19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

বাড়ি থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেরোনোর সময় কোন জিনিস দেখা শুভ এবং অশুভ ?

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি



প্রাচীনকাল থেকে মানুষ বিশ্বাস করে যে আমাদের দৈনন্দিন জীবন, বিশেষ করে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময়, বিভিন্ন লক্ষণ আমাদের ভাগ্য ও সফলতার ইঙ্গিত দেয়। শাস্ত্রে বলা হয়েছে যে কিছু দৃশ্য, প্রাণী, জিনিসপত্র বা ঘটনা আমাদের শুভ বা অশুভ বার্তা দিতে পারে। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় এই লক্ষণগুলো চিহ্নিত করা, মনোযোগী থাকা এবং প্রয়োজনে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া আমাদের দিনকে সুখকর ও ঝামেলামুক্ত করতে সাহায্য করে। এই প্রতিবেদনে আমরা বিশদভাবে আলোচনা করব কোন জিনিস বা ঘটনা দেখা শুভ, কোনটি অশুভ এবং কেন।

১. শুভ লক্ষণ

১.১ সূর্যোদয় বা রোদ দেখা : প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুভ লক্ষণ হলো সূর্যোদয় বা রোদ দেখা। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, সূর্যের আলো সরাসরি চোখে পড়লে দিনটি শুভ হবে। এটি শক্তি, জীবনীশক্তি এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতীক। রোদ বা সূর্যোদয় দেখলে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় এবং দিনটি পরিকল্পিত ও সফল হয়।

১.২ ঘরে বা বাইরে সাদা পাখি দেখা : সাদা পাখি, বিশেষ করে কবুতর বা শীতল পাখি, শুভ সূচক। এটি শান্তি, সম্প্রীতি এবং অর্থনৈতিক উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। যখন বাড়ি থেকে বেরোচ্ছেন, সাদা পাখি দেখা মানে আপনার পথে বাধা কম হবে এবং কাজের মধ্যে শুভ ফলাফল আসবে।

১.৩ ফুল বা সুবাসিত গাছ দেখা : শুধু ফুল নয়, বাড়ির আশেপাশের সুবাসিত ফুলের গন্ধ বা রঙিন গাছও শুভ। এটি মানসিক প্রশান্তি দেয়, মনকে ইতিবাচক করে এবং যাত্রা বা কাজে সাফল্যের প্রতীক।

১.৪ সন্তুষ্ট এবং হাস্যময় পরিবেশ : যদি বাইরে বেরোতে গিয়ে রাস্তার পরিবেশে আনন্দ বা হাসি দেখে, সেটি শুভ। এটি সামাজিক সংযোগের উন্নতি, নতুন সুযোগ এবং ইতিবাচক ফলাফল দেয়।

১.৫ নির্দিষ্ট ধন-সঞ্চয় বা লাল রঙ দেখা : শাস্ত্রে লাল রঙ বা ধন-সঞ্চয় সম্পর্কিত আইটেম দেখা শুভ। লাল রঙ শক্তি, সাহস এবং সম্ভাবনার প্রতীক। অফিস বা গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেরোতে গেলে লাল রঙের উপস্থিতি ভাগ্যদায়ক বলে বিবেচিত হয়।

২. অশুভ লক্ষণ

২.১ কালো বিড়াল বা অন্য অজানা প্রাণী দেখা : বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় যদি কালো বিড়াল বা অজানা বিপজ্জনক প্রাণী দেখা যায়, তা অশুভ সূচক। এটি বাধা, অনিশ্চয়তা এবং ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় প্রার্থনা বা শুভ শব্দ বলা উচিত।

২.২ ভাঙা জিনিস বা মাটির চূর্ণাবশেষ দেখা : যদি রাস্তা বা ঘরের বাইরে ভাঙা বাসন, চূর্ণাবশেষ বা টুটা জিনিস দেখা যায়, তা নেতিবাচক শক্তির চিহ্ন। এটি ব্যর্থতা, ক্ষতি বা মানসিক চাপের ইঙ্গিত দেয়।

২.৩ দূর্গন্ধ বা বিষাক্ত গ্যাস : যদি বাড়ি থেকে বেরোতে গিয়ে দুর্গন্ধ বা ধোঁয়া, ধোঁয়া বা বিষাক্ত গ্যাস চোখে পড়ে, তা অশুভ। এটি শারীরিক অসুস্থতা বা অপ্রত্যাশিত সমস্যা নিয়ে আসতে পারে।

