1st Nov 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

ঋতু বদলের সঙ্গে বদলে যাক আপনার রূপচর্চার রুটিন!

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি


গরমের ঘাম, তেলতেলে ভাব আর বর্ষার আর্দ্রতা পেরিয়ে শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় পা রাখছে প্রকৃতি। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যায় ত্বক ও চুলের চাহিদাও। তাই সারা বছর একই প্রসাধনী বা একই পরিচর্যার নিয়ম মেনে চললে চলবে না। ত্বকের ধরন বুঝে, আবহাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৈরি করুন নিজের নতুন বিউটি রুটিন। প্রকৃতির নিজস্ব ক্যালেন্ডারে ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরেও নানা পরিবর্তন দেখা যায়। গরমের দিনে যে ত্বক ঘেমে তেলতেলে হয়ে ওঠে, শীতের শুরুতে সেই ত্বকেই দেখা দিতে পারে টানটান ভাব, শুষ্কতা কিংবা খসখসে ভাব। কারও ঠোঁট ফাটে, কারও হাত-পায়ের চামড়া রুক্ষ হয়ে যায়, আবার কারও চুল হয়ে ওঠে নিষ্প্রাণ ও জটপাকানো। যাঁদের ত্বক আগে থেকেই সংবেদনশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন আরও বেশি চোখে পড়ে।

আসলে ত্বক ও চুলের পরিচর্যা কোনও নির্দিষ্ট ঋতুর জন্য তৈরি একঘেয়ে নিয়ম নয়। আবহাওয়া, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, সূর্যের আলো এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিচর্যার ধরনও বদলানো প্রয়োজন। তাই শীতের আগমনে শুধু আলমারির পোশাক বদলালেই হবে না, বদল আনতে হবে রূপচর্চার অভ্যাসেও।

প্রথমেই বুঝুন আপনার ত্বকের চাহিদা

রূপচর্চার প্রথম শর্ত হল নিজের ত্বকের ধরন সম্পর্কে সচেতন থাকা। সাধারণত ত্বককে শুষ্ক, তৈলাক্ত, স্বাভাবিক, মিশ্র এবং সংবেদনশীল—এই কয়েকটি ভাগে দেখা হয়। তবে একই ব্যক্তির ত্বকের আচরণও ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে বদলাতে পারে। গরমে তৈলাক্ত ত্বক শীতকালে অনেকটাই শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। আবার স্বাভাবিক ত্বকেও দেখা দিতে পারে টানটান ভাব।

শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এমন ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন যাতে গ্লিসারিন, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, সিরামাইড বা স্কোয়ালেনের মতো উপাদান রয়েছে। এগুলি ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। তৈলাক্ত ত্বক হলেও ময়েশ্চারাইজার বাদ দেওয়া ঠিক নয়। বরং হালকা, নন-কমেডোজেনিক বা ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ করে না এমন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।

মিশ্র ত্বকের ক্ষেত্রে মুখের বিভিন্ন অংশের প্রয়োজন আলাদা হতে পারে। কপাল, নাক ও থুতনি তুলনামূলক তৈলাক্ত হলেও গাল শুষ্ক হয়ে উঠতে পারে। তাই গোটা মুখে একই মাত্রার ভারী প্রসাধনী ব্যবহার না করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচর্যা করুন। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে নতুন কোনও পণ্য ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করা ভালো। ত্বকে জ্বালা, চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিলে সেই পণ্য ব্যবহার বন্ধ করুন।

ক্লেনজিংয়ে চাই কোমলতার ছোঁয়া

গরমকালে ঘাম, ধুলোবালি ও অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করার জন্য অনেকেই শক্তিশালী ফেসওয়াশ ব্যবহার করেন। কিন্তু শীতের শুরুতে অতিরিক্ত ক্লেনজিং ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাকবচ বা স্কিন ব্যারিয়ারকে দুর্বল করে দিতে পারে। ফলে ত্বক আরও শুষ্ক ও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

তাই শীতের জন্য বেছে নিন মৃদু, সাবানবিহীন ক্লেনজার। মুখ পরিষ্কারের সময় খুব গরম জল ব্যবহার করবেন না। হালকা কুসুম গরম বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার জলই যথেষ্ট। মুখ ধোয়ার পর তোয়ালে দিয়ে ঘষে ঘষে না মুছে আলতো করে চেপে জল শুকিয়ে নিন। ত্বক সামান্য স্যাঁতসেঁতে থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগালে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়।

