19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

ঠান্ডায় ত্বক কোমল রাখতে ৫ টি প্রাকৃতিক উপায়!

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি



ঠান্ডার মৌসুম শুরু হলেই আমাদের ত্বক, চুল, এবং শরীরের অন্যান্য অংশের যত্ন আরও গুরুত্ব পায়। শীতকালিন আবহাওয়া শুষ্কতা, খোসা ওঠা, চুল পড়া, ঠোঁট ফাটা এবং ত্বকের সামঞ্জস্যহীন রঙের মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এই সময়ে সঠিক যত্ন ও ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করলে ত্বক থাকবে কোমল, নরম এবং দীপ্তিময়। নিচে আমরা পাঁচটি প্রধান উপায় নিয়ে আলোচনা করব যা বিভিন্ন ত্বকের ধরন অনুযায়ী কার্যকর।


১. ত্বককে রাখুন হাইড্রেটেড


ঠান্ডার সময় আমাদের ত্বক প্রাকৃতিকভাবে শুষ্ক হয়ে যায়। তাই ত্বককে পর্যাপ্ত জল সরবরাহ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


ঘরোয়া রেমেডি:


শুষ্ক ত্বক: ১ চামচ অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল মাখিয়ে ১০–১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন।


তেলতেলে ত্বক: হালকা জেল বা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন।


মিশ্র ত্বক: শুকনো অংশে নারকেল তেল লাগান, তেলতেলে অংশে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করুন।



খাবার ও পানীয়:


দিনে অন্তত ৮–১০ গ্লাস জল পান করুন।


শসা, তরমুজ, কমলার রস, আপেল – এই ধরনের ফল শরীরকে হাইড্রেট রাখে।


উষ্ণ স্যুপ বা হালকা হাড়ির ঝোল শীতের সময় বিশেষভাবে উপকারী।



অতিরিক্ত যত্ন:


ঘর শুষ্ক হলে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন।


সারা দিন চুমুক চুমুক করে জল পান করুন, বিশেষত চা বা কফি কম খাওয়ার চেষ্টা করুন, কারণ এগুলি ডিহাইড্রেশন বাড়ায়।



২. ত্বক নরম রাখার জন্য ঘরোয়া স্ক্রাব ও মাস্ক


শীতকালে ত্বক নরম রাখার জন্য নিয়মিত স্ক্রাব এবং মাস্ক ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি মৃত কোষ সরিয়ে দেয় এবং ত্বককে মসৃণ রাখে।


স্ক্রাবের জন্য:


শুষ্ক ত্বক: ১ চামচ দুধ + ১ চামচ মধু + ১ চামচ ওটমিল, হালকা ঘষে ধুয়ে নিন।


তেলতেলে ত্বক: ১ চামচ দই + ১ চামচ চিনি, মৃদু ঘষুন।


মিশ্র ত্বক: ১ চামচ অ্যালোভেরা জেল + ১ চামচ চিনি + ১ চিমটি হলুদ।



মাস্কের জন্য:


শুষ্ক ত্বক: ১ চামচ অ্যালোভেরা জেল + ১ চামচ নারকেল তেল + ১ চামচ মধু।


তেলতেলে ত্বক: ১ চামচ দই + ১ চামচ হলুদ।


মিশ্র ত্বক: ১ চামচ হালকা মধু + ১ চামচ অ্যালোভেরা জেল।



পরামর্শ:


সপ্তাহে ২–৩ বার স্ক্রাব এবং মাস্ক ব্যবহার করুন।


খুব শক্ত ঘষবেন না, কারণ ঠান্ডায় ত্বক আরও সংবেদনশীল হয়।


৩. ত্বকের প্রাকৃতিক তেল এবং সিরাম ব্যবহার


শীতকালে ত্বক নিজেই পর্যাপ্ত তেল উৎপাদন করতে পারে না। তাই বাহ্যিক তেলের ব্যবহার খুব জরুরি।


প্রাকৃতিক তেল:


শুষ্ক ত্বক: নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, আর্গান অয়েল।


তেলতেলে ত্বক: হালকা জেল-ভিত্তিক সিরাম বা বাদাম তেল হালকা পরিমাণে।


মিশ্র ত্বক: শুকনো অংশে তেল, তেলতেলে অংশে হালকা সিরাম।



সিরাম এবং লোশন:


ভিটামিন C বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত সিরাম শীতকালে ত্বককে কোমল এবং দীপ্তিময় রাখে।


