19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

কর্মক্ষেত্রে মৌখিক নির্যাতন: প্রতিবাদ জরুরি, নীরবতা নয়

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি


একটি আধুনিক অফিস, উজ্জ্বল আলো, নিয়মিত মিটিং, ফর্মাল ড্রেস-কোড, কর্পোরেট ব্যস্ততা সব কিছুই যেন এক সফল পেশাজীবনের ছাপ। কিন্তু এই চাকচিক্যের আড়ালে যদি প্রতিদিন কেউ শুনতে পান,

তুমি কিছুই পারো না,

তোমার মাথায় কিছু ঢোকে না,

এই কাজটা তো ছেলেরা ভালো করতে পারে

তবে সেই চাকরি আর পেশাগত উন্নতি নয়, হয়ে ওঠে নিরব যন্ত্রণা।

আজকের দিনে কর্মক্ষেত্রে মৌখিক নির্যাতন (Verbal Abuse) এক ভীষণ বাস্তব সমস্যা। বিশেষ করে নারী কর্মীদের ক্ষেত্রে এটি আরও সংবেদনশীল বিষয়, কারণ বহুক্ষেত্রে নিপীড়ক হয়ত একই সময়ে একজন উচ্চপদস্থ সহকর্মী, ম্যানেজার, বা এমন কেউ যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার সাহস সহজে আসে না। এই প্রতিবেদন সেই বিষয়ে কেন মৌখিক নির্যাতনকে উপেক্ষা করা নয়, বরং তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাই সময়ের দাবি।


???? মৌখিক নির্যাতন কী?

মৌখিক নির্যাতন মানে শুধুই গালাগালি নয়। এর অন্তর্গত:

অপমানজনক কথা

চিৎকার কর কথা বলা

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটাক্ষ

যোগ্যতা নিয়ে উপহাস

নারীবিদ্বেষী মন্তব্য

মজা করে তুচ্ছতাচ্ছিল্য

কাজের চাপ দিয়ে হেনস্থা করা

এগুলো হয়তো প্রথমে জোকস বা রাগের মুহূর্ত বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ক্রমাগত চলতে থাকলে তা কর্মীর আত্মবিশ্বাস, মানসিক স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতাকে ভেঙে দেয়।

???? কেন নারী কর্মীরা বেশি ভোগেন?

অনেক নারীই না বলতে দ্বিধা বোধ করেন

সামাজিকভাবে সহনশীল হওয়াটাকেই গুণ বলে শেখানো হয়

অফিসের পাওয়ার ডায়নামিক-এ প্রতিবাদ করলে চাকরি চলে যাওয়ার ভয় থাকে

নারী সহকর্মীর সাফল্যে ঈর্ষাপ্রসূত মানসিকতা থেকে অপমান করা হয়

???? মৌখিক নির্যাতনের প্রভাব কী?

১. মানসিক ক্ষতি: আত্মবিশ্বাস কমে যায়, হতাশা ও উদ্বেগ তৈরি হয়

২. কর্মক্ষমতা হ্রাস: প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও কাজের মান পড়ে যায়

৩. সহকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব: নিপীড়িত ব্যক্তি ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নেন

৪. চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত: অনেকে আর সহ্য করতে না পেরে চাকরি ছেড়ে দেন

৫. শারীরিক অসুস্থতা: দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেসের ফলে দেখা দেয় ঘুমের সমস্যা, হজমের গোলমাল, উচ্চ রক্তচাপ

???? প্রতিবাদ জরুরি কেন?

১. নিজের আত্মমর্যাদা রক্ষার্থে

আপনি যদি চুপ থাকেন, নিপীড়ক মনে করে আপনি দুর্বল। প্রতিবাদই আপনার ব্যক্তিত্বের শক্তি প্রকাশ করে।

২. অন্যরাও সাহস পাবে

আপনার প্রতিবাদ অন্যদের মুখ খুলতে সাহায্য করবে। অনেকেই ভয় বা লজ্জায় নীরব থাকেন।

৩. সংস্কৃতি বদলানোর জন্য

চুপ করে গেলে মৌখিক নির্যাতনকে অফিস সংস্কৃতির অংশ বানিয়ে ফেলা হয়। সেটাই দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় ক্ষতি।

???? কীভাবে প্রতিবাদ করবেন?

✅ তৎক্ষণাৎ না বলুন

যদি কেউ প্রকাশ্যে বা ব্যক্তিগতভাবে আপনাকে অপমান করেন, সঙ্গে সঙ্গে বলুন—

 এভাবে কথা বলা ঠিক নয়।

আপনার বক্তব্যে আমি অপমানিত বোধ করছি।

✅ লিখিতভাবে রাখুন

আপনাকে কী বলা হয়েছে, কোথায়, কে বলেছে সব লিখে রাখুন। ভবিষ্যতে অভিযোগ দায়েরের সময় কাজে আসবে।

✅ সহকর্মীদের পাশে রাখুন

যদি কেউ সাক্ষী থাকে, তাঁর কাছে সমর্থন চান। দলবদ্ধ প্রতিবাদ বেশি কার্যকর।

✅ এইচআর বা সিনিয়র অথরিটির কাছে জানান

প্রয়োজনে অফিসের মানবসম্পদ (HR) বিভাগে অভিযোগ জানান। আজ অনেক অফিসেই Anti-Harassment Policy থাকে।

✅ আইনি পদক্ষেপ বিবেচনা করুন

ভারতে কর্মক্ষেত্রে হেনস্থা প্রতিরোধে (POSH Act 2013) আইন আছে। আপনি চাইলে আইনি সাহায্য নিতে পারেন।

???? সহানুভূতিশীল অফিস সংস্কৃতির প্রয়োজন

নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের উচিত

এমন পরিবেশ তৈরি করা যেখানে কর্মীরা ভয় ছাড়াই মত প্রকাশ করতে পারেন

Training ও Workshop-এর মাধ্যমে মৌখিক হেনস্থা বিষয়ক সচেতনতা বাড়ানো

কর্মীদের মাঝে সহানুভূতি, শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক সম্মানের বার্তা ছড়ানো

কর্মক্ষেত্র হোক পেশার চূড়ান্ত বিকাশের জায়গা, নির্যাতনের নয়। কেউ যদি আপনার প্রাপ্য সম্মান কেড়ে নেয়, তবে তার প্রতিবাদ করাই আপনার নৈতিক অধিকার। মৌখিক নির্যাতন যতই তুচ্ছ মনে হোক, তার প্রভাব গভীর। সেই ক্ষত দীর্ঘস্থায়ী হয়। তাই আর নয় চুপ করে থাকা। নিজের সম্মানের জন্য, ভবিষ্যতের কর্মজীবনের জন্য, এবং সকল নারীর সম্মানজনক পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য আজই প্রতিবাদ করুন। কণ্ঠস্বর তুলুন। কারণ আপনি নীরব থাকলে, নির্যাতন আরও জোর পায়।


Archive

Most Popular