স্বাস্থ্য
নিজস্ব প্রতিনিধি
মরণোত্তর অঙ্গদান এমন একটি মহান কর্ম, যেখানে একজন ব্যক্তি মৃত্যুর পর তার অঙ্গগুলি (যেমন হৃদপিণ্ড, কিডনি, লিভার, চোখ ইত্যাদি) অন্য রোগীদের জীবন বাঁচাতে দান করেন। এটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক এবং মানবতার এক অনন্য নিদর্শন।
মরণোত্তর অঙ্গদানে সাধারণত নিচের অঙ্গ ও টিস্যুগুলি দান করা যায়:
কিডনি (Kidney) – সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় অঙ্গ
লিভার (Liver) – আংশিক বা সম্পূর্ণ দান করা যায়
হৃদপিণ্ড (Heart) – কার্ডিয়াক রোগীদের জন্য জীবনদায়ী
ফুসফুস (Lungs) – শ্বাসজনিত গুরুতর রোগে আক্রান্তদের জন্য
চোখের কর্নিয়া (Cornea) – অন্ধত্ব দূর করতে সহায়ক
অস্থিমজ্জা ও হাড় (Bone marrow & Bones) – রক্তরোগ বা ট্রমা রোগীদের উপকারে আসে
চর্ম/ত্বক (Skin) – আগুনে পোড়া রোগীদের পুনর্বাসনে ব্যবহৃত হয়
অগ্ন্যাশয় (Pancreas) – ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কার্যকর
ব্রেন ডেথ (Brain Death): এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে মস্তিষ্কের সকল কার্যকলাপ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু হৃদপিণ্ড কৃত্রিম সাপোর্টে চলতে থাকে। এই অবস্থায় অঙ্গগুলি কার্যক্ষম থাকায় দানযোগ্য হয়।
কার্ডিয়াক ডেথ (Cardiac Death): হৃদপিণ্ড বন্ধ হয়ে গেলে কিছু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অঙ্গগুলি সংগ্রহ করলে সেগুলি সংরক্ষণযোগ্য হতে পারে, তবে অঙ্গের ধরন ও অবস্থা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উভয় ক্ষেত্রেই পরিবারের লিখিত সম্মতি আবশ্যক এবং আইনসম্মতভাবে ব্রেন ডেথ ঘোষণার জন্য চিকিৎসক দলের অনুমোদন প্রয়োজন।
প্রচলিত আইনে মরণোত্তর অঙ্গ দানের জন্য মৃত ব্যক্তির পরিবারের লিখিত সম্মতি বাধ্যতামূলক।
জীবিত অবস্থায় কেউ অঙ্গদানের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, মৃত্যুর পর তা কার্যকর করতে পরিবারের সম্মতি ছাড়া সম্ভব নয়।
তাই সচেতনতা গড়ে তোলা, পরিবারকে আগেভাগে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারকে বোঝানোর জন্য প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর নিয়োগ করে থাকে।
একজন মরণোত্তর অঙ্গদাতার দান করা অঙ্গ ও টিস্যু দিয়ে ৮ থেকে ৯ জন মানুষকে নতুন জীবন দেওয়া সম্ভব।
চোখের কর্নিয়া দানে দু জন মানুষ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে পারেন
কিডনি, লিভার, হৃদপিণ্ড, ফুসফুস প্রতিস্থাপন বহু মরণাপন্ন রোগীকে বাঁচিয়ে তুলতে পারে
হাড়, চামড়া, অস্থিমজ্জা সহ নানা টিস্যু দানে আরও অনেকের চিকিৎসা সম্ভব হয়
এটি শুধুই চিকিৎসা নয় এ এক অমর মানবিকতার দান।
হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকেন।
অঙ্গ সংকটের কারণে অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসা পান না।
এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব ও মানবিকতা প্রকাশের অন্যতম পথ।