রাতে ঘুমানোর আগে হালকা হাইড্রেটিং লোশন ব্যবহার করুন।



অতিরিক্ত টিপস:


গোসলের পর ত্বক শুকনো হওয়ার আগে তেল বা লোশন লাগানো সবচেয়ে কার্যকর।


ঠান্ডায় বেশি গরম জলে স্নান এড়িয়ে হালকা উষ্ণ জল ব্যবহার করুন।



৪. শীতকালীন খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি


ত্বকের স্বাস্থ্য শুধুমাত্র বাহ্যিক যত্নে নয়, খাদ্যাভ্যাসেও নির্ভর করে। শীতকালে সঠিক খাবার ত্বককে নরম রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়।


পুষ্টিকর খাদ্য:


ভিটামিন E: বাদাম, সূর্যমুখীর বীজ, তিল ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে হাইড্রেটেড রাখে।


ভিটামিন C: কমলা, লেবু, কাঁঠাল, বেরি ইত্যাদি ত্বককে উজ্জ্বল রাখে।


ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: মাছ, আখরোট, চিয়া সিড ত্বককে লাবন্যময় এবং কোমল রাখে।


প্রোটিন: ডিম, দুধ, মাংস, ডাল ত্বকের কোষ পুনর্নির্মাণে সাহায্য করে।



খাবার ও পানীয়ের পরামর্শ:


চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান, কারণ এগুলো ত্বকের শুষ্কতা বাড়াতে পারে।


দিনে অন্তত একবার উষ্ণ স্যুপ বা হালকা হাড়ির ঝোল খান।


ঠান্ডায় শরীরকে উষ্ণ রাখতে আদা চা বা লেবু চা পান করুন, এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং ত্বককে রোদ লাগার মতো উজ্জ্বল রাখে।


৫. ঠান্ডা থেকে ত্বক রক্ষা ও অন্যান্য যত্ন


শীতকালে শুধু ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করা যথেষ্ট নয়, বরং বাইরের পরিবেশ থেকে রক্ষা করাও জরুরি।


ঠান্ডা থেকে রক্ষা:


বাইরে বের হওয়ার আগে হালকা লিপ বাম ব্যবহার করুন।


শীতকালে হাতে গ্লাভস, মুখে স্কার্ফ ব্যবহার করুন।


হালকা লোশন বা সিরাম চোখের চারপাশে লাগান, কারণ এখানে ত্বক সবচেয়ে সূক্ষ্ম।



ঘরোয়া মাসাজ ও আরাম:


রাতে ঘুমানোর আগে গরম জল দিয়ে হালকা ফেস স্টিম নিতে পারেন।


স্টিমের পরে অ্যালোভেরা জেল বা হালকা তেল ব্যবহার করুন।


সপ্তাহে একবার হালকা হ্যান্ড এবং ফোট কেয়ার করুন – নারকেল তেল লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন।



চুলের যত্ন:


শীতকালে চুলও শুষ্ক হয়ে যায়। নারকেল বা আর্গান অয়েল দিয়ে হালকা ম্যাসাজ করুন।


গরম জল ও হেয়ার ড্রায়ারের অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।


শীতকালে ত্বককে কোমল, হাইড্রেটেড এবং দীপ্তিময় রাখার জন্য সঠিক যত্ন অপরিহার্য। এই পাঁচটি উপায় – হাইড্রেশন, স্ক্রাব ও মাস্ক, প্রাকৃতিক তেল ও সিরাম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং ঠান্ডা থেকে রক্ষা, মিলে ত্বককে স্বাভাবিক নরম এবং স্বাস্থ্যবান রাখে। বিভিন্ন ত্বকের ধরন অনুযায়ী ঘরোয়া রেমেডি ও পুষ্টিকর খাবার নির্বাচন করলে আপনি পুরো শীতকাল জুড়ে ত্বককে কোমল এবং প্রাণবন্ত রাখতে পারবেন।


শীতের এই বিশেষ সময়ে নিজের ত্বক, চুল ও শরীরকে যত্ন দিয়ে রাখলে শীতের শুষ্কতা, ফাটাভাব ও অসহজতা থেকে মুক্ত থাকা সহজ হয়। তাই শুধু বাহ্যিক যত্ন নয়, অভ্যন্তরীণ যত্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের সামান্য সচেতনতা এবং ঘরোয়া রেমেডি ব্যবহার ত্বককে রাখবে কোমল, স্বাস্থ্যবান এবং উজ্জ্বল।

Archive

Most Popular