দিনে দুবার মুখ পরিষ্কার করা অধিকাংশ মানুষের জন্য যথেষ্ট। তবে অতিরিক্ত ঘাম বা ধুলোবালির সংস্পর্শে এলে প্রয়োজন অনুযায়ী মুখ ধুয়ে নিতে পারেন। বারবার মুখ ধোয়া কিংবা অকারণে স্ক্রাব করার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন।

ময়েশ্চারাইজারই হোক শীতের সেরা বন্ধু

শীতের রূপচর্চায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলির একটি হল নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার। আবহাওয়ার আর্দ্রতা কমে গেলে ত্বক থেকে জল হারানোর প্রবণতা বাড়তে পারে। ফলে ত্বক রুক্ষ, নিস্তেজ ও টানটান হয়ে ওঠে।

স্নানের পর এবং মুখ ধোয়ার পর ময়েশ্চারাইজার লাগানোর অভ্যাস করুন। শুষ্ক ত্বকের জন্য তুলনামূলক ঘন ক্রিম উপযোগী হতে পারে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হালকা জেল-ক্রিম বা লোশন বেছে নেওয়া যায়। হাত, কনুই, হাঁটু এবং পায়ের গোড়ালির মতো জায়গায় বিশেষ যত্ন প্রয়োজন, কারণ এই অংশগুলি সহজেই শুষ্ক হয়ে যায়।

ময়েশ্চারাইজারের উপাদান সম্পর্কে সচেতন থাকুন। গ্লিসারিন ও হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকে আর্দ্রতা টানতে সাহায্য করে, আর সিরামাইড ত্বকের সুরক্ষাকবচ বজায় রাখতে সহায়ক। খুব শুষ্ক অংশে পেট্রোলাটামযুক্ত পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ব্রণপ্রবণ ত্বকে কোন পণ্য উপযুক্ত, তা বুঝে নেওয়া জরুরি।

সানস্ক্রিনের প্রয়োজন শীতেও

অনেকের ধারণা, শীতকালে রোদ কম থাকায় সানস্ক্রিনের প্রয়োজন নেই। এই ধারণা ভুল। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি মেঘলা দিনেও ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘদিন সুরক্ষা ছাড়া রোদে থাকলে ত্বকে অকাল বার্ধক্যের ছাপ, কালচে দাগ এবং অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তাই ঋতু যাই হোক, দিনের বেলায় বাইরে বেরোনোর আগে অন্তত SPF 30 এবং ব্রড স্পেকট্রাম সুরক্ষাযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। মুখ, গলা, কান এবং হাতের খোলা অংশে লাগাতে ভুলবেন না। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে এবং ঘামলে নির্দিষ্ট সময় অন্তর পুনরায় সানস্ক্রিন লাগান। জানলার পাশে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করলেও সূর্যের আলো থেকে সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রাখা ভালো।

এক্সফোলিয়েশনে সংযম জরুরি

মরা কোষ জমে ত্বক নিষ্প্রাণ দেখাতে পারে। তাই অনেকেই নিয়মিত স্ক্রাব বা এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করেন। কিন্তু শীতের শুরুতে অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন ত্বকের সুরক্ষাকবচ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এতে জ্বালা, লালচে ভাব ও শুষ্কতা বাড়তে পারে।

ত্বকের ধরন অনুযায়ী সপ্তাহে একবার বা প্রয়োজনমতো মৃদু এক্সফোলিয়েশন যথেষ্ট হতে পারে। সংবেদনশীল বা ইতিমধ্যেই শুষ্ক ত্বকে স্ক্রাব ব্যবহার না করাই ভালো। একই সঙ্গে রেটিনল, অ্যাসিড বা অন্যান্য সক্রিয় উপাদানযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করলে ত্বকের সহনশীলতা বুঝে এগোতে হবে। একসঙ্গে অনেক নতুন পণ্য ব্যবহার না করে ধীরে ধীরে রুটিনে পরিবর্তন আনুন।

ঠোঁট ও হাত-পায়ের বিশেষ যত্ন

শীতের শুরুতেই ঠোঁট শুষ্ক হয়ে ফেটে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। ঠোঁটের ত্বক অত্যন্ত পাতলা হওয়ায় এর জন্য আলাদা পরিচর্যা প্রয়োজন। নিয়মিত লিপ বাম ব্যবহার করুন। পেট্রোলাটাম, শিয়া বাটার বা অন্যান্য ময়েশ্চারাইজিং উপাদানযুক্ত লিপ বাম ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। বাইরে বেরোলে SPF যুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করুন।

