27th Jul 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

পূর্ণিমায় এই ৫টি কাজ করলে মা লক্ষ্মীর কৃপা থাকবে সংসারে, জানুন নিয়ম।

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি


হিন্দু ধর্মে পূর্ণিমা তিথির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। চাঁদের পূর্ণ প্রকাশের এই দিনকে শুভ শক্তির প্রতীক বলে মনে করা হয়। শাস্ত্র মতে, পূর্ণিমা মানসিক শান্তি, সমৃদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য অত্যন্ত শুভ সময়। অনেক পরিবারে এই দিনে বিশেষ ব্রত, পূজা ও দান-পুণ্যের প্রথা আজও প্রচলিত। বিশ্বাস করা হয়, পূর্ণিমা তিথিতে কিছু শুভ কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলে সংসারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে এবং মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ লাভ করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে, এগুলি ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত আচারভিত্তিক ধারণা। ব্যক্তিগত বিশ্বাস অনুযায়ী এগুলি পালন করা যেতে পারে।

ঘর পরিষ্কার করে প্রদীপ জ্বালান: মা লক্ষ্মী পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলার অধিষ্ঠাত্রী দেবী বলে মনে করা হয়। তাই পূর্ণিমার দিন বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা বিশেষ শুভ বলে ধরা হয়। সন্ধ্যাবেলায় গৃহমন্দির, তুলসী মঞ্চ বা বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বারের কাছে ঘিয়ের বা তিলের তেলের প্রদীপ জ্বালানোর রীতি বহু পরিবারে প্রচলিত। বিশ্বাস করা হয়, এতে ইতিবাচক শক্তির প্রবেশ ঘটে এবং গৃহে মঙ্গল বৃদ্ধি পায়।

মা লক্ষ্মীর পূজা ও মন্ত্র জপ: পূর্ণিমার সন্ধ্যায় মা লক্ষ্মীর ছবি বা মূর্তির সামনে ফুল, ফল ও মিষ্টি নিবেদন করে প্রার্থনা করা যেতে পারে। অনেক ভক্ত এই দিনে লক্ষ্মী মন্ত্র বা লক্ষ্মী স্তোত্র পাঠ করেন। নিয়মিত জপ ও প্রার্থনা মনকে শান্ত করে এবং ভক্তির অনুভূতি বাড়ায় বলে মনে করা হয়।

অন্ন ও বস্ত্র দান করুন: সনাতন ধর্মে দানকে অত্যন্ত পুণ্যকর কাজ বলে বিবেচনা করা হয়। পূর্ণিমা তিথিতে দরিদ্র বা অভাবগ্রস্ত মানুষের মধ্যে খাদ্য, বস্ত্র বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী দান করার প্রথা রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, নিঃস্বার্থ দান মানুষের জীবনে শুভ ফল বয়ে আনে এবং সৌভাগ্য বৃদ্ধি করে।

চাঁদের আলোয় কিছু সময় কাটান: পূর্ণিমার চাঁদকে শান্তি ও মানসিক প্রশান্তির প্রতীক বলা হয়। অনেকেই এই রাতে কিছু সময় চাঁদের আলোয় বসে ধ্যান, জপ বা প্রার্থনা করেন। এর ফলে মন একাগ্র হয় এবং মানসিক অস্থিরতা কমে বলে বিশ্বাস করা হয়। আধ্যাত্মিক অনুশীলনের জন্যও পূর্ণিমা একটি বিশেষ সময় বলে বিবেচিত।

অর্থ ও শস্যের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করুন: অনেক পরিবারে পূর্ণিমার দিনে চাল, ধান, মুদ্রা বা গৃহস্থালির শস্যভাণ্ডারের সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রার্থনা করার রীতি রয়েছে। এর মাধ্যমে জীবনের প্রয়োজনীয় সম্পদ ও অন্নের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কৃতজ্ঞতার মনোভাব সমৃদ্ধির পথ সুগম করে।

পূর্ণিমা শুধুমাত্র একটি তিথি নয়, এটি আত্মবিশ্লেষণ, কৃতজ্ঞতা এবং শুভ চিন্তারও একটি বিশেষ সময়। মা লক্ষ্মীর কৃপা লাভের মূল মন্ত্র হিসেবে শাস্ত্রে সততা, পরিশ্রম, পরিচ্ছন্নতা এবং দানের গুরুত্ব বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। তাই শুধু আচার পালন নয়, জীবনের প্রতিদিনের কাজে এই মূল্যবোধগুলিও অনুসরণ করা সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভক্তিভরে পূর্ণিমার এই শুভ দিন পালন করলে মন যেমন প্রশান্ত হয়, তেমনই পারিবারিক পরিবেশেও ইতিবাচকতার সঞ্চার ঘটে। আর সেই ইতিবাচকতাই সুখী ও সমৃদ্ধ জীবনের অন্যতম ভিত্তি।

Archive

Most Popular