19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

টিনএজারদের মুড সুইং? কীভাবে সামলাবেন ?

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি


টিনএজারদের মুড সুইং আজকের দিনে অনেক পরিবারেরই পরিচিত সমস্যা। শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের এই বয়সে হরমোনের ওঠানামা, পড়াশোনার চাপ, বন্ধু-সম্পর্ক, অনিশ্চয়তা, আত্মপরিচয়ের খোঁজ — সব মিলিয়ে টিনেজ মনের ভিতর চলতে থাকে এক জটিল ঝড়। সেই কারণেই হঠাৎ রাগ, কান্না, দুঃখ, উদ্বেগ বা অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস — সবই দেখা যেতে পারে। কিন্তু এই পরিস্থিতি সামলাতে প্রথম শর্ত হলো ধৈর্য। অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে — এটি তাদের দোষ নয়, বয়সজনিত স্বাভাবিক মানসিক পরিবর্তনেরই একটি অংশ। তাই কোনো প্রতিক্রিয়াই তাড়াহুড়ো করে দেওয়া উচিত নয়।

টিনেজাররা সবসময় কথা বলতে চায়, কিন্তু তারা কথা বলতে চায় নিজের শর্তে, নিজের মতো পরিবেশে। চাপে ফেলে প্রশ্ন করলে তারা বন্ধ হয়ে যায়। তাই যখন তাঁরা শান্ত থাকে বা ভালো মেজাজে থাকে, তখন আলতোভাবে কথা শুরু করুন। জিজ্ঞেস করুন — “তোমার মনের মধ্যে কী চলছে?” বা “তুমি চাইলে আমাকে বলতে পারো”—এই ধরনের নরম বাক্য তাদের মন খুলে দিতে সাহায্য করে। তাদের অনুভূতিকে কখনোই ছোট করবেন না। অনেক সময় বড়দের কাছে যেসব সমস্যা গুরুত্বহীন মনে হয়, টিনেজারদের কাছে তা ভীষণ বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। তাই “এটা কিছু না”, “তুমি বাড়াবাড়ি করছ” — এই মন্তব্যগুলোর বদলে “আমি বুঝতে পারছি তোমার খারাপ লাগছে ” — এই স্বীকৃতি তাদের অনেক শান্ত করে।

অভিভাবকত্বের বড় দায়িত্ব হলো সীমারেখা তৈরি করা — তবে সেটা যেন কঠোর না হয়ে যৌক্তিক হয়। মুড সুইং থাকলেও নিয়ম মানা জরুরি, কারণ অতিরিক্ত স্বাধীনতা বা অসংযম তাদের মানসিক অবস্থাকে আরও অস্থির করতে পারে। প্রতিদিনের সময়সূচি, পড়াশোনা, ঘরোয়া দায়িত্ব, স্ক্রিন টাইম—এসবের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে নমনীয়তা বজায় রেখে। এছাড়া ঘুম ও খাদ্যাভ্যাস টিনেজারদের মানসিক অবস্থার উপর বড় প্রভাব ফেলে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে, খাবারে পুষ্টির ঘাটতি থাকলে বা অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খেলে মুড সুইং আরও বেড়ে যায়। তাই ৮–১০ ঘণ্টা ঘুম, পর্যাপ্ত জলপান, ফল-সবজি-প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য — এসবই মুড স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

টিনেজারদের জন্য নিরাপদ জায়গা তৈরি করাও অভিভাবকের অন্যতম দায়িত্ব। এমন এক পরিবেশ দরকার যেখানে তারা ভুল করতে পারে, আবেগ প্রকাশ করতে পারে, কিন্তু বিচার বা উপহাসের ভয় থাকে না। আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবও তাদের মানসিকতাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তাই তাদের সাথে সময়ে সময়ে কথা বলুন — ইন্টারনেটের চাপ, তুলনা, বডি ইমেজ বা জনপ্রিয় হওয়ার প্রতিযোগিতা নিয়ে। এতে তারা বোঝে — তাদের পাশে সহানুভূতিশীল একজন বড়ো মানুষ আছে। সবশেষে মনে রাখতে হবে — টিনেজাররা কঠিন নয়, তারা কেবলমাত্র পরিবর্তনশীল। সামান্য বুঝে নেওয়া, কিছুটা ধৈর্য আর ক্রমাগত ভালোবাসাই তাদের মুড সুইং সামলানোর সেরা উপায়।

Archive

Most Popular