1st Nov 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

দীপাবলির আলোয় সাজুক আপনার স্বপ্নের ঘর!

বাড়িঘর

নিজস্ব প্রতিনিধি


আলোর উৎসবে অন্দরসজ্জায় আসুক নতুনত্ব, ঐতিহ্য আর রুচিশীলতার মেলবন্ধন। আলো মানেই উৎসব, আলো মানেই নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন। অন্ধকারকে সরিয়ে আলোর দিকে এগিয়ে যাওয়ার যে চিরন্তন বার্তা দীপাবলি বহন করে, তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আমাদের ঘর, সংসার, পরিবার এবং অসংখ্য ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্ত। বছরের এই বিশেষ সময়ে তাই শুধু প্রদীপ জ্বালানো কিংবা ঘর পরিষ্কার করাই নয়, নিজের প্রিয় আশ্রয়টিকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার ইচ্ছাও জেগে ওঠে। কোথাও রঙিন আলোর মালা, কোথাও ফুলের গন্ধ, কোথাও আবার মাটির প্রদীপের মায়াবী শিখা। দীপাবলি যেন অন্দরসজ্জারও এক বিশেষ উপলক্ষ। আর এই সাজে যদি মিশে যায় ব্যক্তিগত রুচি, ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার ছোঁয়া, তা হলে আপনার চেনা ঘরটিও হয়ে উঠতে পারে একেবারে নতুন।

দীপাবলির সাজসজ্জার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আলোর সঠিক ব্যবহার। আলো কেবল ঘর উজ্জ্বল করে না, ঘরের আবহ, মেজাজ এবং সৌন্দর্যকেও বদলে দেয়। তাই অন্দরসজ্জার পরিকল্পনা করার সময় প্রথমেই ভাবতে হবে কোন জায়গায় কেমন আলো ব্যবহার করা হবে। বসার ঘরে উষ্ণ হলুদ আলোর ব্যবহার ঘরকে আরামদায়ক ও আমন্ত্রণমূলক করে তুলতে পারে। অন্যদিকে প্রবেশপথে ছোট ছোট ফেয়ারি লাইট কিংবা ঝুলন্ত লণ্ঠন তৈরি করতে পারে উৎসবের আবহ। জানলার ধারে, বারান্দার রেলিংয়ে কিংবা দেওয়ালের কোনও বিশেষ অংশে আলো সাজিয়ে দিলে পুরো বাড়িটিই যেন উৎসবের পোশাকে সেজে ওঠে।

তবে এবারের দীপাবলিতে শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক আলোর উপর নির্ভর না করে মাটির প্রদীপকেও ফিরিয়ে আনুন অন্দরসজ্জার কেন্দ্রে। মাটির প্রদীপের সৌন্দর্য তার সরলতায়। সাধারণ পোড়ামাটির প্রদীপে নিজের পছন্দমতো রং, আয়না, সোনালি রং কিংবা হাতে আঁকা নকশা যোগ করে তৈরি করতে পারেন নিজস্ব সংগ্রহ। একটি বড় পিতলের থালায় বিভিন্ন আকারের প্রদীপ সাজিয়ে তার চারপাশে ছড়িয়ে দিন গাঁদা ও রজনীগন্ধার পাপড়ি। চাইলে থালার মাঝখানে রাখতে পারেন ছোট একটি লক্ষ্মী-গণেশের মূর্তি। এতে পুজোর আবহ এবং অন্দরসজ্জা দুই-ই সুন্দরভাবে ফুটে উঠবে। অবশ্যই প্রদীপ রাখার ক্ষেত্রে আগুন থেকে পর্দা, কাগজ, শুকনো ফুল কিংবা অন্যান্য দাহ্য বস্তু দূরে রাখার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

