27th Jul 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

হিটওয়েভে শরীর ঠান্ডা রাখতে কোন দেশি পানীয় সবচেয়ে ভালো?

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি


গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ এবং হিটওয়েভ এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একটি পরিচিত সমস্যা। অতিরিক্ত গরম শুধু অস্বস্তিই বাড়ায় না, শরীরে জলের ঘাটতি, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, হিট এক্সহস্টশন এমনকি হিট স্ট্রোকের মতো গুরুতর সমস্যার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। তাই এই সময় শরীরকে ঠান্ডা রাখা এবং পর্যাপ্ত জল ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই তৃষ্ণা মেটাতে কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত চিনি-যুক্ত ঠান্ডা পানীয়ের দিকে ঝুঁকেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরকে প্রকৃত অর্থে সতেজ ও সুরক্ষিত রাখতে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পানীয়গুলিই অনেক বেশি উপকারী। এগুলিতে যেমন প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ রয়েছে, তেমনই শরীরের হারানো জল ও ইলেকট্রোলাইট ফিরিয়ে আনতেও সাহায্য করে।

গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার অন্যতম জনপ্রিয় দেশি পানীয় হল ডাবের জল। প্রকৃতির তৈরি এই পানীয়ে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান থাকে। প্রচণ্ড ঘামের ফলে শরীর থেকে যে ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যায়, ডাবের জল তা পূরণ করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি হালকা, সহজপাচ্য এবং প্রায় সব বয়সের মানুষের জন্য উপযোগী। বাঙালির ঘরে ঘরে পরিচিত আরেকটি পানীয় হল ঘোল। টক দই, জল এবং সামান্য নুন মিশিয়ে তৈরি এই পানীয় গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে কার্যকর। ঘোলে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া হজমশক্তি ভালো রাখতেও সাহায্য করে। দুপুরের খাবারের পরে এক গ্লাস ঘোল শরীরকে সতেজ রাখতে পারে।

লেবুর শরবতও গরমের অন্যতম সেরা সঙ্গী। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি শরীরকে সতেজ রাখে এবং সামান্য নুন ও চিনি মিশিয়ে তৈরি শরবত শরীরের জলের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। বিশেষ করে বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর এক গ্লাস লেবুর শরবত দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনতে পারে। গ্রামের বাংলায় এখনও জনপ্রিয় বেলের শরবত। বেল শরীরকে শীতল রাখতে সাহায্য করে এবং পেটের নানা সমস্যাতেও উপকারী বলে পরিচিত। গরমকালে নিয়মিত বেলের শরবত খেলে শরীরের অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে। একইভাবে কাঁচা আমের পানা বা আমপোড়া শরবতও হিটওয়েভের সময় অত্যন্ত কার্যকর পানীয় হিসেবে পরিচিত। এতে থাকা খনিজ উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরকে তাপজনিত ক্লান্তি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

সাতু বা ছাতুর শরবতও একটি পুষ্টিকর ও শীতল পানীয়। ছাতুতে প্রোটিন, ফাইবার এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকে, যা দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগায়। গরমে কর্মব্যস্ত মানুষের জন্য এটি একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে।

তরমুজ, শসা বা পুদিনা দিয়ে তৈরি ঘরোয়া পানীয়ও শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। এই ফল ও সবজিগুলিতে জলের পরিমাণ বেশি থাকায় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সুবিধা হয়। পাশাপাশি এগুলি শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ না করেই তৃপ্তি দেয়। তবে কোনও পানীয়ই অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত নয়। বিশেষ করে চিনি বেশি মেশানো শরবত বা বাজারচলতি কৃত্রিম স্বাদের পানীয় শরীরের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করতে পারে। তাই যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি পানীয় বেছে নেওয়াই ভালো।

হিটওয়েভের সময় শুধু পানীয় পান করলেই হবে না, সঙ্গে পর্যাপ্ত জলপান, হালকা পোশাক, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসও জরুরি। কারণ শরীরকে সুস্থ রাখতে সামগ্রিক জীবনযাত্রার দিকেও নজর দিতে হয়।

গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য যদি একটি সেরা দেশি পানীয় বেছে নিতে হয়, তবে ডাবের জল, ঘোল এবং আমপোড়া শরবত নিঃসন্দেহে প্রথম সারিতে থাকবে। তবে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, বয়স এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য দেশীয় পানীয়ও সমান উপকারী হতে পারে। প্রকৃতির সহজ উপহার এবং আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতির এই পানীয়গুলি শুধু তৃষ্ণাই মেটায় না, গরমের কঠিন সময়ে শরীরকে সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই হিটওয়েভের দিনে কৃত্রিম পানীয়ের বদলে ভরসা রাখুন দেশি শরবতের ওপর।

Archive

Most Popular