19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

শীতে শুরুতেই চুলের যত্নে থাক ঘরোয়া হেয়ার মাস্ক!

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি



শীতকালে বাতাসের শুষ্কতা, ঠান্ডা হাওয়া এবং কম আর্দ্রতার কারণে চুলের সমস্যার মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। চুল হয়ে যায় ভঙ্গুর, রুক্ষ এবং ঝরে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। স্ক্যাল্পেও খুশকি দেখা দিতে পারে, যা চুলকে আরও দুর্বল করে তোলে। এমন পরিস্থিতিতে চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য নিয়মিত যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যদিও বাজারে অসংখ্য হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট পাওয়া যায়, তবুও প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরোয়া হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করাই নিরাপদ এবং কার্যকর।

ঘরোয়া হেয়ার মাস্কে সাধারণত ব্যবহৃত হয় প্রাকৃতিক উপাদান যেমন নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, আভোকাডো, মধু, দই, আমলকি, হেনা এবং অন্যান্য আয়ুর্বেদিক উপাদান। এই উপাদানগুলো চুলের গোড়া থেকে কুন্ডলি পর্যন্ত পুষ্টি প্রদান করে এবং চুলকে সুস্থ, নরম ও ঝলমলে রাখে। কেমিক্যালযুক্ত প্রোডাক্টের তুলনায় প্রাকৃতিক মাস্ক চুলের ক্ষতি কমায় এবং দীর্ঘমেয়াদে চুলের স্বাস্থ্যের জন্য আরও উপকারী।

নারকেল তেল শীতের চুলের জন্য এক প্রাকৃতিক উপকারী উপাদান। এটি চুলের গোড়া থেকে চুলের প্রান্ত পর্যন্ত আর্দ্রতা প্রদান করে এবং স্ক্যাল্পের শুষ্কতা দূর করে। নিয়মিত ব্যবহারে চুল নরম ও মসৃণ থাকে। অলিভ অয়েল ভিটামিন ই সমৃদ্ধ হওয়ায় চুলকে মজবুত করে এবং ভাঙা চুল প্রতিরোধ করে। মধু প্রাকৃতিক হিউমেক্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করে এবং চুলে আর্দ্রতা ধরে রাখে, যা শীতকালে বিশেষভাবে প্রয়োজন। দই চুলের রুক্ষতা দূর করে এবং ল্যাকটিক অ্যাসিডের সাহায্যে স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখে। এছাড়াও আভোকাডো চুলের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করে এবং চুলকে আরও স্বাস্থ্যবান করে তোলে।

ঘরোয়া হেয়ার মাস্ক তৈরি করা অত্যন্ত সহজ। উদাহরণস্বরূপ, নারকেল তেল ও মধুর মাস্ক তৈরির জন্য ২ চা চামচ নারকেল তেল এবং ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে চুলের গোড়া এবং কুন্ডলিতে লাগান। প্রায় ২০ মিনিট রেখে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেললে চুল নরম ও চকচকে হয়। দই ও আভোকাডোর মাস্ক তৈরির জন্য একটি পাকা আভোকাডো মিহি করে ২ চা চামচ দই দিয়ে মিশান এবং চুলে প্রয়োগ করুন। প্রায় ৩০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেললে চুলের টেক্সচার উন্নত হয়। এছাড়াও অলিভ অয়েল ও আয়ুর্বেদিক হের্বস মাস্ক চুলে ব্যবহার করলে চুল আরও শক্তিশালী হয় এবং স্ক্যাল্প স্বাস্থ্যবান থাকে।

চুলের ধরন অনুযায়ী মাস্কের রূপ ভিন্ন হতে পারে। সাধারণ চুলের জন্য সপ্তাহে এক বা দুইবার মাস্ক প্রয়োগ করা যথেষ্ট। শুকনো চুলের জন্য নারকেল তেল ও মধুর মাস্ক বেশি কার্যকর। তৈলাক্ত চুলের জন্য দই বা আভোকাডোর মাস্ক স্ক্যাল্পের তেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ভাঙা বা ক্ষতিগ্রস্ত চুলের জন্য অলিভ অয়েল এবং আয়ুর্বেদিক হের্বস প্রয়োগ সবচেয়ে কার্যকর।

শীতকালে চুল ধোয়ার সময় গরম পানি ব্যবহার এড়ানো উচিত। গরম জল চুলের প্রাকৃতিক তেল দূর করে, যা চুলকে আরও শুকনো করে তোলে। হেয়ার ড্রায়ারের অতিরিক্ত ব্যবহারও চুলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাই প্রয়োজনে হালকা তাপ ব্যবহার করুন। রুক্ষতা কমাতে সপ্তাহে একবার ডিপ কন্ডিশনার ব্যবহার করা যেতে পারে। পর্যাপ্ত জল পান এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণও চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। বাদাম, মাছ, ডিম, সবজি এবং ফল চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

চুলের গোড়ায় হালকা ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, যা চুলের বৃদ্ধির জন্য উপকারী। মাস্ক ব্যবহারের সময় স্ক্যাল্পে ৫–১০ মিনিট হালকা ম্যাসাজ করুন। এটি শুধু চুলকে পুষ্টি দেয় না, মানসিকভাবে শিথিলতা এবং স্বাচ্ছন্দ্যও প্রদান করে।

শীতের শুষ্কতা চুলের সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে, কিন্তু নিয়মিত ঘরোয়া হেয়ার মাস্ক ব্যবহার চুলকে সুস্থ, ঝলমলে এবং শক্তিশালী রাখে। প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নেওয়া শুধু চুলকেই নয়, মানসিক স্বাচ্ছন্দ্যও বৃদ্ধি করে। তাই শীত শুরুতেই নিজের চুলের জন্য সময় দিন এবং ঘরোয়া মাস্ক ব্যবহার করে চুলকে ভালো রাখার অভ্যাস করুন।

Archive

Most Popular