ঠোঁটের শুকনো চামড়া টেনে তোলা কিংবা বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানোর অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। এতে শুষ্কতা আরও বাড়তে পারে। হাত ধোয়ার পর হ্যান্ড ক্রিম ব্যবহার করুন। বাসন মাজা বা পরিষ্কারের কাজ করার সময় গ্লাভস পরলে হাতের ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্কতা থেকে রক্ষা করা যায়।

পায়ের গোড়ালি ফেটে গেলে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। রাতে পায়ে ঘন ক্রিম লাগিয়ে নরম সুতির মোজা পরে ঘুমোতে পারেন। তবে গভীর ফাটল, রক্তপাত, ব্যথা বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

চুলের পরিচর্যাতেও বদল আনুন

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে চুলেরও নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুষ্ক আবহাওয়ায় চুল রুক্ষ হয়ে যায়, জট পড়ে এবং চুলের ডগা ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। মাথার ত্বকেও শুষ্কতা বা খুশকির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

চুলের ধরন অনুযায়ী মৃদু শ্যাম্পু বেছে নিন। প্রতিদিন শ্যাম্পু করার প্রয়োজন নেই; মাথার ত্বক কতটা তৈলাক্ত হয়, কতটা ঘাম হয় এবং বাইরে কতটা ধুলোবালির সংস্পর্শে থাকতে হয়, তার উপর নির্ভর করে শ্যাম্পুর ব্যবধান ঠিক করুন। শ্যাম্পুর পর চুলের মাঝখান থেকে ডগা পর্যন্ত কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এতে চুলের জট কমে এবং চুল তুলনামূলক মসৃণ থাকে।

চুলে অতিরিক্ত গরম জল ব্যবহার করবেন না। হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেটনার কিংবা কার্লারের ব্যবহার কমিয়ে দিন। প্রয়োজন হলে হিট প্রোটেকট্যান্ট ব্যবহার করুন। ভেজা চুল জোরে আঁচড়াবেন না। চুলের জট ছাড়াতে বড় দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করতে পারেন।

তেল মালিশের পুরনো অভ্যাস, নতুনভাবে

চুলে তেল মালিশ বাঙালি রূপচর্চার পরিচিত অভ্যাস। তবে তেল লাগালেই চুল পড়া বন্ধ হবে বা নতুন চুল গজাবে, এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। চুলের ডগায় অল্প তেল ব্যবহার করলে শুষ্কতা ও ঘর্ষণ কিছুটা কমতে পারে। মাথার ত্বকে তেল লাগালে কারও আরাম লাগতে পারে, আবার খুশকি বা সেবোরিক ডার্মাটাইটিসের সমস্যা থাকলে কিছু তেল সমস্যা বাড়াতেও পারে।তাই নিজের মাথার ত্বকের অবস্থা বুঝে তেল ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত তেল লাগিয়ে দীর্ঘক্ষণ রেখে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। মাথার ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব বা খুশকি বেড়ে গেলে তেল ব্যবহার বন্ধ করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

বডি কেয়ারে অবহেলা নয়

মুখের যত্ন নিতে গিয়ে শরীরের অন্যান্য অংশের পরিচর্যা অনেকেই ভুলে যান। অথচ শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় হাত, পা, কনুই, হাঁটু এবং পিঠের ত্বকও রুক্ষ হয়ে উঠতে পারে। স্নানের পর সারা শরীরে বডি লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করুন। খুব শুষ্ক ত্বকের জন্য ঘন বডি ক্রিম উপযোগী হতে পারে।

দীর্ঘক্ষণ গরম জলে স্নান করলে ত্বকের স্বাভাবিক তেল কমে যেতে পারে। তাই স্নানের সময় খুব গরম জল এড়িয়ে চলুন এবং সময়ও বেশি বাড়াবেন না। মৃদু ক্লেনজার ব্যবহার করুন। সুগন্ধিযুক্ত সাবান বা বডি ওয়াশে ত্বকে জ্বালা হলে সুগন্ধিবিহীন পণ্য বেছে নিন।

