19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

শীতের পোশাকে ভ্যাপসা গন্ধ ? জেনে নিন সহজ সমাধান !

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি



শীতের মরশুমে আমরা গরম পোশাক পরি, শীত থেকে শরীরকে রক্ষা করি। তবে অনেক সময় লক্ষ্য করি যে শীতের জামা-কাপড়ের মধ্যে অপ্রিয় ভ্যাপসা বা ফ্যাঙ্গি গন্ধ তৈরি হয়। এটি শুধু অস্বস্তিকর নয়, বরং স্বাস্থ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। ভ্যাপসা গন্ধ মূলত আর্দ্রতা, ঘাম, সঞ্চিত ধুলো এবং সংক্রমণীয় ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। বিশেষ করে শীতকালে, যেখানে সূর্যের আলো সীমিত, পোশাক শুকানো দেরিতে হয়, সেখানে এই সমস্যা বেড়ে যায়। এই প্রতিবেদনে আমরা শীতকালীন পোশাকে গন্ধের কারণ, প্রতিকার, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন টিপস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

ভ্যাপসা গন্ধের কারন :

১. আর্দ্রতা ও ঘাম : শীতকালে আমরা গরম কাপড় পরি। ঘাম এবং আর্দ্রতা শোষণ করে, বিশেষ করে উলের কাপড়, সাটিন বা সিনথেটিক কাপড়ে। দীর্ঘ সময় আর্দ্র থাকলে ব্যাকটেরিয়া জন্মায়, যা ভ্যাপসা গন্ধ সৃষ্টি করে।

২. শুকানোর সমস্যা : শীতকালে সূর্যের আলো কম থাকে। বাইরে ধোয়া কাপড় শুকাতে বেশি সময় নেয়। ঘরের ভেন্টিলেশন কম থাকলে ভ্যাপসা গন্ধ আরও দ্রুত বাড়ে।

৩. ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক : কাপড়ে থাকা মাইক্রোঅর্গানিজম, যেমন ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক শীতকালে কম তাপমাত্রায় ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে উলের সোয়েটার বা মোজা, গ্লাভস এই ধরনের কাপড়ে সহজে গন্ধ তৈরি হয়।

৪. সঞ্চিত ধুলো ও ময়লা : শীতকালে আমরা বহুদিন একই জামা ব্যবহার করি। ধুলো ও ময়লা জামায় গন্ধের উৎস হতে পারে।

৫. ডিটারজেন্ট বা রিন্সের অশুদ্ধ ব্যবহার : সঠিকভাবে ধোয়া না হলে ডিটারজেন্ট বা রিন্স কাপড়ে জমে থাকে। এছাড়াও, হঠাৎ কম পানি দিয়ে ধোয়া কাপড়ে রাসায়নিক জমে যেতে পারে, যা ভ্যাপসা গন্ধ বাড়ায়।

ভ্যাপসা গন্ধ কমানোর সহজ প্রতিকার :

১. সূর্যরশ্মি ও বাতাসে শুকানো : শীতকালে যতটা সম্ভব কাপড় বাইরে শুকাতে দিন।সূর্যের আলোতে শুকানো ব্যাকটেরিয়া হত্যা করতে সাহায্য করে।যদি বাইরে না যায়, ঘরের ভাল বায়ুপ্রবাহ নিশ্চিত করুন।

২. ভিনেগার ব্যবহার : ধোয়ার সময় কাপড়ে এক কাপ সাদা ভিনেগার যোগ করুন।এটি ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক দূর করতে সাহায্য করে।গন্ধ কমাতে ভিনেগার কার্যকর।

৩. বেকিং সোডা : বেকিং সোডা কাপড়ে গন্ধ কমাতে সহায়ক।ধোয়ার আগে কাপড়ে বেকিং সোডা ছিটিয়ে রাখুন।

৪. রোদে শুকানো পরে ভেন্টিলেশনে রাখা : শুকানো কাপড় সরাসরি আলমারিতে না রাখুন।আগে কিছু সময় বাতাসে রাখতে পারেন।

৫. ফ্যাব্রিক ফ্রেশনার : বিশেষ ফ্যাব্রিক ফ্রেশনার বা স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।তবে রাসায়নিকের অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।

৬. স্টোরেজ টিপস : আলমারি বা কাপড় রাখার জায়গা শুকনো ও পরিষ্কার রাখুন।সিল্ক বা উলের জামা ব্যাগে রাখলে ভ্যাপসা গন্ধ কম হয়।ঘরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করুন।

কাপড়ের ধরন অনুযায়ী সতর্কতা :

উল ও কটন : সহজে আর্দ্র থাকে, ভালোভাবে শুকানো দরকার।

সিনথেটিক : কম শোষণ ক্ষমতা থাকলেও ভ্যাপসা গন্ধ ধরতে পারে।সিল্ক বা ডেলিকেট ফ্যাব্রিক: হালকা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে শুকানো গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্যগত প্রভাব : ভ্যাপসা গন্ধ শুধু অস্বস্তিকর নয়। ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের কারণে ত্বকে চুলকানি, এলার্জি বা সংক্রমণ হতে পারে। তাই শীতকালে কাপড়ের সঠিক পরিচর্যা স্বাস্থ্য সংরক্ষণের দিক থেকেও জরুরি।

দৈনন্দিন অভ্যাসে অন্তর্ভুক্ত করার টিপস :

1. কাপড় ব্যবহার করার পরে তাড়াতাড়ি ধোয়া।

2. একবার ব্যবহৃত জামা সরাসরি আলমারিতে না রাখা।

3. বায়ুপ্রবাহ, ভিনেগার বা বেকিং সোডা ব্যবহার।

4. জামা শীতের শেষে স্টোরেজের আগে ভালোভাবে পরিষ্কার ও শুকানো।

5. ময়লা বা ধুলোর জমা প্রতিরোধে নিয়মিত ঘর পরিষ্কার।

শীতের পোশাকে ভ্যাপসা গন্ধ একটি সাধারণ কিন্তু বিরক্তিকর সমস্যা। এটি মূলত আর্দ্রতা, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক এবং শুকানোর অভাবের কারণে হয়। সহজ প্রতিকার যেমন সূর্যের আলো, ভিনেগার, বেকিং সোডা এবং পরিষ্কার স্টোরেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে গন্ধ কমানো সম্ভব। সঠিক পরিচর্যা শুধু গন্ধ দূর করবে না, বরং পোষ্য বা মানুষের স্বাস্থ্যও রক্ষা করবে। শীতকালীন পোশাক ব্যবহারে সচেতনতা, নিয়মিত পরিষ্কার এবং সুগন্ধী ফ্যাব্রিক ফ্রেশনার ব্যবহার করলে ভ্যাপসা গন্ধের সমস্যা দূর হয় এবং শীতের জামা আরও দীর্ঘ সময় ব্যবহারযোগ্য হয়।

Archive

Most Popular