বাড়িঘর
নিজস্ব প্রতিনিধি
রান্নাঘরে পিঁপড়ের দৌরাত্ম্য? জেনে নিন এই পাঁচ সহজ টোটকা!
রান্নাঘর মানেই খাবারের সুবাস, মশলার ঘ্রাণ আর পরিবারের যত্নের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু এই উষ্ণ ও সুরভিত পরিবেশই অনেক সময় পিঁপড়েদেরও আকর্ষণ করে। বিশেষ করে গরমকাল ও বর্ষায় চিনি, মিষ্টি, বিস্কুট, এমনকি ভাতের হাঁড়িতেও পিঁপড়ের সারি দেখা যায়। একবার বাসা বাঁধলে তাদের তাড়ানো বেশ কঠিন মনে হয়। তবে রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার না করেও কিছু সহজ, ঘরোয়া উপায়ে পিঁপড়ের দৌরাত্ম্য কমানো সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক পাঁচটি কার্যকর ও সহজ টোটকা।
১. লেবুর রস ও খোসা: প্রাকৃতিক প্রতিরোধক :পিঁপড়েরা তীব্র গন্ধ সহ্য করতে পারে না। লেবুর সাইট্রাস গন্ধ তাদের পথচিহ্ন নষ্ট করে দেয়।
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
দরজার কোণা, জানালার ধারে বা যেখানে পিঁপড়ে ঢোকে সেখানে লেবুর রস ছিটিয়ে দিন।লেবুর খোসা শুকিয়ে গুঁড়ো করে ছড়িয়ে রাখলেও উপকার পাবেন।এতে পিঁপড়েরা সেই পথ এড়িয়ে চলে।
২. দারুচিনি ও লবঙ্গের গুঁড়ো : রান্নাঘরের মশলার ডিব্বাতেই আছে সমাধান। দারুচিনি ও লবঙ্গের তীব্র সুগন্ধ পিঁপড়ে দূরে রাখে।
ব্যবহারবিধি: যেখানে পিঁপড়ের আনাগোনা বেশি, সেখানে সামান্য দারুচিনির গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন।লবঙ্গ কয়েকটি কোণায় রেখে দিন।এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও নিরাপদ উপায়!
৩. ভিনিগার ও জল মিশ্রণ : ভিনিগারের গন্ধ পিঁপড়ের রাসায়নিক পথচিহ্ন মুছে দেয়।সমপরিমাণ সাদা ভিনিগার ও জল মিশিয়ে স্প্রে বোতলে ভরুন।রান্নাঘরের মেঝে, সিঙ্কের ধারে বা তাকের কোণায় স্প্রে করুন।প্রতিদিন একবার করলে ভালো ফল মিলবে।
৪. বোরিক পাউডার ও চিনি: এটি একটু শক্তিশালী পদ্ধতি।অল্প বোরিক পাউডারের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে ছোট প্লেটে রেখে দিন।পিঁপড়েরা চিনি টানবে এবং ধীরে ধীরে উপদ্রব কমবে।
সতর্কতা: বাড়িতে ছোট বাচ্চা বা পোষ্য থাকলে এই পদ্ধতি ব্যবহার করার আগে সাবধানতা অবলম্বন করুন।
৫. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টোটকা, রান্নাঘর সবসময় পরিষ্কার রাখা। চিনি, মিষ্টি, বিস্কুট এয়ারটাইট ডিব্বায় রাখুন। মেঝেতে খাবারের কণা পড়ে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করুন। সিঙ্কে জমে থাকা বাসন বেশি সময় ফেলে রাখবেন না। পিঁপড়েরা খাবারের গন্ধেই আসে। তাই উৎস বন্ধ করাই সেরা সমাধান।
অতিরিক্ত কিছু পরামর্শ: দেয়ালের ফাঁক বা মেঝের চির ধরলে সেগুলি সিল করে দিন।নর্দমা বা ড্রেন পরিষ্কার রাখুন।বর্ষাকালে বিশেষ সতর্ক থাকুন।
রান্নাঘরে পিঁপড়ের দৌরাত্ম্য বিরক্তিকর হলেও আতঙ্কের কিছু নেই। ঘরোয়া কিছু সহজ উপায় আর নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। রাসায়নিকের ওপর নির্ভর না করে প্রাকৃতিক টোটকায় ভরসা রাখুন—রান্নাঘর থাকবে নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও স্বস্তিদায়ক। পরিবারের সুস্থতার জন্য ছোট ছোট সচেতনতাই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।