বাড়িঘর
নিজস্ব প্রতিনিধি
এই উৎসব ভিটে মাটির টান, এই উৎসব ঘরে ফেরার গান। অপূর্ব এই ভাবনা নিয়ে দমদম পার্ক যুবকবৃন্দ পুজো কমিটির এবারের থিমের নাম, ভিটে মাটির টান।
পুজোয় কী শুধু উমা ফেরেন বাপের বাড়ি? সঙ্গে বাড়ি ফেরেন বহু মানুষজন। ঘরের টানে, ভিটে মাটির টানে। এ যেন এক অদৃশ্য শক্তি যা তার মায়াবী জাল বিস্তার করে এবং অদ্ভুত ভালোবাসার এক হাতছানিতে আমাদের বাধ্য করে ফিরে আসতে আমাদের সেই জন্মভূমিতে, সেই ভিটেতে।
কি এই ভিটের টান? যা অনুভব করে বিদেশে কর্মরত সেই ছেলেটি যে এককালে তার ভিটে ছেড়েছিলো, নিজের স্বপ্ন ছোঁয়ার উদ্দ্যেশে। সেই মেয়েটিও যেন সেই একই টানে চঞ্চল হয়ে ওঠে, যখন ক্রোশ মাইল দূরে শরতের আকাশে দেখা দেয় সাদা তুলোর মতো মেঘগুলি। এমনকি হয়তো দেবী দুর্গাও নিজেকে সমর্পন করেন এই টানের কাছে, তাই হয়তো বছরে একবারটি হলেও, কৈলাশ ছেড়ে তিনি ফিরে আসেন এই পৃথিবীতে, তাঁর ভিটে তে।
কি এই শক্তি? কি এই অদ্ভুত আকর্ষণ? যা কিনা সেই বাতানুকূল যন্ত্রের লোহার খাঁচা থেকে মুক্ত করে, উন্নতির উচ্চাকাঙ্খাকে , অত্যাধুনিক সিমেন্ট এর জঙ্গল কে পেছনে ফেলে আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে আসে সেই সাধারণ, পুরাতন, অথচ প্রকৃতি ও মানুষের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই ভালোবাসার অপরূপ মাটি তে?
এই টান কি শুধুই সেই মানুষগুলির যারা আমাদের অতি পরিচিত, পিতামাতার আশীর্বাদ ও ভালোবাসার কোমল ছোঁয়ার? নাকি আমাদের বাল্যকালের স্মৃতির , যা ছড়িয়ে আছে সেই মাটির দেয়ালের ঘরের প্রতিটি কোনায় এবং নিজের ব্যবহারের পুরোনো সেই সব বস্তুতে? নাকি এই টান সেই মাঠ, সেই পুকুর, সেই তেঁতুল গাছটির প্রতি?
অজানা এর উত্তর আজ ও, কিন্তু এইটুকু জানা, যে যখনই গাছের ডালে শিউলির দেখা মেলে, শরতের হাওয়াতে আত্মহারা হয়ে নেচে ওঠে কাশফুলগুলি, ঢাকে কাঠি পড়ে, উৎসবের সূচনা হয়, ঠিক তখন আমরা শুনতে পাই অদৃশ্য এক ডাক। এবং তাকে অবহেলা না করতে পেরে সেই শক্তির কাছেই ম্লান হয়ে আমরা সব্বাই যারা পেটের টানে ছড়িয়ে যাই চারিদিকে, ভিটের টানে -- মাটির টানে, ফিরে আসি বারবার এই ভিটে তে।