11th Jun 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

দিনের বেশিরভাগ সময় AC-তে কাটান? ফুসফুসের সঙ্গে ত্বকেরও ক্ষতি হচ্ছে নীরবে!

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি


প্রচণ্ড গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর বা এসি এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। বাড়ি, অফিস, শপিং মল, গাড়ি—প্রায় সর্বত্রই এসির ব্যবহার বেড়েছে। গরম থেকে স্বস্তি পাওয়ার জন্য এটি নিঃসন্দেহে কার্যকর হলেও দিনের অধিকাংশ সময় এসির মধ্যে কাটানোর কিছু নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় এসির পরিবেশে থাকলে শুধু ফুসফুস নয়, ত্বক, চোখ এবং শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

এসি ঘরের বাতাসকে ঠান্ডা করার পাশাপাশি বাতাসের আর্দ্রতাও কমিয়ে দেয়। ফলে ঘরের পরিবেশ অনেক বেশি শুষ্ক হয়ে যায়। এই শুষ্ক বাতাস প্রথমেই প্রভাব ফেলে আমাদের ত্বকের ওপর। ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধীরে ধীরে কমে যায়, যার ফলে ত্বক রুক্ষ, টানটান এবং নিস্তেজ দেখাতে শুরু করে। অনেকের ক্ষেত্রে চুলকানি, খসখসে ভাব বা সংবেদনশীলতা বাড়তেও দেখা যায়। যাঁদের আগে থেকেই একজিমা বা শুষ্ক ত্বকের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। চোখও এসির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘ সময় এসির মধ্যে থাকলে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়। ফলে চোখে জ্বালা, শুষ্কতা, লালভাব বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘক্ষণ কাজ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে।

শুধু ত্বক বা চোখ নয়, শ্বাসতন্ত্রও এসির পরিবেশে প্রভাবিত হতে পারে। অতিরিক্ত ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস অনেকের নাক ও গলার শ্লেষ্মা ঝিল্লিকে শুষ্ক করে দেয়। এর ফলে গলাব্যথা, নাক বন্ধ হওয়া, হাঁচি বা কাশির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাঁদের হাঁপানি, অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টের প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এসির ঠান্ডা বাতাস উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এসির ফিল্টারের পরিচ্ছন্নতা। অনেক সময় দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করা ফিল্টারে ধুলো, ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য অ্যালার্জিজনিত উপাদান জমে থাকে। এগুলি বাতাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, অ্যালার্জি বা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত এসির সার্ভিসিং ও ফিল্টার পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি।

এসি-নির্ভর জীবনযাপনের আরেকটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হল বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে শরীরের খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়া। দীর্ঘ সময় ঠান্ডা পরিবেশে থাকার পর হঠাৎ বাইরে বেরোলে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। অনেকেই মাথাব্যথা, ক্লান্তি বা অস্বস্তি অনুভব করেন। বারবার তাপমাত্রার এই পরিবর্তন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে এসি ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হবে। বরং সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করাই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা সাধারণত ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এসি চালানোর পরামর্শ দেন। খুব কম তাপমাত্রা শরীরের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। পাশাপাশি ঘরে পর্যাপ্ত জলপান, ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং প্রয়োজনে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে।

দিনে কয়েকবার এসি ঘর থেকে বেরিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশে কিছু সময় কাটানোও উপকারী। এতে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সক্রিয় থাকে। একই সঙ্গে জানালা খুলে ঘরে কিছুটা প্রাকৃতিক বাতাস প্রবেশের সুযোগ দিলে ঘরের বাতাসও তুলনামূলকভাবে সতেজ থাকে। গরম থেকে বাঁচতে এসি অবশ্যই কার্যকর, তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহার শরীরের জন্য সবসময় উপকারী নয়। সামান্য সচেতনতা এবং কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে এসির আরামও পাওয়া যাবে, আবার ত্বক, ফুসফুস ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যেরও সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

Archive

Most Popular