11th Jun 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

গরমে বারবার অসুস্থ হচ্ছেন? রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কী খাবেন?

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি


গরম পড়লেই অনেকের শরীরে একের পর এক সমস্যা দেখা দেয়—ক্লান্তি, জ্বর, সর্দি-কাশি, পেটের গোলমাল কিংবা ডিহাইড্রেশন। বিশেষ করে অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় শরীর দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি কমে যায়। ফলে সামান্য সংক্রমণও সহজে শরীরে বাসা বাঁধে। এই সময় শুধু বাইরে থেকে যত্ন নিলেই হয় না, ভেতর থেকেও শরীরকে শক্তিশালী করে তুলতে হয়—আর তার জন্য সঠিক খাবারের বিকল্প নেই। ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে জল ও হাইড্রেশনের উপর। গরমে শরীর থেকে প্রচুর জল বেরিয়ে যায় ঘামের মাধ্যমে, ফলে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে। তাই দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল পান করা অত্যন্ত জরুরি। শুধু জল নয়, ডাবের জল, লেবুর শরবত, বাড়িতে তৈরি ওরাল ড্রিঙ্ক—এসবও শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ করে। হাইড্রেশন ঠিক থাকলে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাও ভালো থাকে।

ভিটামিন C সমৃদ্ধ খাবার গরমকালে বিশেষভাবে উপকারী। লেবু, কমলালেবু, আমলকি, কিউই, আঙুর—এই ফলগুলো শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বাড়ায় এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। প্রতিদিনের ডায়েটে এই ধরনের ফল রাখা গেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই বাড়ে। গরমকালে হালকা, সহজপাচ্য খাবার খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার শরীরকে আরও ক্লান্ত করে তোলে এবং হজমের সমস্যা বাড়ায়। তাই ডাল, ভাত, সেদ্ধ সবজি, খিচুড়ি বা স্যুপের মতো খাবার বেশি খাওয়া উচিত। এগুলো শরীরকে পুষ্টি দেয়, আবার হজমেও সহজ। দই গরমের জন্য একটি আদর্শ খাবার। এতে প্রোবায়োটিক থাকে, যা পেটের ভালো ব্যাকটেরিয়াকে শক্তিশালী করে এবং হজমশক্তি বাড়ায়। একটি সুস্থ গাট বা অন্ত্রই ভালো ইমিউনিটির ভিত্তি। প্রতিদিন এক বাটি দই খেলে পেটের সমস্যা কমে এবং শরীর ভেতর থেকে শক্তিশালী হয়।

সবুজ শাকসবজি যেমন পালং শাক, লাল শাক, লাউ, ঝিঙে—এই সবজি গুলোতে প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল থাকে। এগুলো শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে। গরমে ভারী খাবারের বদলে এই ধরনের সবজি বেশি করে খাওয়া উচিত। গরমে ফলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরমুজ, বাঙ্গি, শসা—এই ধরনের জলসমৃদ্ধ ফল শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং একই সাথে পুষ্টিও জোগায়। এগুলো শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। প্রোটিনও ইমিউনিটির জন্য অপরিহার্য। ডিম, ডাল, ছোলা, পনির বা মাছ—এই খাবারগুলো শরীরের কোষ গঠনে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গরমে হালকা প্রোটিন সোর্স বেছে নেওয়াই ভালো।

এছাড়া আদা, হলুদ, রসুনের মতো প্রাকৃতিক উপাদানও ইমিউনিটি বাড়াতে কার্যকর। এগুলোতে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে, যা শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। প্রতিদিনের রান্নায় এই উপাদানগুলো ব্যবহার করলে শরীর আরও সুরক্ষিত থাকে। চিনি ও প্রসেসড ফুড যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। অতিরিক্ত চিনি শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে দেয়। তাই কোল্ড ড্রিঙ্ক, প্যাকেটজাত খাবার বা   অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার কম খাওয়াই ভালো। শুধু খাবার নয়—লাইফস্টাইলও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ কম রাখা—এই সবকিছু মিলিয়েই তৈরি হয় একটি শক্তিশালী ইমিউন সিস্টেম। গরমে বারবার অসুস্থ হওয়া খুব সাধারণ সমস্যা, কিন্তু সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এটিকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। জল, ফল, শাকসবজি, প্রোটিন—এই সহজ উপাদানগুলোই আপনার শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে তুলতে পারে। নিজের শরীরকে ভালোবাসুন, সঠিক খাবার বেছে নিন—আর গরমেও থাকুন সুস্থ ও সতেজ।

Archive

Most Popular