প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিনিধি
ভালোবাসা শব্দটা আমাদের জীবনে যেমন আলো আনে, তেমনই সম্পর্কের ভাঙন তৈরি করে এক অভ্যন্তরীণ অন্ধকার। সব সম্পর্ক যে সারা জীবন টিকে যায় না এটা জেনে, বুঝেও যখন সেই ‘বিচ্ছেদ’-এর মুখোমুখি হই, তখন মনে হয় মাটি যেন পা খুঁজে পায় না। বিচ্ছেদ মানেই কি ব্যর্থতা? না কি নিজেকে ফিরে পাওয়ার শুরু?
এই প্রতিবেদন সেই সম্পর্কের শেষ পর্ব নিয়ে যেটা যন্ত্রণাদায়ক, অথচ কখনও কখনও প্রয়োজনীয়। একটা সম্পর্ক ভাঙে এমনই এক মুহূর্তে, যখন দুই মানুষ আর একে অপরের জীবনে শান্তি খুঁজে পান না। এর পেছনে থাকতে পারে যোগাযোগে ঘাটতি, মানসিক অবহেলা বা অসম্মান, সময়ের সঙ্গে জীবনের লক্ষ্য বদলে যাওয়া কিংবা নিঃশব্দ দূরত্বের জমে ওঠা বরফ, অনেক সম্পর্ক ভাঙে চিৎকারে, আবার অনেক সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় নিঃশব্দে এক চুপ করে থাকা সকালে।
আমাদের সমাজে এখনও বিচ্ছেদকে দেখা হয় ব্যর্থতা হিসেবে বিশেষ করে নারীর জীবনে। কিন্তু বাস্তবতা হল, অনেক সম্পর্ক টিকে থাকে শুধু সামাজিক রীতিনীতির ভয়ে, অথচ তার ভেতরে বাস করে এক শূন্যতা, যন্ত্রণার ছায়া। তখন বিচ্ছেদ নয়, সম্পর্কই হয়ে ওঠে বিষাক্ত। বিচ্ছেদ যদি কাউকে মানসিক স্বস্তি দেয়, যদি সেই সম্পর্ক আর নিজের অস্তিত্বকে মর্যাদা না দেয় তাহলে তা থেকে বেরিয়ে আসা এক সাহসী পদক্ষেপ।
বিচ্ছেদের পরে কী আসে?
* আত্মগ্লানি বা অপরাধবোধ: নিজেকে দোষী মনে হওয়া খুব সাধারণ।
* শূন্যতা: প্রতিদিনের অভ্যাসের মধ্যে যে মানুষ ছিল, সে হঠাৎ উধাও সেই শুন্যতা কাটতে সময় লাগে।
* প্রশ্ন: আমার কি কিছু ভুল ছিল?, সে কেন বদলে গেল? এই প্রশ্নগুলির উত্তর না পাওয়াই বাস্তবতা।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আসে নতুন উপলব্ধি আপনি নিজের ভালোবাসাকে পুনরায় চিনে নিতে শেখেন। জীবনে নিজের জায়গা ও চাওয়াগুলিকে গুরুত্ব দিতে শেখেন। এবং একদিন, নিজেকে নিজের সঙ্গেই পরিপূর্ণ মনে হয়। বিচ্ছেদের পরে সমাজ, পরিবার, বন্ধুবান্ধবের সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত জরুরি। এমন সময়ে কাউকে জোর করে ভুলে যাও বলার চেয়ে দরকার একটু বোঝা, মন দিয়ে শোনা। অনেকেই কাউন্সেলিংয়ের সাহায্য নিয়ে জীবনের ভারসাম্য ফেরান। সেটাও এক সুস্থ পদক্ষেপ। বিচ্ছেদ মানেই শেষ নয় তা এক নতুন অধ্যায়ের শুরু। এটি এক অভিজ্ঞতা, যা কাঁদায়, শেখায়, গড়ে তোলে। সম্পর্ক ভাঙলেও, ভালোবাসা হারায় না। ভালোবাসা নতুন রূপে ফিরে আসে নিজের মধ্যে, নিজের প্রতি, কিংবা কারও নতুন আন্তরিকতায়।