11th Jun 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

রান্নাঘরে গ্যাসের খরচ কমাতে কী করবেন? রইলো সহজ কিছু কিচেন হ্যাক।

রান্নাঘর

নিজস্ব প্রতিনিধি


বর্তমান সময়ে সংসারের খরচের তালিকায় রান্নার গ্যাস একটি বড় অংশ দখল করে নিয়েছে। প্রতিদিনের রান্না, বারবার চা-কফি তৈরি কিংবা অযথা গ্যাস জ্বালিয়ে রাখার কারণে অনেক সময় অজান্তেই গ্যাস দ্রুত শেষ হয়ে যায়। ফলে মাসের বাজেটেও বাড়তি চাপ পড়ে। তবে সামান্য সচেতনতা এবং কিছু সহজ কিচেন হ্যাক মেনে চললেই গ্যাসের ব্যবহার অনেকটাই কমানো সম্ভব। অনেকেই মনে করেন গ্যাস বাঁচাতে গেলে রান্নায় অসুবিধা হবে। কিন্তু বাস্তবে রান্নার কিছু ছোট অভ্যাস বদলালেই সময়ও বাঁচে, গ্যাসের খরচও কমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নাঘরে পরিকল্পনা করে কাজ করাই গ্যাস সাশ্রয়ের সবচেয়ে বড় উপায়।

গ্যাস বাঁচানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল রান্না শুরু করার আগে সব উপকরণ প্রস্তুত রাখা। অনেক সময় দেখা যায় গ্যাস জ্বালিয়ে রেখে তবেই সবজি কাটা, মশলা খোঁজা বা অন্য কাজ করা হচ্ছে। এতে অযথাই অনেক গ্যাস নষ্ট হয়। তাই রান্না শুরু করার আগে প্রয়োজনীয় সব উপকরণ হাতের কাছে গুছিয়ে রাখলে সময় ও গ্যাস— দুটোই বাঁচে। প্রেশার কুকারের ব্যবহার গ্যাস সাশ্রয়ের অন্যতম কার্যকর উপায়। ডাল, আলু, মাংস কিংবা ভাত— অনেক খাবারই কুকারে দ্রুত সেদ্ধ হয়ে যায়। এতে রান্নার সময় অনেক কম লাগে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খোলা পাত্রে দীর্ঘক্ষণ রান্নার তুলনায় প্রেশার কুকারে অনেক কম গ্যাস খরচ হয়। রান্নার সময় পাত্র ঢেকে রাখা অত্যন্ত জরুরি। ঢাকনা ছাড়া রান্না করলে তাপ দ্রুত বেরিয়ে যায় এবং খাবার সেদ্ধ হতেও বেশি সময় লাগে। কিন্তু ঢাকনা ব্যবহার করলে তাপ পাত্রের ভিতরেই থাকে, ফলে রান্না দ্রুত হয় এবং গ্যাস কম লাগে। অনেকেই বড় বার্নারে ছোট পাত্র বসিয়ে রান্না করেন। এতে গ্যাসের আগুন পাত্রের বাইরে ছড়িয়ে গিয়ে অপচয় হয়। তাই পাত্রের আকার অনুযায়ী বার্নার ব্যবহার করা উচিত। ছোট রান্নার জন্য ছোট বার্নার ব্যবহার করলে গ্যাস অনেকটাই সাশ্রয় হয়।

খাবার রান্নার আগে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখাও একটি কার্যকর উপায়। যেমন ডাল, ছোলা, রাজমা বা চাল আগে থেকে ভিজিয়ে রাখলে দ্রুত সেদ্ধ হয়। এতে রান্নার সময় কমে যায় এবং গ্যাসও কম খরচ হয়। ফ্রিজ থেকে সরাসরি খাবার বের করে গরম করতে গেলে বেশি সময় লাগে। তাই রান্নার কিছুক্ষণ আগে খাবার বাইরে রেখে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনা ভালো। এতে গরম করতেও কম গ্যাস লাগে। বর্তমানে অনেকেই একসঙ্গে একাধিক রান্না করার বদলে বারবার গ্যাস জ্বালান। কিন্তু পরিকল্পনা করে রান্না করলে গ্যাস অনেকটাই বাঁচানো সম্ভব। যেমন একবারে ডাল, তরকারি বা সেদ্ধর কাজ একসঙ্গে করে রাখলে পরে বারবার গ্যাস ব্যবহার করতে হয় না।

বার্নার পরিষ্কার রাখাও অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় বার্নারের ছিদ্রে ময়লা জমে আগুন ঠিকমতো বেরোয় না। ফলে রান্না ধীরে হয় এবং বেশি গ্যাস খরচ হয়। নিয়মিত বার্নার পরিষ্কার করলে আগুন সমানভাবে জ্বলে এবং রান্নাও দ্রুত হয়। কম আঁচে দীর্ঘক্ষণ রান্না করার বদলে প্রয়োজন অনুযায়ী আঁচ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। খাবার ফুটে উঠলে অনেক সময় কম আঁচেই রান্না হয়ে যায়। সবসময় বেশি আঁচ ব্যবহার করলে শুধু গ্যাসই বেশি খরচ হয় না, খাবার পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।

রান্নাঘরের পাত্র নির্বাচনও গ্যাস সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমতল ও মোটা তলার পাত্রে তাপ ভালোভাবে ছড়ায় এবং খাবার দ্রুত রান্না হয়। খুব পাতলা বা বেঁকে যাওয়া পাত্রে রান্না করলে তাপ ঠিকমতো ছড়ায় না। অনেক বাড়িতে চা বা দুধ বারবার গরম করার অভ্যাস রয়েছে। এটিও গ্যাস অপচয়ের একটি বড় কারণ। তাই যতটা প্রয়োজন ততটাই তৈরি করা ভালো। বর্তমানে ইন্ডাকশন ওভেন বা ইলেকট্রিক কেটলিও অনেকেই ব্যবহার করছেন ছোটখাটো রান্না বা জল গরম করার জন্য। এতে অনেক ক্ষেত্রে গ্যাসের ব্যবহার কমানো সম্ভব হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, গ্যাস সাশ্রয় মানে শুধু টাকা বাঁচানো নয়, এটি শক্তির অপচয় কমানোরও একটি উপায়। ছোট ছোট সচেতনতাই দীর্ঘমেয়াদে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। রান্নাঘরের কাজ যত বেশি পরিকল্পনা করে করা যায়, ততই সময়, শ্রম এবং গ্যাস— সবকিছুরই সাশ্রয় হয়। তাই প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাস বদলালেই মাসের শেষে গ্যাসের খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

Archive

Most Popular