11th Jun 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

টয়লেটে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ব্যবহার? জানেন কোন বাস্তুদোষ ডেকে আনছেন?

বাড়িঘর

নিজস্ব প্রতিনিধি


বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন যেন মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত প্রায় সবসময়ই হাতে মোবাইল থাকে। এমনকি অনেকেই এখন টয়লেটে গেলেও মোবাইল সঙ্গে নিয়ে যান। সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা, ভিডিও দেখা, গেম খেলা কিংবা অফিসের কাজ— টয়লেটে বসেই দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার করা বহু মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য নয়, মানসিক ও বাস্তুর দিক থেকেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেকের বিশ্বাস। বাস্তুশাস্ত্রে টয়লেটকে বাড়ির এমন একটি অংশ হিসেবে ধরা হয় যেখানে নেগেটিভ এনার্জির প্রবাহ তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই সেখানে দীর্ঘ সময় কাটানো বা ব্যক্তিগত শক্তিকে অযথা আটকে রাখা শুভ বলে মনে করা হয় না। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, মোবাইল ফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের ব্যক্তিগত শক্তি, কাজ এবং মানসিক অবস্থার সঙ্গেও জড়িত। তাই টয়লেটের মতো স্থানে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করলে সেই নেগেটিভ এনার্জি জীবনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেকে মনে করেন।

বিশ্বাস করা হয়, এর ফলে মনোযোগ কমে যাওয়া, কাজের প্রতি অনীহা, সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা কিংবা অকারণ মানসিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। যদিও এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবুও বহু মানুষ বাস্তুশাস্ত্রের এই ধারণাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তবে শুধুমাত্র বাস্তু নয়, চিকিৎসকদের মতে এই অভ্যাসের বাস্তব শারীরিক ক্ষতিও রয়েছে। দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকলে শরীরের নিচের অংশে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলে পাইলস, কোষ্ঠকাঠিন্য বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অনেক সময় মানুষ বুঝতেই পারেন না কতটা সময় কেটে যাচ্ছে। মোবাইলে ডুবে থাকার কারণে টয়লেটে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি সময় কাটে, যা শরীরের জন্য মোটেও ভালো নয়। এছাড়া টয়লেট এমন একটি জায়গা যেখানে প্রচুর জীবাণু থাকে। মোবাইল ফোন সেখানে ব্যবহার করলে সেই জীবাণু সহজেই ফোনের স্ক্রিনে জমে যায়। পরে সেই ফোন মুখ, হাত বা বিছানায় ব্যবহারের মাধ্যমে জীবাণু শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল ফোন নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেটি জীবাণুর বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে। তাই টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করার অভ্যাস কমানোই সবচেয়ে নিরাপদ।

বাস্তুশাস্ত্রে আরও বলা হয়, দিনের শুরু বা শেষ যদি দীর্ঘ সময় টয়লেটে মোবাইল ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে হয়, তাহলে তা মানসিক শক্তির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এতে মন আরও বেশি অস্থির ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বর্তমানে অনেকেই দিনের শুরুতেই সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করতে করতে সময় নষ্ট করেন। ফলে কাজের প্রতি মনোযোগ কমে যায় এবং অকারণ মানসিক চাপও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টয়লেট এমন একটি জায়গা যেখানে শরীরকে স্বাভাবিকভাবে সময় দেওয়া উচিত, মোবাইলে মন আটকে রাখা নয়। এতে শরীর ও মন দুটোই অপ্রয়োজনীয় চাপের মধ্যে পড়ে।

এই অভ্যাস বদলাতে চাইলে প্রথমে সচেতন হওয়া জরুরি। টয়লেটে মোবাইল নিয়ে না যাওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। প্রথমদিকে কঠিন মনে হলেও ধীরে ধীরে এটি সম্ভব। অনেকেই বলেন, মোবাইল ছাড়া টয়লেটে সময় কাটানো বিরক্তিকর লাগে। কিন্তু বাস্তবে এটি শরীর ও মনের জন্য অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। বাস্তুশাস্ত্র বিশ্বাস করুন বা না করুন, একটি বিষয় স্পষ্ট— অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবন ও স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলছে। তাই ছোট ছোট অভ্যাসের পরিবর্তনও দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকার এনে দিতে পারে।

বর্তমান সময়ে ডিজিটাল ডিটক্স বা কিছু সময় মোবাইল থেকে দূরে থাকার পরামর্শও বিশেষজ্ঞরা দিচ্ছেন। টয়লেট সেই শুরু করার অন্যতম সহজ জায়গা হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করার জন্য, জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নয়। তাই মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সচেতন সীমাবদ্ধতা তৈরি করা দরকার। কারণ কখনও কখনও ছোট একটি অভ্যাসই অজান্তে শরীর, মন এবং দৈনন্দিন জীবনের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Archive

Most Popular