19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

বর্ষায় চুলের সমস্যার ঘরোয়া সমাধান

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি


শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা-মরশুম যাই হোক না কেন, চুলের একটা সমস্যা কমন, চুল পড়া। আর এই সমস্যায় কাবু হননি এমন মানুষ পাওয়াও দুষ্কর। রইল সেই চিরাচরিত চুল পড়ার সমস্যার কিছু অব্যর্থ ঘরোয়া সমাধান।

নারীসৌন্দর্যের অন্যতম প্রধান অঙ্গ একঢাল ঘন, কালো চুল। তবে প্রতিনিয়ত চুলের ওপর যে অত্যাচার হয়, তাতে সে গুড়ে বালি! যেমন এলো চুলে শুতে যাওয়া, রং করা, হিটিং টুলস যথেচ্ছ ব্যবহার করা ইত্যাদি। উপরন্তু চুলে তেল ছোঁয়ানোর বেলায় নৈব নৈব চ। বংশগতি, শারীরিক সমস্যা, স্ট্রেস, খুশকি, অপুষ্টি, অযত্ন ইত্যাদি কারণেও চুল পড়তে পারে। চুলের এই চিরন্তন সমস্যাকে চিরতরে দূর করতে রইল ঘরোয়া সমাধান।
চুল পড়া-সমস্যা না স্বাভাবিক?

দেখুন, চুলের ধর্মই পড়া। তবে তার পরিমাণটা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত দিনে ৫০ থেকে ১০০টা চুল পড়া স্বাভাবিক। তার বেশি সংখ্যক চুল পড়লে অথবা চুলে চিরুনি ছোঁয়ালেই যদি চুল পড়তে থাকে, বা মাথার কোনও একটি নির্দিষ্ট অংশে যদি চুলের ঘনত্ব ক্রমশ কমতে থাকে, তাহলে বুঝবেন সমস্যা রয়েছে। চুলের ডগা ক্রমশ পাতলা হয়ে যাওয়াও চুল পড়ার একটি অন্যতম লক্ষণ। শারীরিক কোনও কারণ বা বংশগত কারণে চুল পড়লে অবশ্যই কোনও ট্রাইকোলজিস্টের পরামর্শ নিন। বাকি সমস্যার জন্য তো আমরা রয়েইছি।

খুশকির সমস্যায়

খুশকিরও নানা কারণ থাকতে পারে। ঘরোয়া সমাধান চাইলে লেবু, টি-ট্রি অয়েলের সাহায্য নিতে পারেন। তবে কোনওটাই সরাসরি চুলে ব্যবহার করবেন না। জলের সাহায্যে পাতলা করে অথবা অন্য কোনও প্যাকে মিশিয়ে চুলে লাগান। উপকার পাওয়া অবধি চালিয়ে যান। মেথি, ভিনিগার, হেনা, টকদই ইত্যাদিও খুশকির প্রতিকারে খুব ভাল কাজ করে।

অপুষ্টির প্রতিকারে

পুষ্টি ছাড়া তো যে কোনও জিনিসই দুর্বল হয়ে পড়বে। চুলের গোড়ায় পুষ্টির অভাব হতে পারে সমস্যার কারণ। ঘরোয়া নানা উপাদান চুল শক্ত করতে অব্যর্থ। তেমনই কিছু উপাদানের হদিশ রইল।

নারকেলের দুধ: হেয়ার ব্রাশের সাহায্যে নারকেলের দুধ স্ক্যাল্পে লাগাতে পারেন। চুলে তোয়ালে জড়িয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু করে নিন। নারকেলের দুধ চুলের গোড়ায় আর্দ্রতা জোগায়। এই দুধে ভিটামিন ই, প্রোটিন, এসেনশিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো নানা উপকারী উপাদান রয়েছে যা চুল পড়া বা ভেঙে যাওয়ার সমস্যায় কাজে আসবে। এতে চুল মজবুত হওয়ার পাশাপাশি চকচকে ও মসৃণও হয়।