দীপাবলির সাজে রঙের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহ্যগতভাবে এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে লাল, সোনালি, হলুদ, কমলা এবং গাঢ় সবুজের মতো উজ্জ্বল রং। তবে আধুনিক অন্দরসজ্জায় এই রংগুলির পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে প্যাস্টেল, আইভরি, বেইজ, টেরাকোটা এবং মিউটেড গোল্ড। যাঁদের বাড়ির দেওয়াল হালকা রঙের, তাঁরা রঙিন কুশন কভার, টেবিল রানার, পর্দা কিংবা ছোটখাটো ডেকর অ্যাকসেসরিজের মাধ্যমে উৎসবের রং যোগ করতে পারেন। আবার যাঁদের বাড়িতে গাঢ় রঙের আসবাব রয়েছে, তাঁরা সোনালি, অফ হোয়াইট কিংবা ক্রিম রঙের সাজসজ্জা ব্যবহার করে এক ধরনের রাজকীয় আবহ তৈরি করতে পারেন।

বসার ঘর হল বাড়ির এমন একটি জায়গা যেখানে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি অতিথিদেরও আনাগোনা থাকে। তাই দীপাবলির সাজে এই ঘরটির দিকে একটু বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন। পুরনো সোফার কুশন কভার বদলে ফেলুন। তার সঙ্গে মানানসই একটি সুন্দর থ্রো বা সোফা রানার ব্যবহার করতে পারেন। সেন্টার টেবিলের উপর রাখুন ফুলের ছোট সাজ, সুগন্ধি মোমবাতি কিংবা একটি নান্দনিক ট্রে। ট্রের মধ্যে কয়েকটি ছোট প্রদীপ, সুগন্ধি পটপৌরি এবং ছোট কোনও ডেকর পিস সাজিয়ে রাখলে দেখতে বেশ আকর্ষণীয় লাগবে। তবে সাজসজ্জার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জিনিস ব্যবহার না করাই ভালো। ঘরের সৌন্দর্য অনেক সময় প্রকাশ পায় তার পরিমিতিতেই।

প্রবেশপথের সাজও দীপাবলির অন্দরসজ্জার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাড়িতে ঢোকার মুখেই যদি চোখে পড়ে সুন্দর একটি আলপনা, ফুলের মালা কিংবা প্রদীপের সারি, তা হলে উৎসবের আমেজ যেন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। দরজার দু’পাশে ছোট পিতলের প্রদীপ রাখতে পারেন। দরজার উপর ঝুলিয়ে দিতে পারেন গাঁদা ফুল ও আমপাতার তোরণ। চাইলে ঐতিহ্যবাহী তোরণের পরিবর্তে ব্যবহার করতে পারেন হাতে তৈরি কাপড়ের ঝুল কিংবা কাঠের নকশা করা ডেকর। প্রবেশপথে একটি সুন্দর রঙোলি বা আলপনা সাজের পূর্ণতা এনে দিতে পারে। চালের গুঁড়ি, রং, ফুলের পাপড়ি কিংবা বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি আলপনা শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, উৎসবের সাংস্কৃতিক আবহকেও জীবন্ত করে তোলে।

দীপাবলির সঙ্গে আলপনার সম্পর্ক বহু পুরনো। বাংলার ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপুজো কিংবা দীপাবলির সন্ধ্যায় চালের গুঁড়ি দিয়ে আঁকা আলপনায় ফুটে ওঠে পদ্মফুল, লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ, শঙ্খ, প্রদীপ এবং নানা শুভ চিহ্ন। আধুনিক অন্দরসজ্জাতেও এই ঐতিহ্যকে নতুনভাবে ব্যবহার করা যায়। বাড়ির প্রবেশপথে বড় একটি পদ্মের আলপনা আঁকতে পারেন। তার চারপাশে ছোট ছোট প্রদীপ সাজিয়ে দিলে তৈরি হবে এক অসাধারণ দৃশ্য। যাঁরা নিজেরা আলপনা আঁকতে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁরা আলপনা স্টেনসিল কিংবা পুনর্ব্যবহারযোগ্য রঙোলি ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন। তবে হাতে আঁকা আলপনার নিজস্ব যে আন্তরিকতা, তা অন্য কিছুর সঙ্গে তুলনীয় নয়।

