প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিনিধি
দুর্গাপূজা মানেই নতুন পোশাক, নতুন সাজ আর রঙিন উৎসবের আমেজ। শরতের আকাশে সাদা কাশফুল দুলতে শুরু করলে শহর থেকে গ্রাম সবখানেই শুরু হয় সাজের উৎসব। নতুন শাড়ি বা পোশাকের সঙ্গে মানানসই গয়না যেমন প্রয়োজন, তেমনই দরকার চুলের নিখুঁত সাজ। কারণ পুরো লুককে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত করে তোলে হেয়ারস্টাইল। তাই প্রতিবছরই উৎসবের সময় ট্রেন্ডে আসে নতুন নতুন হেয়ারস্টাইল। এই প্রবন্ধে আলোচনা করব, শারদ সাজে এখন কোন হেয়ারস্টাইলগুলি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় এবং কোন পরিস্থিতিতে কোন স্টাইল আপনাকে করে তুলবে আরও আকর্ষণীয়। পূজোর সময় বাঙালি মেয়েরা শাড়িতে নিজেদের সাজান, আবার তরুণীরা লেহেঙ্গা, গাউন বা ফিউশন ড্রেসেও নজর কাড়েন। এই ভিন্ন পোশাকের সঙ্গে হেয়ারস্টাইলও বদলে যায়।
শাড়ির সঙ্গে খোঁপা বা বেণী: ঐতিহ্যবাহী সাজের প্রতীক।
গাউনের সঙ্গে কার্লস বা খোলা চুল :আধুনিক গ্ল্যামারের প্রকাশ।
অর্থাৎ এখনকার ট্রেন্ড হলো ঐতিহ্যের ছোঁয়াকে আধুনিকতার সঙ্গে মেলানো।
দুর্গাপূজার দিনে শাড়ির সঙ্গে খোঁপা চিরকালীন প্রিয়। তবে বর্তমানে এর নতুন সংযোজন হলো খোঁপা সাজানো গাঁদা, গোলাপ বা টিউলিপ ফুল দিয়ে। সাদা শাড়ির সঙ্গে লাল গোলাপের খোঁপা বা গাঢ় রঙের শাড়ির সঙ্গে সাদা গজরার খোঁপা এই লুক এখন বিশেষ জনপ্রিয়।
উৎসবের দিনে সারা ক্ষণ ঘুরে বেড়াতে হয়, তাই আরামদায়ক কিন্তু স্টাইলিশ হেয়ারস্টাইল দরকার। লো বান সেই কাজটাই করে। এটি একদিকে ফ্যাশনেবল, অন্যদিকে চুল জটও বাঁধে না। গলা খোলা ব্লাউজ বা অফ-শোল্ডার পোশাকের সঙ্গে লো বান বিশেষ মানায়।
তরুণীদের মধ্যে সাইড ব্রেইড খুব ট্রেন্ডিং। এর সঙ্গে চুলে ছোট ছোট পার্ল পিন বা মণিমুক্তার সাজ দিলে আরও সুন্দর লাগে। কটন শাড়ি থেকে ফিউশন পোশাক সবকিছুর সঙ্গেই মানায় এই স্টাইল।
খোলা চুলের আবেদন চিরকালীন। তবে এখনকার ট্রেন্ড হলো হালকা সফট কার্লস। এর ফলে চুল ভলিউমিনাস ও স্টাইলিশ দেখায়। সন্ধ্যার অষ্টমী বা নবমীর আড্ডায় এই স্টাইল চোখে পড়ার মতো।
এটি একেবারে আধুনিক লুক, তবে পূজোর দিনে ফিউশন ড্রেসের সঙ্গে ভীষণ মানায়। সামনের অংশ একটু তুলে ক্লিপ দিয়ে আটকানো হয়, আর বাকি চুল খোলা থাকে। এর সঙ্গে সামান্য হাইলাইট থাকলে স্টাইলটি আরও আকর্ষণীয় হয়।
ঐতিহ্যবাহী সাজকে গ্ল্যামারাস করতে পাফ খোঁপা দারুণ উপযুক্ত। লাল বেনারসি বা টসরের সঙ্গে এই স্টাইল বাঙালি বউয়ের মতো আবেদন তৈরি করে। বিয়ের রীতির মতো সাজতেও অনেকেই পাফ খোঁপা ব্যবহার করেন।
এটি আধুনিক ও কুল লুক। খুব আঁটসাঁট না করে হালকা অগোছালো খোঁপা বেঁধে নেওয়া হয়। এর সঙ্গে ঝুমকো দুল বা লম্বা কানের দুল ভীষণ মানায়। নবমীর রাতে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডার জন্য একদম পারফেক্ট।
যারা খোলা চুল রাখতে চান না, তাদের জন্য ওয়েভি পোনি টেল বিশেষ জনপ্রিয়। হালকা ঢেউ খেলানো চুল পেছনে বেঁধে নিলেই তৈরি এক নতুন লুক। এটি তরুণীদের মধ্যে বেশি জনপ্রিয়।
শুধু নারীদের নয়, পূজোর সাজে পুরুষদের হেয়ারস্টাইলও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ক্লাসিক সাইড পার্ট:পাঞ্জাবি বা ধুতি-পাঞ্জাবির সঙ্গে মানায়।
আন্ডারকাট বা ফেড কাট:আধুনিক পোশাকের সঙ্গে একেবারে ট্রেন্ডিং।
টেক্সচারড লুক:হেয়ার জেল ব্যবহার করে ভলিউমিনাস স্টাইল।
শুধু হেয়ারস্টাইল নয়, এখনকার ট্রেন্ড হলো হেয়ার অ্যাকসেসরিজ ব্যবহার করা।
ফ্লোরাল ক্লিপস:শাড়ির সঙ্গে দারুণ মানায়।
পার্ল পিন:কার্ল বা বেণীর সঙ্গে ফ্যাশনেবল।
ডেকোরেটিভ ব্যান্ড:তরুণীদের ফিউশন লুকে ট্রেন্ডিং।
পূজোর আগে হেয়ারস্টাইল সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে চুলের যত্ন নেওয়া জরুরি।
নিয়মিত তেল মালিশ করুন।
শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।
হেয়ার ড্রায়ার বা স্ট্রেটনার কম ব্যবহার করুন।
চুলে হেনা বা প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহার চুলকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
ষষ্ঠী: হালকা মেকআপ, খোলা চুল বা হাফ-আপ স্টাইল।
অষ্টমী: বেনারসি শাড়ির সঙ্গে পাফ খোঁপা বা ফুলের খোঁপা।
নবমী: বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার জন্য সফট কার্লস বা মেসি বান।
দশমী: সাদা শাড়ির সঙ্গে সাইড ব্রেইড বা সিম্পল লো বান।
শারদ সাজ মানেই নতুনত্ব। তাই প্রতিবছর ট্রেন্ড বদলালেও কিছু হেয়ারস্টাইল চিরন্তন হয়ে থাকে। ফুলের খোঁপা, সাইড ব্রেইড বা সফট কার্লস—সবই সময়ে সময়ে জনপ্রিয় হয়েছে। বর্তমানে ট্রেন্ড হলো ঐতিহ্য আর আধুনিকতার সমন্বয়। তাই এই দুর্গোৎসবে আপনি শাড়ি, গাউন বা ফিউশন পোশাক যাই পরুন না কেন, মানানসই হেয়ারস্টাইল বেছে নিন। কারণ চুলের সঠিক সাজই আপনার লুককে সম্পূর্ণ করবে।