19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

সঠিক শ্যাম্পু বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কী কী বিষয় মাথায় রাখবেন?

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি


চুলের যত্ন এখন আর শুধু পরিচর্যার বিষয় নয় এটি স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিত্বের অংশ। বাজারে অসংখ্য ব্র্যান্ড ও ভ্যারিয়েন্টের ভিড়ে সঠিক শ্যাম্পু বেছে নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু নিজের চুল ও স্ক্যাল্পের প্রকৃতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিলে ফল মিলবে দীর্ঘস্থায়ী ও স্বাস্থ্যকর। সঠিক শ্যাম্পু বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলি মাথায় রাখতে হবে চলুন এক নজরে দেখে নিই।

১.নিজের চুলের ধরন চিনুন: শ্যাম্পু কেনার আগে প্রথমেই বুঝতে হবে আপনার চুল কেমন!

তৈলাক্ত চুল: দ্রুত তেল জমে, চুল ভারী হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে “oil control” বা “clarifying” লেখা শ্যাম্পু উপযোগী।

শুষ্ক চুল: রুক্ষ, ফ্রিজি ও প্রাণহীন লাগে। এই ক্ষেত্রে ময়েশ্চারাইজিং বা হাইড্রেটিং শ্যাম্পু বেছে নিন।

নরমাল চুল: অতিরিক্ত তেল বা শুষ্কতা নেই মাইল্ড, ব্যালান্সড শ্যাম্পুই যথেষ্ট।

কার্লি বা কোঁকড়ানো চুল: সালফেট-মুক্ত ও ময়েশ্চার সমৃদ্ধ শ্যাম্পু ভালো।

রং করা চুল: “color safe” বা “color protect” লেখা শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত।

২.স্ক্যাল্পের অবস্থা বিবেচনা করুন: অনেক সময় চুল নয়, সমস্যার মূল স্ক্যাল্পে।খুশকি থাকলে অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু বেছে নিন।চুল পড়ার সমস্যা থাকলে বায়োটিন, ক্যাফেইন বা কেরাটিন সমৃদ্ধ শ্যাম্পু উপকারী হতে পারে।সংবেদনশীল স্ক্যাল্প হলে প্যারাবেন ও কড়া কেমিক্যাল-মুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো।

৩.উপাদানের তালিকা পড়ে নিন: শ্যাম্পুর বোতলের পিছনে থাকা উপাদান তালিকা পড়া অভ্যাস করুন।

সালফেট (SLS/SLES): বেশি ফেনা তৈরি করে, কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহার চুল শুষ্ক করতে পারে।

প্যারাবেন: সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়; অনেকে এটি এড়াতে চান।

সিলিকন: চুল মসৃণ করে, কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহারে বিল্ড-আপ তৈরি হতে পারে।আজকাল অনেকেই প্রাকৃতিক উপাদানযুক্ত শ্যাম্পুর দিকে ঝুঁকছেন যেমন আমলা, অ্যালোভেরা, নারকেল তেল ইত্যাদি।

৪.চুল ধোয়ার অভ্যাস: আপনি কত ঘন ঘন চুল ধুয়ে থাকেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।প্রতিদিন চুল ধুলে মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।সপ্তাহে ২–৩ দিন ধুলে একটু গভীর ক্লিনজিং শ্যাম্পু চলতে পারে।

৫.আবহাওয়া ও জীবনযাপন : গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় তৈলাক্ত ভাব বেশি হলে লাইটওয়েট শ্যাম্পু ভালো।দূষণ বেশি হলে অ্যান্টি-পলিউশন বা ডিপ ক্লিনজিং শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে।নিয়মিত হেয়ার স্টাইলিং (হিট, স্প্রে, জেল) করলে রিপেয়ারিং শ্যাম্পু বেছে নিন।

৬.বিজ্ঞাপনের মোহ নয়, প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার: টেলিভিশন বা সোশ্যাল মিডিয়ার বিজ্ঞাপন দেখে নয়, নিজের চুলের প্রয়োজন বুঝে শ্যাম্পু নির্বাচন করুন। ব্র্যান্ড বড় হলেই যে সেটি আপনার জন্য উপযুক্ত হবে, এমন নয়।


৭.প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: যদি দীর্ঘদিন ধরে চুল পড়া, চুলকানি বা স্ক্যাল্প ইনফেকশনের সমস্যা থাকে, তাহলে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।

সঠিক শ্যাম্পু মানেই কেবল সুগন্ধি ফেনা নয় বরং চুল ও স্ক্যাল্পের সঠিক যত্ন। নিজের চুলের ধরন, উপাদান ও ব্যবহার পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন থাকলে চুল থাকবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত। মনে রাখবেন, সব চুল একরকম নয় তাই যত্নও হতে হবে ব্যক্তিগত ও সচেতন। চুল সুন্দর রাখতে শ্যাম্পু বেছে নেওয়াটাই হোক আপনার প্রথম সঠিক পদক্ষেপ।

Archive

Most Popular