ভ্রমণ
নিজস্ব প্রতিনিধি
তাপমাত্রার পারদ যখন টগবগ করে চড়ে, তখন বাঙালির মনও যেন পাখা মেলে উড়ে যেতে চায় একটু ঠান্ডা, সবুজ, নির্জন কোনও পাহাড়ি গন্তব্যে। সিকিম, দার্জিলিং, নৈনিতাল, মুসৌরি এই সব জায়গায় আর নতুন কী! গ্রীষ্মে এতটাই ভিড় জমে যায় যে প্রকৃতির শান্তি সেখানে হারিয়ে যায় কোলাহলে। তাই এবার ঘুরে আসতে পারেন একটু অন্যরকম এক পাহাড়ি গ্রাম খিরসু।
উত্তরাখণ্ড রাজ্যের গাড়োয়াল জেলার অন্তর্গত, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এক ছোট্ট শান্ত গ্রাম খিরসু। অজস্র দেবদারু ও পাইন বনের মাঝে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকা এই জায়গাটি প্রকৃতি ও নৈঃশব্দ্যপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য। খিরসু এখনও বাণিজ্যিক পর্যটনের দখলে আসেনি। তাই এখানে নেই হোটেলগুলির হম্বি-তম্বি, নেই আওয়াজে ভরা লোকসমাগম। আছে কেবল নীল আকাশ, পরিষ্কার হিমালয়ের দৃশ্য, বনবিথিকা, বুনো ফুলের গন্ধ আর মেঘে ঢাকা আঁকা-বাঁকা পাহাড়ি রাস্তা। বিশেষ করে এখান থেকে হিমালয়ের স্নো-ক্যাপড পঞ্চচুলি, নন্দাদেবী এবং ত্রিশূল শৃঙ্গ দেখা যায় পরিষ্কার দিনে। কাছেই রয়েছে প্রাচীন গোপেশ্বর মহাদেব মন্দির এবং উল্কা দেবী মন্দির।
কলকাতা থেকে খিরসু: কীভাবে যাবেন?
1. ট্রেনে:
প্রথম ধাপ: হাওড়া/শিয়ালদহ থেকে হরিদ্বার বা কোটদ্বার অবধি ট্রেনে যাওয়া (যেমন হাওড়া-দেহরাদুন এক্সপ্রেস বা পূর্বোত্তর এক্সপ্রেস)।
দ্বিতীয় ধাপ: হরিদ্বার থেকে খিরসু যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া নিতে হবে। প্রায় ৫-৬ ঘণ্টার পথ (প্রায় ১৪০ কিমি)। চাইলে মাঝে পোড়ি গড়হওয়াল হয়ে যাওয়া যেতে পারে।
2. বিমানে:
কলকাতা থেকে দেরাদুনের জলি গ্রান্ট এয়ারপোর্ট-এ ফ্লাইট।
সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে খিরসু (প্রায় ১৪৫ কিমি, ৫-৬ ঘণ্টা)।
3. রোডট্রিপ:
যদি আপনার নিজের গাড়ি থাকে বা ক্যাব বুক করেন, তাহলে দেরাদুন/ হরিদ্বার/ কোটদ্বার থেকে সরাসরি খিরসু পর্যন্ত এক অনবদ্য রোডট্রিপ উপভোগ করা যায়। পথের প্রতিটি বাঁকে রয়েছে ছবির মতো দৃশ্য! খিরসুতে রয়েছে GMVN (Garhwal Mandal Vikas Nigam)-এর পর্যটন গেস্ট হাউস, যেটি জায়গার সবচেয়ে ভালো থাকার জায়গা। এছাড়াও স্থানীয় কিছু হোমস্টে বা লজ পাওয়া যায়, যা একান্ত এবং নিরিবিলিতে থাকার সুযোগ দেয়।
কী করবেন খিরসুতে?
সকালে বসে কুয়াশায় ঢাকা পাহাড় দেখুন এক কাপ গরম লেপচা চা হাতে।
স্থানীয় ট্রেকিং রুটে হেঁটে যান পাইন বন আর ফুলের পথে।
খিরসু থেকে ৫ কিমি দূরে অবস্থিত উল্কা দেবীর মন্দির দর্শন করুন।
সন্ধ্যাবেলায় নির্জনতায় হারিয়ে যান, কেবল পাখির ডাক বা বাতাসের শব্দে।
এই গ্রীষ্মে যদি আপনি সত্যিই একটা শান্ত, কম-ভিড়ের জায়গা খুঁজে থাকেন, যেখানে প্রকৃতিকে নিঃশব্দে অনুভব করা যায়, তাহলে উত্তরাখণ্ডের খিরসু আপনার জন্য আদর্শ। ভিড় নয়, শান্তি চাই? খিরসুই হোক এবারের গন্তব্য।