19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

পর্যটকদের ভিড় এড়িয়ে ঘুরে দেখুন ঋষিকেশের আশপাশে এই ৫টি জায়গা।

ভ্রমণ

নিজস্ব প্রতিনিধি


ঋষিকেশ, গঙ্গার তীরে অবস্থিত এই শহর শুধু যোগ এবং আধ্যাত্মিকতার জন্যই নয়, বরং অ্যাডভেঞ্চার প্রেমী পর্যটকদের জন্যও এক স্বপ্নের গন্তব্য। প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষ এখানে ভিড় জমায়, কিন্তু শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে, আরও শান্ত, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর কিছু স্থান রয়েছে যা অনেকেরই অজানা। যদি আপনি ঘোরাঘুরিতে ভিড় এড়াতে চান, অথবা প্রকৃতির সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে চান, তাহলে ঋষিকেশের আশেপাশের এই পাঁচটি জায়গা আপনার জন্য আদর্শ।

নীলা নদী ক্যানিয়ন (Neela River Canyon) ঋষিকেশ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে, হিমালয়ের গহ্বর থেকে উত্পন্ন নীলাভ জলের জন্য পরিচিত। এই ক্যানিয়নটি এতটাই শান্ত, যে আপনি প্রকৃতির শব্দ শুনতে পারবেন কেবল। নদীর তীরে বেলাশাখার ছায়া আর পাহাড়ের চূড়া এক অভিনব দৃশ্য তৈরি করে। নীলা নদী ক্যানিয়ন মূলত হাইকিং এবং ফটোগ্রাফির জন্য এক স্বর্গ। সরু পাথুরে পথ দিয়ে হেঁটে গেলে হঠাৎ একটি ছোট জলপ্রপাত দেখতে পাবেন, যা ক্যানিয়নের সৌন্দর্যকে আরও গভীর করে তোলে। এখানে পৌঁছানোর জন্য বেশিরভাগ সময় পায়ে হেঁটে অথবা স্থানীয় ট্রেকিং গাইডের সাহায্য নিতে হয়। তবে শান্ত পরিবেশ এবং অপ্রাকৃতিক ভিড় না থাকায় এটি একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা।

ঋষিকেশ শহর থেকে মাত্র ৪০ মিনিটের দূরত্বে রয়েছে ভীরসিনহা জলপ্রপাত (Veersinha Waterfall)। এটি ছোট, কিন্তু অপরূপ এবং পর্যটকদের কাছে কম পরিচিত। জলপ্রপাতের তেজ এবং পার্শ্ববর্তী সবুজ বনশোভা এক অভিনব দৃশ্য তৈরি করে। পাহাড়ি পথ ধরে হেঁটে যাওয়ার সময় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এবং উদ্ভিদ দেখতে পাবেন। জলপ্রপাতের ঠিক কাছে বসে কিছুক্ষণ সময় কাটানো মানসিক শান্তি এবং প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগের জন্য চমৎকার। এখানে ছবি তোলা এবং পিকনিকের জন্যও পর্যাপ্ত স্থান রয়েছে।

তাপোবন বায়ুপুর্ণ বন (Tapovan Breezy Forest) ঋষিকেশের কাছে সবচেয়ে শান্ত বনাঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি। এখানে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে শহরের হট্টগোল দূরে থেকে যায়। স্থানটি মূলত ট্রেকিং এবং মেডিটেশনপ্রিয় পর্যটকদের জন্য উপযুক্ত। হালকা বাতাসের সঙ্গে সবুজ বনশোভা, দূর থেকে আসা পাখির কিচিরমিচির এবং নীচে বয়ে যাওয়া ছোট নদীর শব্দ এক অভূতপূর্ব পরিবেশ তৈরি করে। প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং শান্তি উপভোগ করতে চাইলে তাপোবন বায়ুপুর্ণ বন এক চমৎকার জায়গা। এছাড়াও এখানে বিভিন্ন ছোট ট্রেইল রয়েছে যা পাহাড়ের চূড়া পর্যন্ত নিয়ে যায়, যেখানে থেকে গোটা ঋষিকেশের উপত্যকা দেখা যায়।

ঋষিকেশের নামী ল্যান্ডমার্ক রামজুল্লা ব্রিজের ঠিক পাশেই আছে এক অপ্রকাশিত সৌন্দর্যের স্থান — পাথুরে উপত্যকা (Ramjula Stone Valley)। এখানে ছোট ছোট খণ্ডিত পাথরের মাঝে দিয়ে হেঁটে যাওয়া যায়। স্থানটি মূলত দিনের আলোয় আরও সুন্দর দেখা যায়, কারণ সূর্যের আলো পাথরের ওপর পড়ে এক আলোকচিত্রের মতো পরিবেশ তৈরি করে। স্থানীয়দের মতে, এই পাথুরে উপত্যকা প্রায়শই যোগ এবং মেডিটেশনের জন্য ব্যবহৃত হয়। পর্যটকরা কম আসে, তাই আপনি সম্পূর্ণ শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে পারেন। এছাড়াও এই উপত্যকার পাশে ছোট ঝর্ণা আছে, যেখানে পা ভিজিয়ে কিছুক্ষণের বিশ্রাম নেওয়া যায়।

