স্বাস্থ্য
নিজস্ব প্রতিনিধি
একটু থেমে যান। এই লেখাটি পড়ার আগে নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন শেষ কবে আপনি ফোন না দেখে, কোনও স্ক্রিন না খুলে, চুপ করে বসেছিলেন? শেষ কবে ভাবতে পেরেছিলেন নিজের জীবন নিয়ে, একটা সম্পর্ক নিয়ে, একটা ভুল বা স্বপ্ন নিয়ে? যতই আমরা বলি সময় পাচ্ছি না, সত্যি কথা হলো আমরা আর সময় খুঁজি না। বরং সময়টাকেই গিলে খাচ্ছে ডিজিটাল ডিস্ট্র্যাকশন। আর তাতেই চিন্তার সময়, নির্জনতা, আত্মসমালোচনা সবকিছুই হারিয়ে যাচ্ছে। চিন্তা মানে শুধু সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়। চিন্তা মানে নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া, দুঃখ কিংবা আনন্দকে জায়গা দেওয়া, ভবিষ্যতের রূপরেখা কল্পনা করা, এই চিন্তা তৈরি করে মানুষকে মানুষ হিসেবে, এবং একজন নারীকেও করে আরও আত্মপ্রত্যয়ী।
কীভাবে হারিয়ে যাচ্ছে চিন্তার সময়?
প্রতিদিন গড়ে আমরা ৪–৫ ঘণ্টা সময় দিই মোবাইল স্ক্রিনে। সেই সময়েই হতে পারত একটা বই পড়া, নিজেকে নিয়ে ভাবা, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করা! অতিমাত্রায় ইনফরমেশন আর ভিন্ন ভিন্ন বিষয় নিয়ে মাথা খরচ হওয়ায় মন ক্লান্ত হয় চিন্তা করার শক্তি কমে যায়। সব কিছুতেই যেন তাড়া, সময় মতো অফিস, ডেলিভারি, ক্লাস, ভিডিও আপলোড...এই তাড়াহুড়ো আমাদের ভাবার সময় দেয় না। অনেক সময় নিজেকে নিয়ে ভাবতে ভয় হয় আমরা বুঝি, অনেক প্রশ্নের উত্তর নেই, তাই সহজ রাস্তায় চলে যাই মন ভরিয়ে নিই স্ক্রিনে। চুপ করে থাকা মানে অলসতা নয়, তা এক আত্মসম্মান.. চুপ করে থাকা, চোখ বন্ধ করে বসে থাকা, ছাদে চেয়ে থাকা এসব যেন আজকাল অপচয়ের নাম। কিন্তু বাস্তবে, চিন্তা ছাড়া কোনও সৃজন হয় না, কোনও বোঝাপড়া সম্পূর্ণ হয় না, কোনও রিলেশনশিপ মজবুত হয় না। চিন্তা মানে, ভিতরে ফিরে যাওয়া।
চিন্তার সময় ফিরে পেতে যা করতে পারেন
✅ দিনে অন্তত ১৫–২০ মিনিট ফোন ছাড়া সময় কাটান
✅ সপ্তাহে একদিন ডিজিটাল ডিটক্স দিন
✅ জার্নাল লিখুন ভাবনার খসড়া
✅ একটা জানালার ধারে বসে এক কাপ চায়ে চুমুক দিন বিনা কারণে
✅ না বলতে শিখুন সবকিছুর দায় নিজের নয়
আজকের দুনিয়ায় ভেবে দেখা এক রকম প্রতিবাদ। যে নারী নিজেকে চিনতে জানেন, নিজেকে নিয়ে ভাবেন, তিনি আরও সচেতন, আরও সম্পূর্ণ। তাই, পরের বার ফোন হাতে নিতে গেলে নিজেকে একটু জিজ্ঞাসা করুন আমি কী ভাবছি, না কি শুধুই ভাসছি? একটু চুপ করে বসুন, একটা ভাবনা আসবে। সেই ভাবনা-ই আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে।