প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিনিধি
গুরু পূর্ণিমা একটি বৈদিক রীতি। গুরু শব্দটি সংস্কৃত গু ও রু- এই দুটি শব্দ দিয়ে গঠিত। গু শব্দের অর্থ হল অন্ধকার ও অজ্ঞতা, অন্যদিকে রু শব্দের অর্থ হল আলো বা আশার আলো। যিনি অন্ধকার থেকে আলোয় দেখান, তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ গুরু।
এবছর গুরুপূর্নিমা কবে?
এই বছর গুরু পূর্ণিমা পালিত হবে আগামী ২১ জুলাই। পূর্ণিমা তিথি পড়বে ২০ জুলাই শনিবার সন্ধ্যা ৫ টা ৫৯ মিনিটে। পূর্ণিমা থাকবে পরের দিন রবিবার বেলা ৩টে ৪৬ মিনিট পর্যন্ত। উদয়া তিথি হিসেবে পূর্ণিমা পালিত হবে ২১ জুলাই ২০২৪ রবিবার।
কেন পালিত হয় গুরু পূর্নিমা?
পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, গুরু পূর্ণিমার দিন ঋষি বেদ ব্যাস জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাই এদিনকে ব্যাস পূর্ণিমা নামেও পরিচিত। মহর্ষি বেদব্যাস মানবজাতিকে প্রথম চারটি বেদের জ্ঞান দেন। তাই তাঁকে প্রথম গুরুর উপাধি দেওয়া হয়। উল্লেখ্য বেদব্যাসই অখণ্ড বেদকে চারভাগে বিভাজিত করেছিলেন। তাই তাঁর নাম হয় বেদব্যাস।
শাস্ত্রমতে, গুরুকে ঈশ্বরের মর্যাদা দেওয়া হয়। পিতা-মাতার পরে, গুরুই একমাত্র ব্যক্তি যিনি শিষ্যকে সঠিক পথ দেখাতে পারেন। ধর্মীয় শাস্ত্রমতে, গুরু পূর্ণিমার দিনে, ভগবান শিব তাঁর প্রথম সাত শিষ্য, সপ্তঋষিদেরকে সর্বপ্রথম যোগ-বিজ্ঞানের শিক্ষা দিয়েছিলেন।
এবছরের গুরু পূর্নিমা কেন বিশেষ?
গুরু পূর্ণিমার দিনে রুচক, ভদ্র, হংস ও শশ নামক চারটি গুরুত্ব যোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এগুলি রাজযোগ হিসেবে চিহ্নিত। বুধ গ্রহ অনুকূল পরিস্থিতিতে থাকায় বুধাদিত্য যোগও থাকছে। আবার দৈত্য গুরু শুক্রাচার্য নিজের মিত্র গ্রহের সঙ্গে অবস্থান করছেন। এই গুরুপূর্ণিমায় গুরু মন্ত্র জপ করলে জীবনে সাফল্য লাভ করতে পারবেন।
গুরু পূর্ণিমার পুজোর নিয়ম:
এই দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘর পরিষ্কার করার পর স্নান করে তারপর পরিষ্কার কাপড় পড়ুন। ব্যাসদেবের মূর্তি স্থাপন করে চন্দন, ফুল, ফল এবং প্রসাদ নিবেদন করুন। গুরু ব্যাসের পাশাপাশি শুক্রদেব এবং শঙ্করাচার্য প্রভৃতি গুরুদের আহ্বান করুন এবং মন্ত্র জপ করুন। কোনও কারণে সত্যনারায়ণ ব্রতকথা পাঠ করতে না-পারলে নিয়ম মেনে বিষ্ণুর পুজো করুন। বিষ্ণুর পুজোয় তুলসি, ধূপ, ঘি এর প্রদীপ, সাদা ফুল ও হলুদ ফল নিবেদন করবেন। এর পর শ্রীহরিকে স্মরণ করে প্রার্থনা করুন। বিভিন্ন ধরনের ভোগ নিবেদন করতে পারেন। তারপর সেই নৈবেদ্য সকলের মধ্যে বিতরণ করে দিন। এই পুজোর সময় সিন্নি নিবেদন করতে পারেন ৷