6th Oct 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

বিশেষ দিনে বাবা-মাকে কীভাবে স্পেশাল ফিল করাবেন? রইল ১০টি সহজ অথচ হৃদয়ছোঁয়া উপায়।

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি


বাবা-মা আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের মধ্যে অন্যতম। ছোটবেলা থেকে বড় হয়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে তাঁদের ভালোবাসা, ত্যাগ এবং পরিশ্রম আমাদের পথ দেখায়। কিন্তু ব্যস্ত জীবনের চাপে অনেক সময় তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার সুযোগ বা সময় দুটোই কমে যায়। অথচ বিশেষ কোনও দিন—হোক তা জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, মা দিবস, বাবা দিবস বা অন্য কোনও পারিবারিক উপলক্ষ—তাঁদের একটু বিশেষ অনুভব করানো আমাদের সম্পর্ককে আরও গভীর করে তুলতে পারে। অনেকেই মনে করেন, কাউকে স্পেশাল অনুভব করাতে হলে বড়সড় উপহার বা অনেক টাকা খরচ করতে হয়। বাস্তবে বিষয়টি একেবারেই তা নয়। আন্তরিকতা, সময় এবং ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় উপহার। রইল এমন ১০টি উপায়, যা বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে পারে সহজেই।

প্রথমত, তাঁদের জন্য সময় বের করুন। বর্তমান যুগে সময়ই সবচেয়ে মূল্যবান উপহার। মোবাইল, কাজ বা অন্যান্য ব্যস্ততা দূরে রেখে কিছুটা সময় শুধু তাঁদের সঙ্গে কাটান। একসঙ্গে বসে গল্প করা, পুরনো স্মৃতি মনে করা বা পরিবারের সবাইকে নিয়ে আড্ডা দেওয়াও তাঁদের কাছে অমূল্য হয়ে উঠতে পারে।

দ্বিতীয়ত, একটি হাতে লেখা চিঠি বা শুভেচ্ছা বার্তা দিন। ডিজিটাল যুগে হাতে লেখা কয়েকটি আন্তরিক বাক্য অনেক বেশি আবেগ বহন করে। তাঁদের জীবনে আপনার গুরুত্ব এবং কৃতজ্ঞতার কথা লিখে জানালে তা দীর্ঘদিনের স্মৃতি হয়ে থাকবে।

তৃতীয়ত, তাঁদের পছন্দের খাবার রান্না করে খাওয়াতে পারেন। মা-বাবা সারাজীবন পরিবারের জন্য রান্না করেছেন। বিশেষ দিনে তাঁদের জন্য নিজের হাতে কিছু তৈরি করলে সেটি নিঃসন্দেহে তাঁদের আনন্দ দেবে।

চতুর্থত, পুরনো ছবি ও স্মৃতি নিয়ে একটি ছোট অ্যালবাম বা ভিডিও তৈরি করতে পারেন। পরিবারের বিভিন্ন মুহূর্ত একসঙ্গে সাজিয়ে উপহার দিলে তা তাঁদের আবেগপ্রবণ করে তুলবে এবং অতীতের সুন্দর দিনগুলিকে আবার জীবন্ত করে তুলবে।

পঞ্চমত, একটি ছোট পারিবারিক আয়োজন করতে পারেন। খুব বড় অনুষ্ঠান না হলেও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি ঘরোয়া উদযাপন তাঁদের কাছে বিশেষ হয়ে উঠতে পারে। এতে তাঁরা নিজেদের গুরুত্ব ও ভালোবাসা অনুভব করেন।

ষষ্ঠত, তাঁদের পছন্দের কোনও জায়গায় নিয়ে যেতে পারেন। কাছাকাছি কোনও মন্দির, পার্ক, রেস্তোরাঁ বা প্রিয় ভ্রমণস্থলে কয়েক ঘণ্টা কাটানোও তাঁদের জন্য আনন্দদায়ক হতে পারে। অনেক সময় একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তই সবচেয়ে মূল্যবান উপহার হয়ে ওঠে।

সপ্তমত, তাঁদের দৈনন্দিন কাজের কিছু দায়িত্ব নিজের হাতে নিন। বাড়ির কাজ, বাজার, ওষুধ আনা বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ করে দিলে তাঁরা বিশ্রামের সুযোগ পাবেন এবং আপনার যত্ন অনুভব করবেন।

অষ্টমত, তাঁদের জন্য এমন কিছু উপহার বেছে নিন যা সত্যিই কাজে লাগবে। দামি উপহারের চেয়ে তাঁদের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে কিছু দিলে সেটির মূল্য অনেক বেশি হয়। একটি বই, আরামদায়ক পোশাক, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রী বা শখের কোনও জিনিসও হতে পারে উপযুক্ত উপহার।

নবমত, তাঁদের কথা মন দিয়ে শুনুন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই অনুভব করেন যে তাঁদের কথা শোনার মতো মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তাই তাঁদের অভিজ্ঞতা, গল্প বা মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনা তাঁদের মানসিকভাবে অনেক তৃপ্তি দেয়।

দশমত, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলবেন না। আমরা প্রায়ই ধরে নিই বাবা-মা জানেন যে আমরা তাঁদের ভালোবাসি। কিন্তু মাঝে মাঝে মুখে বলাও জরুরি। একটি সরল ‘ধন্যবাদ’ বা ‘তোমাদের জন্যই আজ আমি এখানে’—এই ধরনের কথাও তাঁদের হৃদয় ছুঁয়ে যেতে পারে।

বিশেষ দিন মানেই শুধু উপহার বা আয়োজন নয়; বরং ভালোবাসা প্রকাশের একটি সুযোগ। বাবা-মা সাধারণত সন্তানের কাছ থেকে বড় কিছু আশা করেন না। তাঁরা চান সম্মান, সময় এবং আন্তরিকতা। তাই জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও যদি তাঁদের জন্য কিছুটা সময় আলাদা করে রাখা যায়, তাহলে সেটাই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে মূল্যবান উপহার। মনে রাখতে হবে, বাবা-মায়ের মুখের হাসি অনেক সময় খুব ছোট ছোট উদ্যোগেই ফুটে ওঠে। আর সেই হাসির মূল্য কোনও উপহার বা অর্থের মাপকাঠিতে মাপা যায় না। তাঁদের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য আজই একটি ছোট পদক্ষেপ নিন—হয়তো সেটিই তাঁদের দিনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

Archive

Most Popular