রান্নাঘর
কৌশিকী সরকার
ঠাকুরবাড়ির অন্তর মহলের ছাদ ছিল মেয়েদের দখলে। নিপুন দক্ষতায় নিমিষেই তাঁরা একতাল কলাই ডালের বড়ি দিতেন শীতের সকালে। কাঁচা আমের ফালি শুকিয়ে বানাতেন আমসি, আমচুর। নানারকম আকৃতির সুদৃশ্য কালো পাথরের ছাঁচে জমানো হত আমরস। রোদে মাখা সরষের তেলে মজতো ইঁচড়ের আচার। নতুন বৌ বাড়িতে এলে ছাদের ওপর আসর বসত দিনের শেষে। রুপোর রেকাবিতে সাজানো হত ভেজা রুমালে মোড়া বেলিফুলের মালা, বরফ দেওয়া ফলের রস বা পানা আর ছাচি পান। ফলের খোসা ছাড়িয়ে টুকরো ফরে কেটে রূপোর পাত্রে সাজিয়ে ওপরে ছড়ানো হত গোলাপের পাপড়ি।
প্রথাগত রান্নার বাইরে গিয়ে গতে বাঁধা ধারণাকে উল্টে পাল্টে নিত্যনতুন সব রান্না নিয়ে চর্চা'ই বাকি সব বাঙালি খাবারের থেকে ঠাকুরবাড়ির রান্নার ঘরানাকে আলাদা করে। আর সেই কারণেই এত বছর বাদেও এইসব রান্না নিয়ে ভোজনরসিক মানুষের মধ্যে এতো উন্মাদনা। ২৫ এ বৈশাখ উপলক্ষে রইলো জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি স্পেশ্যাল ডিমের কারী রেসিপি।
ডিমের কারি
কী কী লাগবে
ডিম ৬টা, পেঁয়াজবাটা ২টো, রসুনবাটা আর আদাবাটা ১ টেবিল চামচ করে, লঙ্কাগুঁড়ো ১ চা-চামচ, হলুদগুঁড়ো ১ চা-চামচ, সরষের তেল ২ টেবিল চামচ, ঘি ১ টেবিল চামচ, ভিনিগার ১/২ চা-চামচ
কীভাবে বানাবেন
ডিম সিদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে নিয়ে নুন-হলুদ মাখিয়ে রাখুন। তেল আর ঘি গরম করে ডিমগুলো ভেজে তুলে রাখুন। এবার পেঁয়াজ আদা রসুন দিয়ে খুব ভালোভাবে কষিয়ে নিয়ে তাতে হলুদগুঁড়ো আর লঙ্কাগুঁড়ো মিশিয়ে নিন। মশলা কষানোর সময় চিনি দিলে ভালো রং আসবে। মশলা কষানো হয়ে গেলে ডিম আর অল্প জল দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিন। নামানোর আগে অল্প ভিনেগার মিশিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।