19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

শুধুই কি মন্দির নগরী: বিষ্ণুপুর

ভ্রমণ

নিজস্ব প্রতিনিধি


বিষ্ণুপুর মানেই লালমাটির দেশ আর টেরাকোটা মন্দির। নয়নাভিরাম স্থাপত্য আর পোড়ামাটির কাজ। প্রতিটি মন্দিরের গায়ে পোড়ামাটি বা টেরাকোটার কাজ মুগ্ধ করে, বিস্মিত করে। বিষ্ণুপুরের পরতে পরতে লুকিয়ে ইতিহাস। বাঁকুড়া জেলার এ-শহর ছিল মল্লরাজাদের রাজধানী। এঁদের সীমানা ছিল বহুদূর বিস্তৃত। মুঘল এবং ইংরেজদের রমরমার সময় এঁরাই ছিলেন শেষ হিন্দু রাজা। মল্লরাজদের উজ্জ্বলতম অধ্যায়ের সময়কাল ১৫৮৭-১৭১২। ১২৫টি বছর কম কথা নয়। মল্লরাজা দ্বিতীয় রঘুনাথ সিংহের আমলেই রাজধানী বিষ্ণুপুরের কথা জেনেছিলেন সবাই। তাঁর আমলেই বিষ্ণুপুরে স্থাপত্য, সংগীত, শিল্পকলার গরিমায় খ্যাতি পায় বিষ্ণুপুর। বৈষ্ণবী ভাবধারায় তৈরি হতে থাকে একের পর এক মন্দির। সেসব মন্দিরের স্থাপত্য এবং কাজ ছিল চোখজুড়ানো। সেইসব নিদর্শন আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে লালমাটির বিষ্ণুপুরে। শ্রীনিবাস আচার্যের আগমনে বিষ্ণুপুর হয়ে উঠেছিল গুপ্ত বৃন্দাবন।

জোড় বাংলো, শ্যামরাই, মদনমোহন, রাসমঞ্চ ইত্যাদি সেই গৌরবময় বিষ্ণুপুরের কথা জানান দেয়। গড়দরজা, দলমাদল কামান প্রভৃতি মল্লরাজদের বীরত্বের পরিচয় দেয় এখনকার মানুষের কাছে। এসব চাক্ষুষ করেন ভ্রমণবিলাসী মানুষজন। কিন্তু যেগুলো চাক্ষুষ করা যায় না অথচ বিষ্ণুপুরের বাতাসে ভাসে সেসব আকর্ষণও কম নয়। লালবাঁধের সামনে দাঁড়ালে মনে পড়ে লালবাঈয়ের কথা। তিনি ছিলেন অসামান্যা রূপবতী এক নর্তকী। তাঁর নৃত্যের খ্যাতি ছিল আকাশছোঁয়া। তাঁর রূপে-গুণে মজে প্রেমসাগরে ডুব দিয়েছিলেন রাজা রঘুনাথ। সবকিছু ভুলে রাজা ওই নর্তকীর কাছে সঁপে ছিলেন নিজেকে। একদিন রানি চন্দ্রপ্রভার

নির্দেশে ওই বাঁধের জলে ডুবিয়ে মারা হয়েছিল প্রেমিক-প্রেমিকাকে। নিলেন তাঁরা যুগলে নৌকাবিহার করছিলেন চাঁদনি রাতে। পরে রানি চন্দ্রপ্রভা নিজে স্বামীর চিতায় নিজেকে শেষ করেন। আজও গরীর রাতে লালবাঈয়ের আর্তনাদ মিশে যায় বিষ্ণুপুরের আকাশে। বিষ্ণুপুরে মন্দির দেখার ফাঁকে অবশ্যই ঘুরে নেবেন ফৌজদারদের বাড়ি। ওঁরা এখনও বিষ্ণুপুরের ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রেখেছেন। ফৌজদার বারিবার এখনও দশাবতার তাস, দুর্গাপট, হাতে-গড়া মাটির পুতুল তৈরি করেন। শাঁখারি পাড়ায় শঙ্খর কাজ দেখবেন। বালুচরি শাড়ি কীভাবে দেখবেন সময় করে। পাঁচমুড়া গিয়ে দেখবেন পোড়ামাটির কাজ তৈরি। সোনামুখী জায়গাটিও ভারী চমৎকার। ক্ষীণস্রোতা শাদ নদীর রূপটি অপূর্ব। এখানকার জঙ্গলটিও মনোরম।

কীভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে বিষ্ণুপুরের দূরত্ব কমবেশি ২০০ কিমি। ডানকুনি-চাঁপাডাঙা-আরামবাগ হয়ে সোজা বিষ্ণুপুর।

কোথায় থাকবেন: বিষ্ণুপুরে থাকার জায়গা প্রচুর। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন বিভাগের লজ আছে। খুব সুন্দর ব্যবস্থা। খাওয়াদাওয়া খুব ভাল। যদি একটু অন্যরকমভাবে অর্থাৎ শাল পিয়াল গাছগাছালির মাঝে নিরিবিলি অবসরযাপন করতে চান তাহলে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দফতরের অনুমোদিত হোমস্টে কেয়াপাতার নৌকো আদর্শ ঠিকানা। ঘরের ভাড়া দৈনিক ১২০০ টাকা, ডরমেটরি জনপ্রতি ৩০০ টাকা, এছাড়া দু টি টেন্টের ব্যবস্থা আছে ভাড়া দৈনিক ১০০০ টাকা (প্রতি টেন্টে দু জন থেকে তিনজন থাকতে পারেন)। খাওয়াদাওয়া আলাদা। একেবারে বাড়ির খাওয়া। কেয়া পাতার নৌকো মানে বাড়ির বাইরে বাড়ির মতো থাকা। ব্যবস্থা আছে আদিবাসী নৃত্য এবং বনফায়ারের।

কেয়াপাতার নৌকো হোম স্টে লাগোয়া বাসুদেবপুর রানওয়ে। জঙ্গলের ভিতর প্রায় ১৫ কিমি বিস্তৃত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৈরি বিমানবন্দর। দুকিমি দূরত্বে লালবাঁধ, রাসমঞ্চ ও অন্যান্য টেরাকোটা মন্দির। যোগাযোগের ফোন- 07001836987.

Archive

Most Popular