চন্ডী কুন্ড (Chandi Kund) ঋষিকেশ থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে, হিমালয়ের পাদদেশে লুকিয়ে থাকা এক প্রাকৃতিক জলাশয়। স্থানটি ছোট, কিন্তু অত্যন্ত চমৎকার। জলাশয়ের চারপাশে সবুজ বন, পাহাড়ের ছায়া এবং দূর থেকে আসা ছোট ঝর্ণা এক স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরি করে। চন্ডী কুন্ড মূলত স্থানীয় পর্যটক এবং প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে বেশি পরিচিত। এখানে বিশালকায় পাথরের উপরে বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এছাড়াও, কুন্ডের পানি স্বচ্ছ, তাই তাতে পা ভিজিয়ে কিছু সময় কাটানো যায়।

ঋষিকেশের এই পাঁচটি স্থান পর্যটকদের ভিড় থেকে দূরে, কিন্তু প্রকৃতির সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর জন্য আদর্শ। প্রতিটি জায়গার নিজস্ব এক সৌন্দর্য রয়েছে—চাওয়া যায় না এমন শান্তি, অপ্রাকৃতিক পরিবেশ এবং ফটোগ্রাফির জন্য অনন্য সুযোগ। এই স্থানগুলো ভ্রমণ করার সময় কিছু বিষয় মনে রাখা জরুরি, যেমন যথাযথ জুতো, পর্যাপ্ত জল, হালকা ব্যাকপ্যাক এবং স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ। এছাড়াও, এই সব স্থান একেবারে দূরবর্তী, তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সঙ্গী নিয়ে যাওয়া উত্তম।

ঋষিকেশ শুধু একটি জনপ্রিয় পর্যটন শহর নয়, বরং এর আশেপাশে লুকিয়ে থাকা অসংখ্য শান্তিপূর্ণ জায়গা পর্যটকদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা। নীলা নদী ক্যানিয়ন, ভীরসিনহা জলপ্রপাত, তাপোবন বায়ুপুর্ণ বন, রামজুল্লা পাথুরে উপত্যকা এবং চন্ডী কুন্ড—প্রতিটি জায়গা তার নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য নিয়ে আপনাকে প্রকৃতির কাছে নিয়ে যাবে। যদি আপনি ভিড় এড়িয়ে শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চান, অথবা প্রকৃতির সঙ্গে একান্তে সংযোগ স্থাপন করতে চান, তাহলে এই পাঁচটি জায়গা আপনার ভ্রমণ তালিকায় অবশ্যই থাকা উচিত। ঋষিকেশের ব্যস্ত শহরের চিত্রের বাইরে গিয়ে এই শান্তিপূর্ণ স্থানে ভ্রমণ আপনার অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করবে এবং মনে রাখার মতো স্মৃতি তৈরি করবে।


কলকাতা থেকে ঋষিকেশ যাবেন কীভাবে?

১. বিমানপথ:

কলকাতা (Netaji Subhas Chandra Bose International Airport) থেকে সরাসরি ফ্লাইটে দিল্লি পৌঁছানো যায়। ফ্লাইট সময় প্রায় ২ ঘণ্টা। দিল্লি পৌঁছানোর পর, ঋষিকেশ পর্যন্ত যাত্রা করতে হবে।

দিল্লি থেকে ঋষিকেশ:

বাস: দিল্লি থেকে ঋষিকেশে নিয়মিত সরকারি ও প্রাইভেট বাস রয়েছে। সময় প্রায় ৫–৬ ঘণ্টা।

ট্যাক্সি / প্রাইভেট কার: প্রায় ৫–৬ ঘণ্টা সময় লাগে, তবে আরামদায়ক এবং সহজ।

২. রেলপথ:

কলকাতা থেকে ঋষিকেশ পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন নেই, তবে কলকাতা থেকে হরিদ্বার বা রওলী যাওয়া যায়। হরিদ্বার পৌঁছে স্থানীয় ট্রেন বা ট্যাক্সি ব্যবহার করে ঋষিকেশে আসা যায়।

কলকাতা থেকে হরিদ্বার ট্রেন: সময় প্রায় ৩০–৩৫ ঘণ্টা।

হরিদ্বার থেকে ঋষিকেশ: স্থানীয় ট্রেন বা ট্যাক্সি ৩০–৪৫ মিনিটে পৌঁছে।

৩. সড়কপথ :

কলকাতা থেকে ঋষিকেশ প্রায় ১৫০০ কিমি দূরে, তাই সরাসরি ড্রাইভে এক রাতের যাত্রা লাগে।

বাস: কলকাতা থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত এক্সপ্রেস বা প্রাইভেট বাস, তারপর ঋষিকেশে লোকাল ট্রান্সপোর্ট।

প্রাইভেট কার বা সেলফ-ড্রাইভ: যাত্রা দীর্ঘ হলেও, পথের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

পর্যটকদের জন্য বিশেষ পরামর্শ:

১.যদি সময় কম থাকে, বিমানপথ + বাস/ট্যাক্সি সবচেয়ে আরামদায়ক।

২.বাজেট কম হলে রেলপথ বেছে নেওয়া যায়।

৩.রোড ট্রিপ পছন্দ করলে প্রাইভেট কার দিয়ে পুরো পথ উপভোগ করা যায়, তবে পূর্ব পরিকল্পনা জরুরি।

Archive

Most Popular