আমলকি: চুলের যত্নে আমলকির ব্যবহার সকলেই জানেন। শুকনো আমলকি নারকেল তেলে ফুটতে দিন। তেল যতক্ষণ না কালো হচ্ছে, ততক্ষণ তেল ফুটতে দিন। এই তেল ভালভাবে পুরো চুল তথা স্ক্যান্সে মাসাজ করুন। ২০ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু করে নিন। অথবা আমলকির রস এবং শুকনো আমলকিগুঁড়ো সমপরিমাণে নিয়ে মিশিয়ে চুলে লাগান। এতে সামান্য লেবুর রসও মেশাতে পারেন। পুরো চুলে লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়া অবধি অপেক্ষাকরুন। এরপর শ্যাম্পু করে নিন।

জবাফুল: জবাফুলে রয়েছে ভিটামিন সি, ফসফরাস, রাইবোফ্ল্যাভিন এবং নানাবিধ এসনশিয়াল নিউট্রিয়েন্ট, যা চুল মজবুত এবং মসৃণ করে। নারকেল তেলে জবাফুল দিয়ে ফুটিয়ে, ছেঁকে বোতলে ভরে রেখে দিন। অথবা ক'টা জবাফুল বেটে তাতে তিলতেল বা নারকেল তেল মিশিয়ে নিন। এটি স্ক্যাল্পে এবং চুলে লাগিয়ে রাখুন কয়েক ঘণ্টা। সপ্তাহে দু'বার এই তেল ব্যবহার করুন।

কারিপাতা: চুল পড়া কমাতে এই পাতা দারুণ কার্যকরী। কারিপাতা ব্যবহার করে বানিয়ে নিন হেয়ার টনিক। বেশ কিছু কারিপাতা তেলে ফুটিয়ে নিন। সেই তেল ব্যবহার করুন। মাসাজ করতে ভুলবেন না। সপ্তাহে দু'বার অন্তত এই তেল ব্যবহার করবেন।

পেঁয়াজ: চুল পড়া কমাতে তথা নতুন চুল গজাতে পেঁয়াজ অব্যর্থ। পেঁয়াজের রসে তুলো ভিজিয়ে স্ক্যাল্পে লাগাতে পারেন। চুলের গোড়া থেকে ডগা অবধি পুরো অংশ ভালভাবে লাগান। আধঘন্টা রেখে চুল ধুয়ে নিন। অথবা ২ টেবলচামচ পেঁয়াজের রসে ১ চা-চামচ মধু এবং ১ চা-চামচ গোলাপজল মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ চুলে লাগিয়ে ৪০ মিনিট রেখে দিন। সপ্তাহে একদিন চুলে পেঁয়াজের রস ব্যবহার করতে পারেন।পেঁয়াজের রস চুল দারুণ কার্যকরী।

নিত্যদিনের যত্ন অপুষ্টি এবং খুশকি এই দুই সমস্যা বাদ দিলে বাকি থাকে যত্ন। চলুন, চুলের যত্নের জন্য কী করণীয়,জেনে নেওয়া যাক।

* দিনে ২-৩ বার চুল আঁচড়ান। কাঠের চিরুনি ব্যবহার করতে চেষ্টা করুন। ৩-৪ মাস অন্তর ডগা ট্রিম করুন।

* সপ্তাহে তিনবার শ্যাম্পু, কন্ডিশনার এবং হেয়ার সিরামের ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ।

* চুল লম্বা হলে রাতে বেঁধে শুতে যাওয়াই শ্রেয়। ভালভাবে চুল আঁচড়ে পরিপাটি করে বেঁধে নিন। বিনুনি করতে না চাইলে পনিটেল বেঁধে শুতে যান।

* মাসে একবার সামান্য বেকিং সোডা ব্যবহার করে স্ক্যাল্পে হালকা হাতে ঘষুন। এতে স্ক্যাল্পে জমে থাকা পদার্থ দূর হবে। 

* মাসে একবার অথবা দু'মাসে একবার হেয়ার স্পা করান। এতে চুল পড়া বন্ধ হয়।

Archive

Most Popular