এবার আসা যাক ঘরের আলোচনায়। শোওয়ার ঘরের সাজে খুব বেশি পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। বরং এখানে এমন কিছু উপাদান ব্যবহার করুন যা চোখ ও মনকে স্বস্তি দেয়। বিছানার চাদর বদলে উৎসবের সঙ্গে মানানসই রঙের বেডকভার ব্যবহার করতে পারেন। বেডসাইড টেবিলে ছোট একটি ফুলদানি, মৃদু আলো কিংবা সুগন্ধি ডিফিউজার রাখুন। জানলার পাশে কয়েকটি ছোট ফেয়ারি লাইট সাজিয়ে দিলে ঘরটি হয়ে উঠবে আরও স্বপ্নময়। তবে শোওয়ার ঘরে অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলো ব্যবহার না করাই ভালো। এখানে নরম আলো এবং পরিমিত সাজই বেশি মানানসই।

ডাইনিং স্পেসের সাজেও আসতে পারে উৎসবের ছোঁয়া। কারণ দীপাবলি মানেই আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা, বন্ধুবান্ধবের আড্ডা এবং একসঙ্গে বসে খাওয়াদাওয়া। ডাইনিং টেবিলে সুন্দর একটি টেবিল রানার বিছিয়ে তার উপর সাজিয়ে রাখুন ফুলের ছোট বাটি কিংবা পিতলের ডেকর পিস। খাবার পরিবেশনের জন্য ব্যবহার করতে পারেন কাঁসা, পিতল কিংবা সিরামিকের সুন্দর বাসন। ঐতিহ্যবাহী বাসনের সঙ্গে আধুনিক কাটলারির মেলবন্ধনও বেশ আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে টেবিলের মাঝখানে এমন কিছু রাখবেন না যা খাবার পরিবেশন কিংবা অতিথিদের কথাবার্তায় অসুবিধা তৈরি করে। সাজের পাশাপাশি ব্যবহারিক সুবিধার দিকটিও মাথায় রাখতে হবে।

বাড়ির বারান্দা থাকলে দীপাবলির সাজে তাকে একেবারেই বাদ দেওয়া যায় না। ছোট বারান্দাতেও তৈরি করা সম্ভব একটি সুন্দর উৎসবের কোণ। কয়েকটি টবের গাছ, ছোট লণ্ঠন, মাটির প্রদীপ এবং রঙিন কুশন দিয়ে সাজিয়ে তুলুন জায়গাটি। বারান্দার রেলিংয়ে আলো লাগাতে পারেন, তবে বৈদ্যুতিক তার ও সংযোগ যেন বৃষ্টির জল বা আর্দ্রতার সংস্পর্শে না আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে। ছোট জায়গায় মেঝেতে বড় কিছু রাখার পরিবর্তে দেওয়ালে ঝোলানো প্ল্যান্টার কিংবা ঝুলন্ত লণ্ঠন ব্যবহার করলে জায়গা বাঁচবে। সন্ধ্যায় এক কাপ চা হাতে বসে থাকার জন্য তৈরি হয়ে যাবে আপনার নিজস্ব উৎসবের কোণ।

দীপাবলির অন্দরসজ্জায় ফুলের ব্যবহার কখনও পুরনো হয় না। গাঁদা, রজনীগন্ধা, গোলাপ, পদ্ম কিংবা জুঁই—প্রতিটি ফুলেরই রয়েছে নিজস্ব সৌন্দর্য ও গন্ধ। গাঁদার হলুদ-কমলা রং উৎসবের আবহকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। রজনীগন্ধার স্নিগ্ধ গন্ধ ঘরে এনে দেয় এক ধরনের প্রশান্তি। ছোট কাচের পাত্রে ফুলের পাপড়ি ভাসিয়ে রাখতে পারেন। পিতলের কলসিতে ফুলের সাজও দেখতে অত্যন্ত সুন্দর লাগে। তবে ফুলের সাজ দীর্ঘক্ষণ সতেজ রাখতে নিয়মিত জল বদলানো প্রয়োজন। পরিবেশবান্ধব সাজের জন্য প্লাস্টিকের কৃত্রিম ফুলের পরিবর্তে স্থানীয় ফুল ব্যবহার করাই ভালো।

