স্বাস্থ্য
নিজস্ব প্রতিনিধি
আধুনিক প্রযুক্তির যুগে হেডফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। গান শোনা, অনলাইন ক্লাস, ফোনে কথা বলা বা গেম খেলার জন্য অনেকেই নিয়মিত হেডফোন ব্যবহার করেন। তবে অতিরিক্ত বা ভুল পদ্ধতিতে হেডফোন ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে, যেমন শ্রবণশক্তি হ্রাস, কানে ব্যথা, মাথাব্যথা ও সংক্রমণের আশঙ্কা। তাই হেডফোনের ব্যবহার সীমিত করা এবং সঠিক নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হেডফোন ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে, যেমন:
1. শ্রবণশক্তি হ্রাস –
দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ শব্দে (৮৫ ডেসিবেলের বেশি) শুনলে অভ্যন্তরীণ কানের ক্ষতি হতে পারে, যা শব্দজনিত শ্রবণশক্তি হ্রাস (NIHL) ঘটাতে পারে।
2. কান সংক্রমণ –
অন্যদের সাথে ইয়ারবাড ভাগ করে নেওয়া বা দীর্ঘ সময় ধরে ইন-ইয়ার হেডফোন ব্যবহার করলে ব্যাকটেরিয়া জমে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
3. টিনিটাস (কানে বাজা) –
উচ্চ শব্দের ধারাবাহিক সংস্পর্শের ফলে কানে অবিরাম বাজা বা গুঞ্জনের অনুভূতি সৃষ্টি হতে পারে।
4. কান ব্যথা ও চাপ –
অনুপযুক্ত হেডফোন, বিশেষত ইন-ইয়ার মডেল, কানে অস্বস্তি বা অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
5. মাথাব্যথা ও মাইগ্রেন –
টাইট-ফিটিং ওভার-ইয়ার হেডফোন বা দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ফলে টেনশন মাথাব্যথা ও মাইগ্রেন হতে পারে।
6. শ্রবণ ক্লান্তি –
মাঝারি শব্দে হলেও দীর্ঘ সময় ধরে শুনলে শ্রবণযন্ত্রের উপর চাপ পড়তে পারে, ফলে সাময়িক শ্রবণশক্তি হ্রাস পেতে পারে।
7. সচেতনতার অভাব –
পাবলিক প্লেসে নয়েজ-ক্যান্সেলিং হেডফোন ব্যবহার করলে আশেপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা কমে যায়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এই সমস্যাগুলি এড়াতে ৬০/৬০ নিয়ম মেনে চলুন (৬০% ভলিউমে একটানা ৬০ মিনিটের বেশি শুনবেন না), নিয়মিত হেডফোন পরিষ্কার করুন এবং আরামদায়ক, উচ্চ-মানের হেডফোন ব্যবহার করুন।