19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

নব কলেবরে শাড়ি !

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি


শাড়ি শুধু একটি ঐতিহ্যবাহী পোশাক নয়, এটি বাংলার সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা এবং শৈল্পিক রুচির প্রতীক। নবীনদের জন্য বা বিশেষ উপলক্ষের জন্য শাড়ি মানেই সৌন্দর্য, আরাম এবং আত্মবিশ্বাসের এক চমৎকার প্রকাশ। কিন্তু শাড়ি শুধুই নারীদের জন্য নয়; পুরুষরাও বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রেখে ধুতি পরিধান করেন, যা শান্ত, মার্জিত এবং সংস্কৃতিসম্মত উপস্থিতি দেয়। বাংলার উৎসব, পুজো বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে ধুতি-শার্টের সংমিশ্রণে পুরুষরা ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক অনন্য মেলবন্ধন দেখান।

বর্তমান ফ্যাশন সচেতন সময়ে শাড়ি ব্যবহার কেবল পুরনো রূপে সীমাবদ্ধ নেই। অনেকেই পুরনো শাড়ি ব্যবহার করে নতুন ধরনের ড্রেস তৈরি করছেন, যা আরামদায়ক, স্টাইলিশ এবং ব্যক্তিগত রুচির সঙ্গে মানানসই। উদাহরণস্বরূপ, পুরনো কটন বা সিল্কের শাড়ি থেকে বানানো ফ্লোরাল বা মেক্সি ড্রেস, লং স্কার্ট বা ক্রপ টপ—সবই একটি নতুন জীবন পায়। এর ফলে পুরনো শাড়ি শুধু সঞ্চয় হয় না, বরং নতুন রূপে পরিবর্তিত হয়ে ফ্যাশন এবং ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলে।

শাড়ি ড্রেপিং-এর শিল্প এখনও বাংলায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। শুধুমাত্র ঐতিহ্যবাহী নকশার শাড়ি নয়, এখন ফ্যাশন সচেতন তরুণীরা বিভিন্ন ধরণের শাড়ি ড্রেপিং-এর মাধ্যমে একে আধুনিক এবং প্রাণবন্ত সাজে পরিণত করছেন। হালকা সিল্ক, কটন, জর্জেট বা মিশ্র কাপড়—সবই এক নতুন ছন্দে নয়া রূপে পরিধান করা যায়। বিশেষ করে কলেজ, পার্টি বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডার সময় ভিন্ন ভিন্ন শাড়ি ড্রেপিং স্টাইল নেয়ার মাধ্যমে সহজে নিজের স্টাইল ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।

পুরুষদের জন্যও ধুতি আজকের দিনে এক ধরনের স্টাইলিশ পোশাকে পরিণত হয়েছে। শুধু উৎসব বা পুজোর জন্য নয়, আধুনিক ডিজাইন করা ধুতি, হালকা কাপড়ের সঙ্গে শার্ট বা হাফ-কুর্তা—এগুলো দৈনন্দিন ব্যবহারেও সহজ ও আরামদায়ক। ধুতি পরার সময় বিশেষ করে বিভিন্ন রঙ ও প্রিন্টের খেয়াল রাখলে এটি কেবল ঐতিহ্য নয়, বরং ব্যক্তিগত স্টাইল ও সংস্কৃতির প্রকাশ হয়ে ওঠে।

এছাড়াও, শাড়ি ব্যবহার ও ধুতি পরার এই নতুন ধারায় সৃজনশীলতা এবং রিসাইক্লিং একত্রিত হয়েছে। পুরনো শাড়ি দিয়ে নতুন পোশাক বানানো, ফ্যাশনেবল ড্রেসে রূপান্তর, শাড়ি ড্রেপিং-এর অভিনব স্টাইল, এবং পুরুষদের ধুতি—সবই দেখায়, কীভাবে ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে আধুনিক ফ্যাশনের সঙ্গে মানানসই করা যায়। এটি শুধু অর্থ সাশ্রয় করে না, বরং ব্যক্তিত্ব, রুচি এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আরও দৃঢ় করে।

বাংলার ঐতিহ্য এবং আধুনিক ফ্যাশনের এই সংমিশ্রণটি নবীনদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। পুরনো শাড়ি নতুন জীবন পায়, শাড়ি ড্রেপিং নতুন রূপে ফুটে ওঠে, এবং ধুতি-শার্টের মেলবন্ধন পুরুষদের সৌন্দর্য ও মার্জিত উপস্থিতি প্রদর্শন করে। সব মিলিয়ে এটি একটি স্মরণীয় ফ্যাশন যাত্রা, যেখানে অতীতের ঐতিহ্য এবং বর্তমানের সৃজনশীলতার মেলবন্ধন এক অনন্য ছোঁয়া যোগ করে।

Archive

Most Popular