যাঁরা একটু অন্যরকম সাজ পছন্দ করেন, তাঁরা এবারের দীপাবলিতে বেছে নিতে পারেন মিনিমাল লাক্সারি থিম। এই সাজে খুব বেশি রং বা উপকরণের প্রয়োজন হয় না। আইভরি, বেইজ, গোল্ড এবং উডেন টোনের সমন্বয়ে তৈরি করা যায় পরিশীলিত অন্দরসজ্জা। একটি সুন্দর পিতলের প্রদীপ, হাতে তৈরি সিরামিকের ফুলদানি, কাঠের ট্রে এবং নরম আলো—এই সামান্য কয়েকটি উপাদানই ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের বাড়িতে আধুনিক মিনিমালিস্ট ইন্টিরিয়র রয়েছে, তাঁদের জন্য এই ধরনের সাজ বেশ মানানসই।

অন্যদিকে যাঁরা ঐতিহ্য ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য রয়েছে ট্র্যাডিশনাল ইন্ডিয়ান ডেকরের অসংখ্য সম্ভাবনা। পিতল, কাঁসা, কাঠ, টেরাকোটা এবং হাতে তৈরি কাপড়ের সামগ্রী দিয়ে সাজিয়ে তুলতে পারেন বাড়ি। পুরনো পিতলের প্রদীপ কিংবা ঠাকুরদা-ঠাকুমার আমলের কোনও শৌখিন জিনিস নতুন করে ব্যবহার করুন। পুরনো কাঠের পিঁড়ির উপর ফুল ও প্রদীপ সাজিয়ে তৈরি করা যেতে পারে বিশেষ একটি কর্নার। দেওয়ালে টাঙিয়ে দিতে পারেন ঐতিহ্যবাহী পটচিত্র কিংবা হাতে আঁকা কোনও শিল্পকর্ম। পুরনো জিনিসকে নতুনভাবে ব্যবহার করার মধ্যে যেমন রয়েছে পরিবেশবান্ধব ভাবনা, তেমনই রয়েছে স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার আনন্দ।

এখনকার অন্দরসজ্জায় একটি বিশেষ প্রবণতা হল DIY বা নিজে হাতে সাজসজ্জার সামগ্রী তৈরি করা। বাজার থেকে সব কিছু কিনে আনার পরিবর্তে বাড়ির পুরনো কাচের বোতল, কাচের বয়াম কিংবা অব্যবহৃত পাত্রকে নতুনভাবে সাজিয়ে তুলতে পারেন। পুরনো কাচের বোতলে রং করে তার ভিতরে ফেয়ারি লাইট রাখলে তৈরি হবে সুন্দর ল্যাম্প। অব্যবহৃত কাচের বয়ামে ফুল, রঙিন পাথর কিংবা ছোট প্রদীপ সাজিয়ে তৈরি করা যেতে পারে টেবিল ডেকর। পুরনো শাড়ির পাড় দিয়ে তৈরি হতে পারে টেবিল রানার কিংবা কুশন কভার। এই ধরনের সৃজনশীল সাজে বাড়ির প্রতিটি কোণেই থাকবে নিজস্বতার ছাপ।

তবে দীপাবলির সাজসজ্জা মানেই যে প্রচুর অর্থ খরচ করতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। বরং সামান্য পরিকল্পনা থাকলে সীমিত বাজেটেও বাড়িকে সুন্দর করে সাজানো সম্ভব। প্রথমেই বাড়ির এমন কিছু জিনিস চিহ্নিত করুন যেগুলি সামান্য পরিবর্তনেই নতুন দেখাবে। পুরনো কুশন কভারের পরিবর্তে নতুন কভার, দেওয়ালের একটি কোণে নতুন ছবি, টেবিলের উপর একটি ফুলদানি কিংবা প্রবেশপথে একটি সুন্দর প্রদীপের সাজ—এই ছোট ছোট পরিবর্তনই অনেক সময় বড় প্রভাব তৈরি করে। কেনাকাটার আগে বাড়িতে থাকা জিনিসগুলি একবার ভালো করে দেখে নিন। অনেক সময় আলমারির ভিতরে পড়ে থাকা পুরনো ডেকর সামগ্রীই নতুন সাজের সবচেয়ে সুন্দর উপাদান হয়ে উঠতে পারে।

