স্বাস্থ্য
নিজস্ব প্রতিনিধি
গরম পড়লেই অনেকের চুলে অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব দেখা দেয়। সকালে চুল ধোয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্ক্যাল্প চিটচিটে হয়ে যাচ্ছে, চুল ফ্ল্যাট দেখাচ্ছে, ধুলো দ্রুত জমছে কিংবা মাথায় অস্বস্তি লাগছে— এই সমস্যাগুলো গ্রীষ্মকালে খুবই সাধারণ। বিশেষ করে যাঁদের স্ক্যাল্প স্বাভাবিকভাবেই অয়েলি, তাঁদের জন্য গরমের সময় পরিস্থিতি আরও বেশি বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত ঘাম, ধুলো, দূষণ এবং গরমের কারণে স্ক্যাল্পের তেল উৎপাদন বেড়ে যায়। ফলে শুধু চুল তৈলাক্ত দেখায় না, অনেক সময় খুশকি, চুল পড়া বা স্ক্যাল্পে চুলকানির সমস্যাও বাড়তে পারে। তাই শুধু বারবার শ্যাম্পু করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। বরং সঠিক যত্ন এবং কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে চললে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের সময় চুলের যত্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখা। তবে অতিরিক্ত শ্যাম্পু করাও ঠিক নয়। অনেকেই দিনে একাধিকবার চুল ধুয়ে ফেলেন, যা স্ক্যাল্পকে আরও বেশি তেল উৎপাদনে উৎসাহিত করতে পারে। তাই হালকা ও মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করে নিয়ম মেনে চুল পরিষ্কার করাই ভালো।
গরমে চুলের তৈলাক্ত ভাব কমাতে লেবু অত্যন্ত কার্যকর একটি ঘরোয়া উপাদান। লেবুর মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক অ্যাসিড স্ক্যাল্পের অতিরিক্ত তেল কমাতে সাহায্য করে। এক কাপ জলে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে চুল ধোয়ার পরে ব্যবহার করলে স্ক্যাল্প অনেক বেশি ফ্রেশ অনুভূত হয়। তবে সরাসরি বেশি পরিমাণ লেবু ব্যবহার করলে স্ক্যাল্প শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, তাই পরিমিত ব্যবহার জরুরি। অ্যালোভেরা জেলও তৈলাক্ত স্ক্যাল্পের জন্য খুব উপকারী। এটি স্ক্যাল্পকে ঠান্ডা রাখে এবং অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সপ্তাহে এক-দু’দিন অ্যালোভেরা জেল স্ক্যাল্পে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেললে চুল অনেক হালকা ও সতেজ লাগে। অনেকেই গরমে বেশি করে চুলে তেল ব্যবহার করেন। কিন্তু অতিরিক্ত তেল লাগালে স্ক্যাল্প আরও চিটচিটে হয়ে যেতে পারে। তাই গরমের সময় খুব ভারী তেলের বদলে হালকা তেল অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা ভালো।
মেথি ভেজানো জলও চুলের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। রাতে মেথি ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই জল দিয়ে চুল ধুলে স্ক্যাল্প পরিষ্কার থাকে এবং তেলতেলে ভাবও কিছুটা কমে। গরমে ধুলো ও ঘামের কারণে চুল দ্রুত নোংরা হয়ে যায়। তাই বাইরে বেরোলে চুল বেঁধে রাখা ভালো। এতে চুলে কম ধুলো জমে এবং স্ক্যাল্পও তুলনামূলক পরিষ্কার থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাইরের যত্ন নয়, খাদ্যাভ্যাসও চুলের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত তেল-মশলাদার খাবার, কম জল খাওয়া বা অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণেও স্ক্যাল্প বেশি অয়েলি হয়ে উঠতে পারে।
তাই পর্যাপ্ত জল খাওয়া, ফল ও সবুজ শাকসবজি খাওয়া এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখা জরুরি। গরমের সময় শরীরের ভেতরের ভারসাম্য ঠিক থাকলে তার প্রভাব চুলের উপরও পড়ে। অনেকেই তৈলাক্ত চুল ঢাকতে ড্রাই শ্যাম্পু ব্যবহার করেন। এটি সাময়িকভাবে চুলকে ফ্রেশ দেখাতে সাহায্য করলেও অতিরিক্ত ব্যবহার স্ক্যাল্পের জন্য সবসময় ভালো নয়। তাই প্রাকৃতিক যত্নের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়াই ভালো। ভেজা চুল দীর্ঘক্ষণ বেঁধে রাখাও ঠিক নয়। এতে স্ক্যাল্পে ঘাম জমে সংক্রমণ বা দুর্গন্ধের সমস্যা হতে পারে। তাই চুল ভালোভাবে শুকিয়ে তবেই বাঁধা উচিত। চিরুনি পরিষ্কার রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নোংরা চিরুনি ব্যবহার করলে তেল ও ধুলো আবার স্ক্যাল্পে ফিরে আসে। তাই নিয়মিত চিরুনি পরিষ্কার করা দরকার।
অনেক সময় অতিরিক্ত স্ট্রেস বা হরমোনের পরিবর্তনের কারণেও স্ক্যাল্প বেশি তৈলাক্ত হয়ে যেতে পারে। তাই সমস্যা খুব বেশি বাড়লে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তৈলাক্ত চুল মানেই অপরিষ্কার চুল নয়। গরমের সময় শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণেও এই সমস্যা হতে পারে। তাই অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে নিয়মিত যত্ন নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। গরমে চুলের যত্নে খুব জটিল কিছু দরকার হয় না। সামান্য সচেতনতা, সঠিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়ই চুলকে অনেক বেশি ফ্রেশ, হালকা ও স্বাস্থ্যকর রাখতে সাহায্য করতে পারে।