২.৪ ঝড় বা অতি বৃষ্টির পূর্বাভাস হঠাৎ ঝড় : ভারী বৃষ্টি বা বাতাসের অশান্তি দেখা অশুভ। এটি কাজের ব্যর্থতা, সময়ের অপচয় বা দুর্ঘটনার ইঙ্গিত দেয়।

৩. মানসিক ও আচরণগত প্রভাব : শুভ বা অশুভ লক্ষণ শুধু দৈনন্দিন বিশ্বাস নয়, এগুলো মানসিক প্রস্তুতি ও মনোভাবেও প্রভাব ফেলে।শুভ লক্ষণ দেখলে: আত্মবিশ্বাস, ইতিবাচক মনোভাব এবং মনোবল বৃদ্ধি পায়।অশুভ লক্ষণ দেখলে: সচেতনতা, সাবধানতা এবং ঝুঁকি কমানোর মনোভাব তৈরি হয়।মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সতর্কতা অবলম্বন এবং ঝুঁকি কমানোর জন্য সাহায্য করে। 

৪. দৈনন্দিন অভ্যাসে অন্তর্ভুক্ত করা টিপস

1. প্রথমে প্রার্থনা বা ধ্যান : বাড়ি থেকে বেরোতে যাওয়ার আগে প্রার্থনা বা শুভ ধ্যান করলে মানসিক প্রস্তুতি বৃদ্ধি পায়।

2. পথ এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণ : রাস্তা, যানবাহন, মানুষ এবং পরিবেশ লক্ষ্য করা।এটি দুর্ঘটনা এবং অপ্রত্যাশিত সমস্যার সম্ভাবনা কমায়।

3. সতর্ক আচরণ : অশুভ লক্ষণ দেখা মানে সাবধানতা অবলম্বন করা।যেমন, যদি কালো বিড়াল দেখা যায়, হঠাৎ পদক্ষেপ বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ এড়ানো।

4. শান্ত মন এবং ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখা : শুভ বা অশুভ লক্ষ্য আমাদের মনকে প্রভাবিত করে।ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখা, প্রয়োজনে প্রার্থনা বা শুভ শব্দ উচ্চারণ করা।

5. শাস্ত্র অনুযায়ী সাজানো জিনিস : বাড়ির প্রবেশপথে লাল ধন বা ছোট প্রতীক রাখা।বাড়ি পরিষ্কার, আলোয় ভর্তি এবং শুভ বায়ুপ্রবাহ বজায় রাখা।

৫. বাস্তব দৃষ্টিকোণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাশাস্ত্রে দেওয়া এই লক্ষণগুলি শুধুই আধ্যাত্মিক নয়, বৈজ্ঞানিকভাবেও এর ব্যাখ্যা আছে।প্রাকৃতিক ধ্বনি ও দৃশ্য: পাখি, সূর্যোদয় বা গাছ আমাদের মনকে শান্তি দেয়।

নেতিবাচক পরিস্থিতি : ঝড়, দুর্গন্ধ বা অজানা প্রাণী আমাদের সতর্ক করে। এটি আমাদের অবচেতন মনকে ঝুঁকি কমাতে প্রস্তুত করে।মানসিক প্রভাব: ইতিবাচক বা নেতিবাচক লক্ষণ আমাদের মনকে প্রস্তুত করে এবং কাজের কার্যকারিতা বৃদ্ধি বা কমায়।অতএব, শাস্ত্রের লক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় শুভ ও অশুভ লক্ষণ আমাদের দৈনন্দিন জীবন, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক এবং মানসিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। সূর্যোদয়, সাদা পাখি, সুন্দর ফুল বা ইতিবাচক পরিবেশ শুভ ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে, কালো বিড়াল, ভাঙা জিনিস, দুর্গন্ধ বা ঝড় অশুভ ইঙ্গিত। শাস্ত্র অনুযায়ী এগুলো পর্যবেক্ষণ, প্রার্থনা এবং সতর্ক আচরণের মাধ্যমে আমরা দিনকে সাফল্যময় করতে পারি। বাস্তব জীবনের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই লক্ষণগুলো মানসিক প্রস্তুতি, সচেতনতা এবং নিরাপদ আচরণের বার্তা দেয়। সঠিক মনোভাব, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সাবধানতা অবলম্বন করে আমরা শুধুমাত্র নিরাপদ ও সুষ্ঠু দিন কাটাতে পারি না, বরং আমাদের জীবনকে আরও নিয়ন্ত্রিত, শান্তিপূর্ণ এবং সুখকর করে তুলতে পারি।

Archive

Most Popular