উৎসবের সাজে পরিবেশের কথাও মাথায় রাখা জরুরি। প্লাস্টিকের ফুল, একবার ব্যবহারযোগ্য সাজসজ্জার উপকরণ এবং অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক আলোর পরিবর্তে পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করুন। মাটির প্রদীপ, কাগজের লণ্ঠন, বাঁশের তৈরি ডেকর, হাতে বোনা কাপড় কিংবা টেরাকোটার সামগ্রী পরিবেশের উপর তুলনামূলকভাবে কম চাপ তৈরি করে। স্থানীয় কারিগরদের কাছ থেকে সামগ্রী কিনলে তাঁদের শিল্প ও জীবিকাকেও উৎসাহ দেওয়া হয়। উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সেই আনন্দের সঙ্গে অন্য মানুষের মুখেও হাসি ফোটে।

দীপাবলির সময় বাড়ির পরিচ্ছন্নতার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। উৎসবের আগে ঘরের অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলুন। আলমারি, রান্নাঘর, জানলা, বারান্দা এবং ঘরের কোণগুলি পরিষ্কার করুন। সাজসজ্জার পাশাপাশি বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা বজায় রাখুন। ধূপ, সুগন্ধি মোমবাতি কিংবা অন্যান্য সুগন্ধি উপাদান ব্যবহার করার সময় ঘরের বায়ু চলাচলের দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। যাঁদের বাড়িতে ছোট শিশু, বয়স্ক মানুষ কিংবা পোষ্য রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে খোলা আগুন ও আতশবাজি ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বৈদ্যুতিক আলোর ক্ষেত্রে মানসম্মত তার ও প্লাগ ব্যবহার করুন এবং অতিরিক্ত সংযোগ এড়িয়ে চলুন।

আরও একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, বাড়ির সাজ যেন পরিবারের প্রত্যেকের জন্য স্বস্তিদায়ক হয়। অনেক সময় শুধুমাত্র ছবি তোলার জন্য ঘরের এমনভাবে সাজানো হয় যে স্বাভাবিক চলাফেরাতেই অসুবিধা তৈরি হয়। মেঝেতে অতিরিক্ত প্রদীপ, বড় ডেকর পিস কিংবা তারের জট যেন দুর্ঘটনার কারণ না হয়। শিশুদের নাগালের বাইরে আগুনের উৎস রাখুন। বয়স্ক সদস্যদের চলাচলের পথ পরিষ্কার রাখুন। সাজসজ্জার সৌন্দর্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা এবং স্বাচ্ছন্দ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সবশেষে বলা যায়, দীপাবলির অন্দরসজ্জা আসলে নিজের বাড়িকে নতুন করে ভালোবাসার একটি উপলক্ষ। এই সাজে থাকতে পারে মাটির প্রদীপের ঐতিহ্য, ফুলের স্নিগ্ধতা, আধুনিক আলোর মায়া, রুচিশীল আসবাব এবং পরিবারের স্মৃতিমাখা ছোট ছোট জিনিস। দামি আসবাব কিংবা ঝলমলে সাজই যে একটি বাড়িকে সুন্দর করে তোলে, তা নয়। বরং যে বাড়িতে ভালোবাসা আছে, আন্তরিকতা আছে, একসঙ্গে থাকার আনন্দ আছে, সেই বাড়িই সবচেয়ে সুন্দর।

এবারের দীপাবলিতে তাই সাজিয়ে তুলুন আপনার স্বপ্নের ঘর। জানলার ধারে জ্বলে উঠুক প্রদীপ, দরজায় ফুটে উঠুক আলপনা, ফুলের গন্ধে ভরে উঠুক বসার ঘর। পুরনো স্মৃতির সঙ্গে মিশে যাক নতুন দিনের স্বপ্ন। কারণ উৎসবের আলো শুধু বাড়ির দেওয়ালেই নয়, ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি মানুষের মনে।

Archive

Most Popular