19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

শরীর গরম রাখতে প্রতিদিনের খাবারে রাখুন এই ৭টি খাবার!

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি



শীতের আগমন মানেই শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা একটি চ্যালেঞ্জ। ঠান্ডা আবহাওয়া শরীরকে শিথিল এবং দুর্বল করে তোলে, তাই এই সময়ে খাদ্যাভ্যাসের দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। শুধুমাত্র উষ্ণ পোশাকই যথেষ্ট নয়, বরং আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপ ধরে রাখার জন্য সঠিক খাবার গ্রহণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন গবেষণা দেখিয়েছে যে কিছু খাবার শরীরের বিপাকীয় ক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং অভ্যন্তরীণ তাপ বজায় রাখতে সাহায্য করে। চলুন জেনে নিই সেই দশটি খাবারের কথা, যা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীর গরম এবং সুস্থ থাকে।


১. আদা (Ginger)

আদা খেলে গরম লাগে, এটি কেবল প্রচলিত ধারণা নয়, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। আদার মধ্যে থাকা জিনজেরল যৌগটি শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং হালকা তাপ উৎপন্ন করে। সকালের চা বা কফিতে এক চিমটি আদা, অথবা ভাতের সাথে আদার পেস্ট মিশিয়ে খেলে শীতকালীন তাপ বজায় রাখা সহজ হয়। আদা কেবল তাপ বাড়ায় না, এটি হজমশক্তি বাড়ায় এবং ঠান্ডা লাগা ও সর্দি-কাশির ঝুঁকিও কমায়।


২. তেজপাতা ও দারচিনি (Bay Leaf & Cinnamon)

দারচিনি ও তেজপাতা শীতকালে নানারকম রান্নায় ব্যবহার করা হয়। দারচিনির গরম প্রভাব শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপ বাড়ায় এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। তেজপাতার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। চায়ের মধ্যে বা দুধের সাথে এই মশলা ব্যবহার করলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং মনও সতেজ থাকে।


৩. লবণযুক্ত বাদাম (Roasted Nuts)

বাদাম শীতকালে শরীর গরম রাখার জন্য একটি সহজ এবং স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক। বিশেষ করে আখরোট, কাশু বা কাজু বাদাম রোস্ট করে খেলে শরীরে প্রয়োজনীয় তাপ উৎপন্ন হয়। বাদামের মধ্যে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং প্রোটিন দীর্ঘ সময়ের জন্য শরীর গরম রাখে। ছোটদের এবং বৃদ্ধদের জন্য এটি একটি দারুণ স্ন্যাক বিকল্প।


৪. হালকা মশলাযুক্ত খাবার

শীতের দিনে একটু ঝাল বা মশলাযুক্ত খাবার খেলে শরীরের বিপাক (metabolism) দ্রুত কাজ করে, যার ফলে শরীর গরম থাকে। মশলার মধ্যে কাঁচা লঙ্কা, হলুদ, জিরা, কালো মরিচ এবং ধনেপাতা ব্যবহার করলে খাবারের স্বাদ ও গরম প্রভাব দুটোই বৃদ্ধি পায়। তবে অতিরিক্ত ঝাল শরীরের ক্ষতি করতে পারে, তাই পরিমাণমতো ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।


৫. গরম স্যুপ এবং ডাল

শীতের সকালে বা বিকেলে গরম স্যুপ বা ডাল খেলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বজায় থাকে। বিশেষ করে মসুর ডাল, চানা ডাল বা সবজির স্যুপ শরীরকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ফাইবার এবং গরম শক্তি দেয়। স্যুপের সঙ্গে আদা, রসুন বা ছোট পরিমাণে মরিচ মিশালে এর গরম প্রভাব আরও বাড়ে।


৬. ঘি ও দুধ (Ghee & Milk)

শীতের খাবারে ঘি ও দুধের ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত। ঘি শরীরকে শক্তি এবং তাপ দেয়, আর দুধ পুষ্টি সমৃদ্ধ এবং হালকা গরম রাখে। দুধে এক চিমটি হলুদ বা দারচিনি মিশিয়ে খেলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ঘি ব্যবহার করে শাক-সবজি ভাজা বা রুটি তৈরি করলে শরীর গরম থাকে এবং শক্তি বজায় থাকে।


৭. রসুন ও পেঁয়াজ (Garlic & Onion)

রসুন ও পেঁয়াজ শুধু স্বাদ নয়, বরং গরম শক্তি বৃদ্ধিতেও বিশেষ কার্যকর। এগুলোর মধ্যে থাকা অ্যালিসিন যৌগ রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং শরীরকে শীতের আঘাত থেকে রক্ষা করে। রান্নার সময় রসুন ও পেঁয়াজ ব্যবহার করলে খাবারের স্বাদ বাড়ে এবং শরীর গরম থাকে।


খাদ্যাভ্যাসের ছোট কিন্তু কার্যকর টিপস

শুধু এই খাবারগুলো খাওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং খাদ্য গ্রহণের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ছোট পরিমাণে, দিনে কয়েকবার গরম খাবার গ্রহণ করলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। পর্যাপ্ত জল পান করতে হবে, তবে ঠান্ডা জল এড়িয়ে গরম বা উষ্ণ জলই পছন্দ করা উচিত। সকালের জলখাবার এবং রাতের খাবার শীতের মৌসুমে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ন।


শীতকালীন তাপমাত্রা শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। নিয়মিত গরম খাবার গ্রহণ এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস শরীরকে সুস্থ ও শক্তিশালী রাখে। উপরে উল্লিখিত ৭টি খাবার আদা, দারচিনি, বাদাম, মশলাযুক্ত খাবার, গরম স্যুপ ও ডাল, ঘি ও দুধ এবং রসুন ও পেঁয়াজ প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীর গরম থাকবে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে। শীতকালকে স্বাস্থ্যকর, উষ্ণ এবং সক্রিয়ভাবে কাটাতে এই খাবারগুলো অবশ্যই নিয়মিত অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

Archive

Most Popular