিচুড়ি, সেদ্ধ সবজি, স্যুপ, পাতলা ডাল এগুলি সহজে হজম হয়।
জল ফোটানো খাওয়া: সবসময় ফুটিয়ে ঠান্ডা করে জল খান, বাইরে থাকলে বোতলজাত জল ব্যবহার করুন।
আদা, হিং, লেবু: হজমে সহায়তা করে। সকালে এক কাপ গরম জলে লেবু-মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন।
পাকচক্র সক্রিয় রাখতে: ছোট ছোট অন্তরালে অল্প অল্প খেতে থাকুন। পুরো পেট ভরে খাবেন না।
দই ও ছানা: এই সময়ে হালকা করে তৈরি ঘরে বানানো টকদই হজমের জন্য ভালো।
কী এড়াবেন?
ফ্রিজে রাখা বাসি খাবার: বর্ষায় খাবারে জীবাণু দ্রুত জন্মায়, বিশেষত ঠান্ডা বা বাসি খাবারে।
বাইরের খাবার ও স্ট্রিট ফুড: ঝালমুড়ি, ফুচকা, চাট এসব এ সময় সংক্রমণের সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
অতিরিক্ত কফি ও ঠান্ডা পানীয়: শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য নষ্ট করে হজমের অসুবিধা করে।
ডায়েট সাপ্লিমেন্ট বা কাঁচা স্যালাড: এগুলি যদি ভালো করে ধোয়া না থাকে, সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
শরীরের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যদি কিছু হয়, তবে তা হলো আমাদের হজমতন্ত্র। বর্ষাকাল তার স্বাভাবিক ছন্দে একটু আলগা টান দেয় ঠিকই, কিন্তু সচেতনতা থাকলে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখা সম্ভব। নিয়ম মেনে খাওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আর সহজপাচ্য খাবার এই কয়েকটি অভ্যাসই আপনার বর্ষাকালকে করে তুলবে আরামদায়ক ও রোগমুক্ত। পেট ভালো থাকলেই মনও ভালো থাকে। আর মন ভালো থাকলে বর্ষার রিমঝিম সুর হয়ে ওঠে প্রাণের সঙ্গীত।