শরীরের যত্নে শুধু প্রসাধনী নয়, পোশাকের ভূমিকাও রয়েছে। উলের পোশাক সরাসরি ত্বকে অস্বস্তি তৈরি করলে ভিতরে নরম সুতির পোশাক পরুন। এতে ত্বকের ঘর্ষণ ও চুলকানি কমতে পারে।

খাবার ও জলেও থাকুক সৌন্দর্যের যত্ন

সুস্থ ত্বক ও চুলের জন্য বাইরের পরিচর্যার পাশাপাশি শরীরের ভিতরের পুষ্টিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাবারে মরশুমি ফল, সবজি, ডাল, বাদাম, বীজ, ডিম, মাছ এবং প্রয়োজনীয় প্রোটিন রাখুন। ভিটামিন, মিনারেল ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ত্বক ও চুলের স্বাভাবিক গঠনে ভূমিকা রাখে।

শীতকালে তেষ্টা কম পেলেও শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী জল পান করা জরুরি। শুধু ত্বক ভালো রাখার জন্য অতিরিক্ত জল পান করার প্রয়োজন নেই; বরং নিয়মিত পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের অভ্যাস বজায় রাখুন। চা-কফির উপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে জল, স্যুপ কিংবা অন্যান্য উপযুক্ত পানীয়ও খেতে পারেন।

ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রা ত্বক ও চুলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মানসিক সুস্থতার দিকেও নজর দিন। চুল অতিরিক্ত পড়লে, ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দিলে কিংবা হঠাৎ ত্বকের পরিবর্তন হলে শুধু প্রসাধনীর উপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ঘরোয়া রূপচর্চায় সতর্ক থাকুন

শীত এলেই নানা ঘরোয়া ফেসপ্যাক, স্ক্রাব ও তেল মালিশের পরামর্শ সামনে আসে। কিন্তু প্রাকৃতিক উপাদান মানেই যে তা সকলের ত্বকের জন্য নিরাপদ, এমন নয়। লেবুর রস, বেকিং সোডা, টুথপেস্ট কিংবা অতিরিক্ত ঘষাঘষি ত্বকে জ্বালা ও ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকে পরীক্ষা না করে কোনও উপাদান ব্যবহার করা উচিত নয়।

নতুন কোনও পণ্য বা ঘরোয়া উপাদান ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করুন। জ্বালা, চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন। ব্রণ, একজিমা, রোসেশিয়া কিংবা অন্য কোনও ত্বকের সমস্যা থাকলে নিজের মতো করে নানা উপাদান মিশিয়ে ব্যবহার না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

আপনার বিউটি রুটিন হোক আপনারই মতো

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে রূপচর্চার নিয়ম বদলানো মানে আলমারি ভর্তি নতুন প্রসাধনী কেনা নয়। বরং কোন পণ্যটি আপনার ত্বকের জন্য প্রয়োজন, কোনটি অপ্রয়োজনীয় এবং কোন অভ্যাসটি বদলানো দরকার, তা বুঝে নেওয়াই আসল। গরমের ভারী ক্লেনজার বদলে মৃদু ক্লেনজার, হালকা ময়েশ্চারাইজারের বদলে প্রয়োজনমতো একটু ঘন ক্রিম, ঠোঁট ও হাত-পায়ের বাড়তি যত্ন এবং চুলের জন্য নিয়মিত কন্ডিশনিং—এই সামান্য পরিবর্তনই অনেকটা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

মনে রাখবেন, সুন্দর ত্বক মানেই নিখুঁত ত্বক নয়। ত্বকের স্বাভাবিক গঠন, বয়সের ছাপ কিংবা ছোটখাটো দাগকে আড়াল করাই সৌন্দর্যের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। নিজের ত্বক ও শরীরকে সুস্থ রাখা, তার প্রয়োজন বুঝে যত্ন নেওয়া এবং নিজের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে ভালোবাসাই আধুনিক রূপচর্চার আসল কথা।ঋতু বদলাবে, আবহাওয়া বদলাবে, বদলাবে পোশাকের ধরনও। সেই সঙ্গে আপনার রূপচর্চার রুটিনেও আসুক প্রয়োজনমতো নতুনত্ব। কারণ সৌন্দর্যের যত্ন কোনও একদিনের আয়োজন নয়, বরং প্রতিদিন নিজের জন্য একটু সময় বের করে নেওয়ার সুন্দর অভ্যাস।

Archive

Most Popular